০৬:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

বাণিজ্যের দর-কষাকষিতে দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি: বাণিজ্য উপদেষ্টা

সফল ট্রেড নেগোসিয়েশনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, বাণিজ্যবিষয়ক দর-কষাকষির ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়ে গেছে, যার কারণে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য কম, কারণ অধিকাংশ পণ্যের কাঁচামালই দেশের ভিতরে উৎপাদিত হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি করে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করা হয়, যা বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিকে জটিল করে তোলে।

এ বাস্তবতায় অন্য দেশের সঙ্গে দর-কষাকষিতে আমাদের কৌশলগত সুবিধা কম থাকায় বাণিজ্য আলোচনা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেয়া জরুরি। রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাণিজ্যবিষয়ক দর-কষাকষিতে জাতীয় সক্ষমতা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট।

শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেন, আমাদের রপ্তানিপণ্য খুবই সীমিত। পণ্যের বহুমুখীকরণের অভাবে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতেই হয়। এই সমস্যাগুলো সমাধানে আমাদের নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড নেগোসিয়েশনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছি যাতে তারা কম শুল্ক আরোপ করে।

তিনি বলেন, ট্রেড নেগোশিয়েটরস পুলের সদস্যরা তাদের অর্জিত জ্ঞান দেশের কাজে লাগাতে পারবে। তদ্ব্যতীত, মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি, এফসিডিও এবং অন্যান্য অংশীদারদের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও দক্ষ করা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতিসংঘের বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, দর-কষাকষিতে আমাদের মূল ঘাটতি নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, অনেক সময় আমাদের কর্মকর্তারা খুব ধীরগতিতে কাজ করেন বা তথ্য না থাকার কারণে ভুল বোঝাবুঝি হয়। এক উদাহরণ হিসেবে তিনি বললেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যমন্ত্রী একবার বলেছিলেন, বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে পাওয়া চিঠির উত্তর না আসায় তারা সময় নষ্ট করে ভারতের সঙ্গে আলোচনাক্রম সম্পন্ন করেছে।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ইউএনডিপির কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজর ওয়াইস প্যারি, র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার।

প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি ট্রেড নেগোশিয়েটরস পুলের সদস্যদের জন্য এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সনদও প্রদান করা হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

বাণিজ্যের দর-কষাকষিতে দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি: বাণিজ্য উপদেষ্টা

প্রকাশিতঃ ১০:৪৯:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সফল ট্রেড নেগোসিয়েশনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, বাণিজ্যবিষয়ক দর-কষাকষির ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়ে গেছে, যার কারণে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য কম, কারণ অধিকাংশ পণ্যের কাঁচামালই দেশের ভিতরে উৎপাদিত হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি করে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করা হয়, যা বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিকে জটিল করে তোলে।

এ বাস্তবতায় অন্য দেশের সঙ্গে দর-কষাকষিতে আমাদের কৌশলগত সুবিধা কম থাকায় বাণিজ্য আলোচনা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেয়া জরুরি। রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাণিজ্যবিষয়ক দর-কষাকষিতে জাতীয় সক্ষমতা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট।

শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেন, আমাদের রপ্তানিপণ্য খুবই সীমিত। পণ্যের বহুমুখীকরণের অভাবে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতেই হয়। এই সমস্যাগুলো সমাধানে আমাদের নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড নেগোসিয়েশনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছি যাতে তারা কম শুল্ক আরোপ করে।

তিনি বলেন, ট্রেড নেগোশিয়েটরস পুলের সদস্যরা তাদের অর্জিত জ্ঞান দেশের কাজে লাগাতে পারবে। তদ্ব্যতীত, মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি, এফসিডিও এবং অন্যান্য অংশীদারদের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও দক্ষ করা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতিসংঘের বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, দর-কষাকষিতে আমাদের মূল ঘাটতি নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, অনেক সময় আমাদের কর্মকর্তারা খুব ধীরগতিতে কাজ করেন বা তথ্য না থাকার কারণে ভুল বোঝাবুঝি হয়। এক উদাহরণ হিসেবে তিনি বললেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যমন্ত্রী একবার বলেছিলেন, বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে পাওয়া চিঠির উত্তর না আসায় তারা সময় নষ্ট করে ভারতের সঙ্গে আলোচনাক্রম সম্পন্ন করেছে।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ইউএনডিপির কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজর ওয়াইস প্যারি, র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার।

প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি ট্রেড নেগোশিয়েটরস পুলের সদস্যদের জন্য এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সনদও প্রদান করা হয়।