০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানে চলতি বছর এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

চলতি বছরের শুরু থেকেই এখন পর্যন্ত ইরান প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে বলে জানিয়েছেন নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর)। এটি গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড। এই মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে নারী, আফগান নাগরিক, পাশাপাশি ব্যাখ্যাবহৃৎবিচারবিরোধী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্য—যেমন বেলুচ, কুর্দি এবং আরবজনগোষ্ঠীর সদস্যরাও রয়েছেন।

বুধবার এক বিবৃতিতে আইএইচআর জানিয়েছে, মাত্র গত সপ্তাহেই ইরানে কমপক্ষে ৬৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে নয়জনের বেশি মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের ব্যাপক নিষ্পাপের ধারণাকে গণহত্যার মতো আখ্যা দিয়ে সংস্থাটির অভিযোগ, ইরানি কর্তৃপক্ষ কারাগারে এক ধরনের ‘গণহত্যার অভিযান’ চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশই মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী, অন্যান্য অপরাধের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের জন্য ৪৩ শতাংশ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ যেমন- দুর্নীতি (এফসাদ-ফিল-আরজ) ও শত্রুতা (মোহারেবেহ) জন্য ৩ শতাংশ, ধর্ষণের জন্য ৩ শতাংশ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে ১ শতাংশেরও কম মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশের মৃত্যুদণ্ড সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইএইচআর-এর পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোঘাদ্দাম মন্তব্য করে বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের কারাগারগুলোতে গণহত্যার মত অভিযান শুরু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ। ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া ও মানবিক অধিকার না থাকায়, একদিকে ব্যাপক এবং নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা মানবতাবিরোধী অপরাধের সমান।”

প্রসঙ্গত, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা দাবি করছে, চীনের পরে ইরানই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ। এই দেশে হত্যা, ধর্ষণ ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো অপরাধের জন্য আগেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সাধারণত ভোরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

ইরানে চলতি বছর এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

প্রকাশিতঃ ০৪:১৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চলতি বছরের শুরু থেকেই এখন পর্যন্ত ইরান প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে বলে জানিয়েছেন নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর)। এটি গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড। এই মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে নারী, আফগান নাগরিক, পাশাপাশি ব্যাখ্যাবহৃৎবিচারবিরোধী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্য—যেমন বেলুচ, কুর্দি এবং আরবজনগোষ্ঠীর সদস্যরাও রয়েছেন।

বুধবার এক বিবৃতিতে আইএইচআর জানিয়েছে, মাত্র গত সপ্তাহেই ইরানে কমপক্ষে ৬৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে নয়জনের বেশি মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের ব্যাপক নিষ্পাপের ধারণাকে গণহত্যার মতো আখ্যা দিয়ে সংস্থাটির অভিযোগ, ইরানি কর্তৃপক্ষ কারাগারে এক ধরনের ‘গণহত্যার অভিযান’ চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশই মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী, অন্যান্য অপরাধের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের জন্য ৪৩ শতাংশ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ যেমন- দুর্নীতি (এফসাদ-ফিল-আরজ) ও শত্রুতা (মোহারেবেহ) জন্য ৩ শতাংশ, ধর্ষণের জন্য ৩ শতাংশ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে ১ শতাংশেরও কম মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশের মৃত্যুদণ্ড সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইএইচআর-এর পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোঘাদ্দাম মন্তব্য করে বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের কারাগারগুলোতে গণহত্যার মত অভিযান শুরু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ। ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া ও মানবিক অধিকার না থাকায়, একদিকে ব্যাপক এবং নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা মানবতাবিরোধী অপরাধের সমান।”

প্রসঙ্গত, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা দাবি করছে, চীনের পরে ইরানই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ। এই দেশে হত্যা, ধর্ষণ ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো অপরাধের জন্য আগেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সাধারণত ভোরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।