০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

বিএফএর সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা পেছানোর দাবি

সরকার বর্তমানে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করছে যা সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত। তবে আসন্ন বড় মৌসুমে এই নীতিমালার বাস্তবায়ন হলে ডিলারদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে দেশের সার সংকট আরও কঠোপাথর হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) এই নীতিমালা কার্যকরের পেছানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে।

গত বুধবার ধানমণ্ডির সীমা ব্লোসম টাওয়ারের এক কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন ডিলার অংশগ্রহণ করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএফএর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন আহমেদ।

কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন ইউনিয়ন ভিত্তিক ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব এই মুহূর্তের জন্য উপযুক্ত অপশন নয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন ডিলারকে একটি গুদাম ও একটি বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করতে হয়। তবে নতুন নীতিতে একজন ডিলারকে তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র ও একটি গুদাম পরিচালনা করতে হবে, যা পরিচালনা খরচ তিন গুণে বৃদ্ধি পাবে। তদ্ব্যতীত, কমিশন পূর্বের মতো প্রতি কেজিতে ২ টাকা থাকায় সার সরবরাহের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

ডিলাররা এ পরিস্থিতিতে সার সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে, বিশেষ করে সরকারের দামের সঙ্গে বাজার দর সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় অস্থিরতা বাড়তে পারে। এছাড়া অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পরিবহন খরচ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এই ব্যবসায় স্থায়িত্ব থাকাটাও চ্যালেঞ্জে পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখনই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করলে বাজারে বিশৃঙ্খলা, মৌসুমে উৎপাদন এবং সরবরাহে ব্যাঘাত, এবং কৃষকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

১৯৯৫ সালে ডিলারশীপ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রতিটি উপজেলায় এবং পরে ২০০৯ সালে জারিকৃত নতুন নিয়মানুযায়ী সারাদেশে ১০,৮০০ ডিলার এবং প্রায় ৪৫,০০০ খুচরা বিক্রেতা সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন, যা দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রূপে কাজ করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

বিএফএর সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা পেছানোর দাবি

প্রকাশিতঃ ১০:৪৯:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

সরকার বর্তমানে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করছে যা সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত। তবে আসন্ন বড় মৌসুমে এই নীতিমালার বাস্তবায়ন হলে ডিলারদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে দেশের সার সংকট আরও কঠোপাথর হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) এই নীতিমালা কার্যকরের পেছানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে।

গত বুধবার ধানমণ্ডির সীমা ব্লোসম টাওয়ারের এক কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন ডিলার অংশগ্রহণ করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএফএর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন আহমেদ।

কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন ইউনিয়ন ভিত্তিক ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব এই মুহূর্তের জন্য উপযুক্ত অপশন নয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন ডিলারকে একটি গুদাম ও একটি বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করতে হয়। তবে নতুন নীতিতে একজন ডিলারকে তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র ও একটি গুদাম পরিচালনা করতে হবে, যা পরিচালনা খরচ তিন গুণে বৃদ্ধি পাবে। তদ্ব্যতীত, কমিশন পূর্বের মতো প্রতি কেজিতে ২ টাকা থাকায় সার সরবরাহের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

ডিলাররা এ পরিস্থিতিতে সার সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে, বিশেষ করে সরকারের দামের সঙ্গে বাজার দর সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় অস্থিরতা বাড়তে পারে। এছাড়া অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পরিবহন খরচ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এই ব্যবসায় স্থায়িত্ব থাকাটাও চ্যালেঞ্জে পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখনই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করলে বাজারে বিশৃঙ্খলা, মৌসুমে উৎপাদন এবং সরবরাহে ব্যাঘাত, এবং কৃষকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

১৯৯৫ সালে ডিলারশীপ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রতিটি উপজেলায় এবং পরে ২০০৯ সালে জারিকৃত নতুন নিয়মানুযায়ী সারাদেশে ১০,৮০০ ডিলার এবং প্রায় ৪৫,০০০ খুচরা বিক্রেতা সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন, যা দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রূপে কাজ করছে।