০৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিরিয়ার ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার

দীর্ঘ দুই যুগে বেশি সময় ধরে সিরিয়ার উপর বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনামলে দেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া। তবে এখন মার্কিন কংগ্রেস এই নিষেধাজ্ঞাগুলো স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বস্তুত, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ ও জাতিগত দ্বন্দ্বের কারণে দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগের পথ সহজ হবে এবং দেশের পুনরুদ্ধার আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাশার আল আসাদ দীর্ঘ ২৪ বছর সিরিয়ার শাসক ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন ও সংঘর্ষের অবসান ঘটানোর জন্য হায়াত তাহরির আল শামস (এইচটিএস) এর জৌরালো প্রচেষ্টার মুখে তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরিবারের সঙ্গে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন। এরপর দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পান আহমেদ আল শারা। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ও জাতীয় পরিস্থিতির কারণে, আল আসাদের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল জ্বালানি তেল বিক্রি ও বিদেশি বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা। ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর, সৌদি আরব ও তুরস্কের পরামর্শে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে কিছু নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত করেন। তবে নতুন সরকারের দাবি ছিল এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে দিতে।

শেষমেশ, বুধবার মার্কিন সিনেটে এই বিষয়ে একটি বিল উত্থাপন হয়, যা ৭৭-২০ ভোটে পাস হয়। বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও প্রেসিডেন্টের সম্মতিও লাভ করে। এর ফলে সিরিয়ার সাধারণ জনগণ দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে বলে বিশ্বাস করা হয়। মার্কিন সিনেটর জিয়ান্নে শাহীন এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, এই পদক্ষেপ সিরিয়ার জাতির জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও ইতিবাচক সূচনা। অন্যদিকে, সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি সিরিয়ার জনগণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক দিক। দেশটির পুনর্গঠনে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করছে বিশ্লেষকরা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিরিয়ার ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ দুই যুগে বেশি সময় ধরে সিরিয়ার উপর বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনামলে দেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া। তবে এখন মার্কিন কংগ্রেস এই নিষেধাজ্ঞাগুলো স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বস্তুত, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ ও জাতিগত দ্বন্দ্বের কারণে দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগের পথ সহজ হবে এবং দেশের পুনরুদ্ধার আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাশার আল আসাদ দীর্ঘ ২৪ বছর সিরিয়ার শাসক ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন ও সংঘর্ষের অবসান ঘটানোর জন্য হায়াত তাহরির আল শামস (এইচটিএস) এর জৌরালো প্রচেষ্টার মুখে তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরিবারের সঙ্গে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন। এরপর দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পান আহমেদ আল শারা। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ও জাতীয় পরিস্থিতির কারণে, আল আসাদের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল জ্বালানি তেল বিক্রি ও বিদেশি বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা। ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর, সৌদি আরব ও তুরস্কের পরামর্শে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে কিছু নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত করেন। তবে নতুন সরকারের দাবি ছিল এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে দিতে।

শেষমেশ, বুধবার মার্কিন সিনেটে এই বিষয়ে একটি বিল উত্থাপন হয়, যা ৭৭-২০ ভোটে পাস হয়। বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও প্রেসিডেন্টের সম্মতিও লাভ করে। এর ফলে সিরিয়ার সাধারণ জনগণ দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে বলে বিশ্বাস করা হয়। মার্কিন সিনেটর জিয়ান্নে শাহীন এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, এই পদক্ষেপ সিরিয়ার জাতির জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও ইতিবাচক সূচনা। অন্যদিকে, সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি সিরিয়ার জনগণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক দিক। দেশটির পুনর্গঠনে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করছে বিশ্লেষকরা।