১১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

পেঁয়াজের দাম না কমলে চলতি সপ্তাহে আমদানির সিদ্ধান্ত: বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, যদি চলতি সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না কমে, তবে দেশের বাজারে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে এবং কোনো ধরনের সংকট নেই। যথেষ্ট মজুত রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ সংরক্ষণে সহায়তার জন্য ১০ হাজার হাই ফ্লো মেশিন বিতরণ করেছে, যার ফলে পেঁয়াজের সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও উন্নত হয়েছে।

বিশ্লেষণে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, কিছু দিন আগে পেঁয়াজের দাম ৩৫-৪০ টাকায় নেমে এসেছিল, যা কৃষকদের জন্য উপযুক্ত ছিল না কারণ উৎপাদন ব্যয় তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তবে গত এক থেকে দশ দিন ধরে মূল্যের একটি ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে পারে। যদি চার-পাঁচ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক না হয়, তবে দেশি বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল করতে আমদানির অনুমোদন দেয়া হবে।

এছাড়াও, এ পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির জন্য ২ হাজার ৮০০টি আবেদন জমা পড়েছে। বাজারের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসলে, ভবিষ্যতে আমদানি অনুমোদন দেয়া হবে।

পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি মৌসুমের শেষ, হঠাৎ ভারী বৃষ্টি, সংরক্ষণের জন্য কম সময় থাকা ও ওজন কমে যাওয়াকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কিছু কারণের জন্য দাম বেড়েছে, তবে দেশের পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত রয়েছে এবং নতুন পেঁয়াজ শিগগিরই বাজারে আসবে। এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে, সাময়িক সংকটকে কেন্দ্র করে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, মজুতদারি বা সিন্ডিকেটের কারণে দাম বেড়েছে কি না, এ বিষয়ে তার কাছে কোনও তথ্য নেই। তবে তিনি বলেন, দেশের বাজারে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি একটি সাময়িক আতঙ্ক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই সংকট দূর হবে।

তিনি বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির জন্য মজুত করা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। যত বেশি পেঁয়াজ আমদানির আবেদন অনুমোদন করা হবে, তাতে বাজারে সয়লাব হয়ে গিয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, তাই আমরা আরও সচেতন ও মনোযোগী হচ্ছি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বলেছেন, দেশের কাছে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টনের মতো পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এ মাসের মধ্যে আনুমানিক ৮৫ থেকে ৮৭ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাজারে আসবে, এবং আগামি মাসে আরো আড়াই লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ প্রবাহিত হবে। এর ফলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের কোনো সংকট থাকবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পেঁয়াজের দাম না কমলে চলতি সপ্তাহে আমদানির সিদ্ধান্ত: বাণিজ্য উপদেষ্টা

প্রকাশিতঃ ১১:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, যদি চলতি সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না কমে, তবে দেশের বাজারে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে এবং কোনো ধরনের সংকট নেই। যথেষ্ট মজুত রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ সংরক্ষণে সহায়তার জন্য ১০ হাজার হাই ফ্লো মেশিন বিতরণ করেছে, যার ফলে পেঁয়াজের সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও উন্নত হয়েছে।

বিশ্লেষণে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, কিছু দিন আগে পেঁয়াজের দাম ৩৫-৪০ টাকায় নেমে এসেছিল, যা কৃষকদের জন্য উপযুক্ত ছিল না কারণ উৎপাদন ব্যয় তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তবে গত এক থেকে দশ দিন ধরে মূল্যের একটি ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে পারে। যদি চার-পাঁচ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক না হয়, তবে দেশি বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল করতে আমদানির অনুমোদন দেয়া হবে।

এছাড়াও, এ পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির জন্য ২ হাজার ৮০০টি আবেদন জমা পড়েছে। বাজারের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসলে, ভবিষ্যতে আমদানি অনুমোদন দেয়া হবে।

পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি মৌসুমের শেষ, হঠাৎ ভারী বৃষ্টি, সংরক্ষণের জন্য কম সময় থাকা ও ওজন কমে যাওয়াকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কিছু কারণের জন্য দাম বেড়েছে, তবে দেশের পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত রয়েছে এবং নতুন পেঁয়াজ শিগগিরই বাজারে আসবে। এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে, সাময়িক সংকটকে কেন্দ্র করে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, মজুতদারি বা সিন্ডিকেটের কারণে দাম বেড়েছে কি না, এ বিষয়ে তার কাছে কোনও তথ্য নেই। তবে তিনি বলেন, দেশের বাজারে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি একটি সাময়িক আতঙ্ক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই সংকট দূর হবে।

তিনি বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির জন্য মজুত করা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। যত বেশি পেঁয়াজ আমদানির আবেদন অনুমোদন করা হবে, তাতে বাজারে সয়লাব হয়ে গিয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, তাই আমরা আরও সচেতন ও মনোযোগী হচ্ছি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বলেছেন, দেশের কাছে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টনের মতো পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এ মাসের মধ্যে আনুমানিক ৮৫ থেকে ৮৭ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাজারে আসবে, এবং আগামি মাসে আরো আড়াই লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ প্রবাহিত হবে। এর ফলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের কোনো সংকট থাকবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।