১১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী ছুটির দিনেও অফিসে সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

নওগাঁ শহর: অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনায় জ্যামের শহর

নওগাঁ জেলা উত্তর বাংলার সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী শহর। প্রতিদিন সকাল থেকেই শুরু হয় যানজটের দুর্ভোগ। সকালে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত শহরজুড়ে তীব্র যানবাহনের ভিড় লেগে থাকে, যা শহরবাসীর নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ব্যবস্থাপনার অভাব ও পরিকল্পনার অভাবে এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। শহরের কেন্দ্রবিন্দুযে নিবিড়ভাবে যানজটের উপস্থিতি এখানে নতুন কিছু নয়। দিন দিন বেড়ে চলেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা, যার ফলে রাস্তার বড় যানবাহনও বাধাগ্রস্ত হয়। এর পাশাপাশি সড়কে মালামাল বহনের জন্য বড় উট বা ট্রাকের চলাচলও এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে পথচারীদের চলাফেরা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে এবং জরুরি সেবা প্রদানের গাড়িগুলিও পড়েছে বিভ্রান্তির মাঝে।

নওগাঁ পৌরসভার তথ্যমতে, শহরের মোট আয়তন প্রায় ৩৮.৪২ বর্গকিলোমিটার। ২০১০ সাল থেকে শহরে ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া শুরু হলেও ২০১৬ সাল থেকে এটি বন্ধ রয়েছে। এ শহরে মোট প্রায় পাঁচ হাজার লাইসেন্সধারী ইজিবাইক রয়েছে, আর লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক অন্তত আরও ১০ হাজার। এছাড়াও রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যা রয়েছে আরও প্রায় দশ হাজারের মতো। পাশপাশি সড়ক বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন, যানজট কমাতে চারলেন নির্মাণ, রাস্তা সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সারেজমিনে দেখা যায়, শহরের মূল রোডের কাঁঠালতলী থেকে শুরু করে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, তাজের মোড়, ব্রিজের বাটার মোড়, সরিষাহাটির মোড়, মুক্তির মোড়, কাজীর মোড়, রুবির মোড়, দয়ালের মোড় পার হয়ে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট লেগে থাকে। শহরের ভিতরে রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন দোকান স্থাপন হয়ে রয়েছে, যেখানে বড় দোকানদাররা স্থায়ীভাবে মালামাল রেখে ফুটপাত দখল করে ফেলেছে। ফলে পথচারীরা চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাস্তার পাশে ভ্যান, রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, অটোসহ ছোট যানবাহনের চাপ থাকায় নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হয়। পথচারীরা রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করতে পারেন না ঠিক মতো।

অ্যাপেল মাহমুদ নামে একজন পথচালক বলেন, শহর অনেক ছোট, কিন্তু যানজটের কারণে চলাফেরা খুবই অভাবজনক। দিনে দিনে এই সমস্যা আরও বেড়েই চলেছে, আর কবে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবো তা জানি না।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলছেন, শহরে লেনের রাস্তা হবে বলে শুনেছি, কিন্তু বাস্তবায়ন কবে হবে সেটা জানা নেই। গত ৮-১০ বছর ধরে যানজটের মাত্রা বেড়ে চলেছে, শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পরিকল্পনার অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে। সকালে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরে ভাড়াইন যানবাহন চলাচলের নিয়ম নেই, তারপরও ভারি যানবাহন চলাচল করে যায়। প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও জোরদার করা দরকার বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

শহরের কাপড়ের দোকানদার সুধির চন্দ্র, অখিল চন্দ্র ও রুবেল হোসেন বলেন, এখন শহর সত্যিই জানজটের শহর। প্রতিদিন সকালে যানজটের কারণে আমাদের ব্যবসা ও চলাচলের সমস্যা হয়। মোটরসাইকেল, ভ্যান, ইজিবাইক ও অটোরিকশাগুলো যেখানে-সেখানে দাঁড় করানো হয়, এমনকি দোকানের সামনে তারা গাড়ি রাখে, যা যানজট আরও বাড়িয়ে দেয়। রাস্তার ছোটত্বের কারণে গতির ব্যাঘাত ঘটে এবং গোলচত্বরের অভাব থাকায় সমস্যা আরও বাড়ে।

দুটি চালক, সোহেল রানা ও নাজমুল হোসেন জানান, তারা বলছেন, ইজিবাইকের জন্য কোনো বৈধ স্ট্যান্ড নাই। ফলে তারা অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন মোড়ে যাত্রী উঠানামা করেন। অবৈধ ইজিবাইক চলাচলও বেড়ে চলেছে, যার দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শহরের প্রধান সড়ক দ্রুত চার লেনের করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় সান্তাহার থেকে চৌমাসিয়া চত্বর পর্যন্ত ১৬.৫০ কিলোমিটার রাস্তা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্প হলে যানজট কমে যাবে এবং শহরের নাগরিক জীবনযাত্রা উন্নত হবে।

নওগাঁ শহরের জন্য আলাদা উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে চার লেনের রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহর আরও আধুনিক ও যানজট মুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন

