০৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইরানে চলতি বছর এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

চলতি বছরের শুরু থেকেই এখন পর্যন্ত ইরান প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে বলে জানিয়েছেন নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর)। এটি গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড। এই মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে নারী, আফগান নাগরিক, পাশাপাশি ব্যাখ্যাবহৃৎবিচারবিরোধী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্য—যেমন বেলুচ, কুর্দি এবং আরবজনগোষ্ঠীর সদস্যরাও রয়েছেন।

বুধবার এক বিবৃতিতে আইএইচআর জানিয়েছে, মাত্র গত সপ্তাহেই ইরানে কমপক্ষে ৬৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে নয়জনের বেশি মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের ব্যাপক নিষ্পাপের ধারণাকে গণহত্যার মতো আখ্যা দিয়ে সংস্থাটির অভিযোগ, ইরানি কর্তৃপক্ষ কারাগারে এক ধরনের ‘গণহত্যার অভিযান’ চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশই মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী, অন্যান্য অপরাধের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের জন্য ৪৩ শতাংশ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ যেমন- দুর্নীতি (এফসাদ-ফিল-আরজ) ও শত্রুতা (মোহারেবেহ) জন্য ৩ শতাংশ, ধর্ষণের জন্য ৩ শতাংশ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে ১ শতাংশেরও কম মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশের মৃত্যুদণ্ড সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইএইচআর-এর পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোঘাদ্দাম মন্তব্য করে বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের কারাগারগুলোতে গণহত্যার মত অভিযান শুরু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ। ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া ও মানবিক অধিকার না থাকায়, একদিকে ব্যাপক এবং নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা মানবতাবিরোধী অপরাধের সমান।”

প্রসঙ্গত, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা দাবি করছে, চীনের পরে ইরানই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ। এই দেশে হত্যা, ধর্ষণ ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো অপরাধের জন্য আগেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সাধারণত ভোরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইরানে চলতি বছর এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

প্রকাশিতঃ ০৪:১৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চলতি বছরের শুরু থেকেই এখন পর্যন্ত ইরান প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে বলে জানিয়েছেন নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর)। এটি গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড। এই মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে নারী, আফগান নাগরিক, পাশাপাশি ব্যাখ্যাবহৃৎবিচারবিরোধী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্য—যেমন বেলুচ, কুর্দি এবং আরবজনগোষ্ঠীর সদস্যরাও রয়েছেন।

বুধবার এক বিবৃতিতে আইএইচআর জানিয়েছে, মাত্র গত সপ্তাহেই ইরানে কমপক্ষে ৬৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অর্থাৎ, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে নয়জনের বেশি মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের ব্যাপক নিষ্পাপের ধারণাকে গণহত্যার মতো আখ্যা দিয়ে সংস্থাটির অভিযোগ, ইরানি কর্তৃপক্ষ কারাগারে এক ধরনের ‘গণহত্যার অভিযান’ চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশই মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী, অন্যান্য অপরাধের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের জন্য ৪৩ শতাংশ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ যেমন- দুর্নীতি (এফসাদ-ফিল-আরজ) ও শত্রুতা (মোহারেবেহ) জন্য ৩ শতাংশ, ধর্ষণের জন্য ৩ শতাংশ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে ১ শতাংশেরও কম মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশের মৃত্যুদণ্ড সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইএইচআর-এর পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোঘাদ্দাম মন্তব্য করে বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের কারাগারগুলোতে গণহত্যার মত অভিযান শুরু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ। ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া ও মানবিক অধিকার না থাকায়, একদিকে ব্যাপক এবং নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা মানবতাবিরোধী অপরাধের সমান।”

প্রসঙ্গত, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা দাবি করছে, চীনের পরে ইরানই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ। এই দেশে হত্যা, ধর্ষণ ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো অপরাধের জন্য আগেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সাধারণত ভোরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।