০৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
২ ডিআইজি ও ১ অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ কর্মকর্তার বদলি যুক্তরাজ্য নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী: ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী সরানোর নির্দেশ দিলেন অভিনন্দনবাণী সহ বিলবোর্ড ও ব্যানার দ্রুত অপসারণের অভিনন্দনবাহী বিলবোর্ড দ্রুত সরানোর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ

আদালতের সিদ্ধান্তে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে পুনর্বহাল করে রায় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চৌদ্দ বছর আগে বাতিল হয়ে যাওয়া সেই প্রথাটি আবারো ফিরে এলো। সরকারের নির্বাহী পরিবর্তন ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবি ছিল এই ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের। বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত এই রায় দেন, যা দেশের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ আগে, ১১ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই বিষয়টির শুনানি শেষ করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আমলে বাতিল হওয়া এই নিয়মটি বিভিন্ন বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরেই ফেরানোর জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর আবারও এই বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে।

অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ২৭ আগস্ট এই ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার জন্য করা আবেদনের মঞ্জুরি দেওয়া। এরপর ২১ অক্টোবরে এই বিষয়টি নিয়ে শুনানি শুরু হয়। সংবিধানের আঠারোতম সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা। কিন্তু পরে এই ব্যবস্থার নিয়েও বিভেদের সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে ২০১১ সালে সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে।

বর্তমানে, বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারা বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয়তো আসন্ন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকলেও ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তনে এই প্রক্রিয়া সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক কাঠামোর বিষয় নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক আস্থাহীনতা ও সুষ্ঠু ভোটপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এক গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। এর জন্ম হয়েছিল এক অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থার উপর বিভিন্ন বিতর্ক ও জটিলতা সৃষ্টি হয়।

১৯৯১ সালে এরশাদ পতনের পরে এই ব্যবস্থা অস্থায়ীভাবে চালু হয়। কিন্তু, ১৯৯৪ সালে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে পরিস্থিতি গুরুতর হলে, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের সংশোধনী আনা হয়। এর ফলে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরানো সম্ভব হয় এবং দুই বার এই ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৬ সালে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় এই ব্যবস্থার বিতর্ক আরও বৃদ্ধি পায়। সেনা সমর্থিত সরকারের সময় এই ব্যবস্থা দীর্ঘ দিন থাকায় নানা ধরনের প্রশ্ন উঠে। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করলে, সংবিধানের এই সংশোধনী বাতিল হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর থেকে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেমন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪। তবে এসব নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেশের মধ্যে ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী দলগুলো বারবার অভিযোগ করেছে যে, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবের কারণে নির্বাচনে স্বাধীনতা নষ্ট হচ্ছে এবং ভোটের ফলাফল প্রভাবিত হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

২ ডিআইজি ও ১ অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ কর্মকর্তার বদলি

আদালতের সিদ্ধান্তে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে পুনর্বহাল করে রায় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চৌদ্দ বছর আগে বাতিল হয়ে যাওয়া সেই প্রথাটি আবারো ফিরে এলো। সরকারের নির্বাহী পরিবর্তন ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবি ছিল এই ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের। বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত এই রায় দেন, যা দেশের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ আগে, ১১ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই বিষয়টির শুনানি শেষ করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আমলে বাতিল হওয়া এই নিয়মটি বিভিন্ন বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরেই ফেরানোর জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর আবারও এই বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে।

অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ২৭ আগস্ট এই ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার জন্য করা আবেদনের মঞ্জুরি দেওয়া। এরপর ২১ অক্টোবরে এই বিষয়টি নিয়ে শুনানি শুরু হয়। সংবিধানের আঠারোতম সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা। কিন্তু পরে এই ব্যবস্থার নিয়েও বিভেদের সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে ২০১১ সালে সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে।

বর্তমানে, বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারা বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হয়তো আসন্ন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকলেও ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তনে এই প্রক্রিয়া সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক কাঠামোর বিষয় নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক আস্থাহীনতা ও সুষ্ঠু ভোটপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এক গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। এর জন্ম হয়েছিল এক অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থার উপর বিভিন্ন বিতর্ক ও জটিলতা সৃষ্টি হয়।

১৯৯১ সালে এরশাদ পতনের পরে এই ব্যবস্থা অস্থায়ীভাবে চালু হয়। কিন্তু, ১৯৯৪ সালে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে পরিস্থিতি গুরুতর হলে, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের সংশোধনী আনা হয়। এর ফলে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরানো সম্ভব হয় এবং দুই বার এই ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৬ সালে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় এই ব্যবস্থার বিতর্ক আরও বৃদ্ধি পায়। সেনা সমর্থিত সরকারের সময় এই ব্যবস্থা দীর্ঘ দিন থাকায় নানা ধরনের প্রশ্ন উঠে। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করলে, সংবিধানের এই সংশোধনী বাতিল হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর থেকে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেমন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪। তবে এসব নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেশের মধ্যে ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী দলগুলো বারবার অভিযোগ করেছে যে, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবের কারণে নির্বাচনে স্বাধীনতা নষ্ট হচ্ছে এবং ভোটের ফলাফল প্রভাবিত হচ্ছে।