নওগাঁ শহর: অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থাপনায় জ্যামের শহর

প্রকাশিতঃ ১০:৪৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

নওগাঁ জেলা উত্তর বাংলার সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী শহর। প্রতিদিন সকাল থেকেই শুরু হয় যানজটের দুর্ভোগ। সকালে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত শহরজুড়ে তীব্র যানবাহনের ভিড় লেগে থাকে, যা শহরবাসীর নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ব্যবস্থাপনার অভাব ও পরিকল্পনার অভাবে এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। শহরের কেন্দ্রবিন্দুযে নিবিড়ভাবে যানজটের উপস্থিতি এখানে নতুন কিছু নয়। দিন দিন বেড়ে চলেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা, যার ফলে রাস্তার বড় যানবাহনও বাধাগ্রস্ত হয়। এর পাশাপাশি সড়কে মালামাল বহনের জন্য বড় উট বা ট্রাকের চলাচলও এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে পথচারীদের চলাফেরা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে এবং জরুরি সেবা প্রদানের গাড়িগুলিও পড়েছে বিভ্রান্তির মাঝে।

নওগাঁ পৌরসভার তথ্যমতে, শহরের মোট আয়তন প্রায় ৩৮.৪২ বর্গকিলোমিটার। ২০১০ সাল থেকে শহরে ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া শুরু হলেও ২০১৬ সাল থেকে এটি বন্ধ রয়েছে। এ শহরে মোট প্রায় পাঁচ হাজার লাইসেন্সধারী ইজিবাইক রয়েছে, আর লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক অন্তত আরও ১০ হাজার। এছাড়াও রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যা রয়েছে আরও প্রায় দশ হাজারের মতো। পাশপাশি সড়ক বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন, যানজট কমাতে চারলেন নির্মাণ, রাস্তা সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সারেজমিনে দেখা যায়, শহরের মূল রোডের কাঁঠালতলী থেকে শুরু করে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, তাজের মোড়, ব্রিজের বাটার মোড়, সরিষাহাটির মোড়, মুক্তির মোড়, কাজীর মোড়, রুবির মোড়, দয়ালের মোড় পার হয়ে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট লেগে থাকে। শহরের ভিতরে রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন দোকান স্থাপন হয়ে রয়েছে, যেখানে বড় দোকানদাররা স্থায়ীভাবে মালামাল রেখে ফুটপাত দখল করে ফেলেছে। ফলে পথচারীরা চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাস্তার পাশে ভ্যান, রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, অটোসহ ছোট যানবাহনের চাপ থাকায় নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হয়। পথচারীরা রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করতে পারেন না ঠিক মতো।

অ্যাপেল মাহমুদ নামে একজন পথচালক বলেন, শহর অনেক ছোট, কিন্তু যানজটের কারণে চলাফেরা খুবই অভাবজনক। দিনে দিনে এই সমস্যা আরও বেড়েই চলেছে, আর কবে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবো তা জানি না।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলছেন, শহরে লেনের রাস্তা হবে বলে শুনেছি, কিন্তু বাস্তবায়ন কবে হবে সেটা জানা নেই। গত ৮-১০ বছর ধরে যানজটের মাত্রা বেড়ে চলেছে, শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পরিকল্পনার অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে। সকালে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরে ভাড়াইন যানবাহন চলাচলের নিয়ম নেই, তারপরও ভারি যানবাহন চলাচল করে যায়। প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও জোরদার করা দরকার বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

শহরের কাপড়ের দোকানদার সুধির চন্দ্র, অখিল চন্দ্র ও রুবেল হোসেন বলেন, এখন শহর সত্যিই জানজটের শহর। প্রতিদিন সকালে যানজটের কারণে আমাদের ব্যবসা ও চলাচলের সমস্যা হয়। মোটরসাইকেল, ভ্যান, ইজিবাইক ও অটোরিকশাগুলো যেখানে-সেখানে দাঁড় করানো হয়, এমনকি দোকানের সামনে তারা গাড়ি রাখে, যা যানজট আরও বাড়িয়ে দেয়। রাস্তার ছোটত্বের কারণে গতির ব্যাঘাত ঘটে এবং গোলচত্বরের অভাব থাকায় সমস্যা আরও বাড়ে।

দুটি চালক, সোহেল রানা ও নাজমুল হোসেন জানান, তারা বলছেন, ইজিবাইকের জন্য কোনো বৈধ স্ট্যান্ড নাই। ফলে তারা অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন মোড়ে যাত্রী উঠানামা করেন। অবৈধ ইজিবাইক চলাচলও বেড়ে চলেছে, যার দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শহরের প্রধান সড়ক দ্রুত চার লেনের করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় সান্তাহার থেকে চৌমাসিয়া চত্বর পর্যন্ত ১৬.৫০ কিলোমিটার রাস্তা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্প হলে যানজট কমে যাবে এবং শহরের নাগরিক জীবনযাত্রা উন্নত হবে।

নওগাঁ শহরের জন্য আলাদা উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে চার লেনের রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহর আরও আধুনিক ও যানজট মুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।