০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

বিভিন্ন দেশের কাছে তেলের এক-পঞ্চমাংশ ভেনেজুয়েলা: ট্রাম্পের লক্ষ্য কি?

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সফলমরী অভিযানের মাধ্যমে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক পর্যায় সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা এবং দেশের বিশাল জ্বালানি তেল সংগ্রহের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর ওয়াশিংটনের এত গভীর আগ্রহের আসল কারণ কী। বিশ্লেষকদের মনে করা হয়, এই আগ্রহের পেছনে মূল কারণ হলো দুই দেশের জ্বালানি তেলের মানের পার্থক্য এবং ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা। এই কৌশলগত পদক্ষেপটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিষয়ক সংস্থা ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যমতে, দেশের জ্বালানি তেলের বড় অংশ অতি হালকা প্রকৃতির, প্রচলিত ভাষায় যাকে বলা হয় ‘সুইট ক্রুড’। এই ধরনের তেল গ্যাসোলিন বা পেট্রোল তৈরির জন্য উপযোগী হলেও ভারি শিল্পকারখানা ও ভারী যানবাহনের জন্য সামান্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার খনিগুলো থেকে পাওয়া যায় অত্যন্ত ভারী ও ঘন অপরিশোধিত তেল। এই ‘হেভি ক্রুড’ বা ভারী তেল পরিশোধন করে ডিজেল, অ্যাসফল্ট এবং ভারি শিল্প যন্ত্রপাতির জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও শিল্পের জন্য অপরিহার্য। ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিজের হালকা তেলের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার ভারী তেলের নিয়ন্ত্রণ খুবই লাভজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেলের গুণগত মানের স্তর এবং ভৌগোলিক স্থানও এই আগ্রহের বড় কারণ। ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত হওয়ায় এটি ভৌগোলিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করতে যে সময় ও খরচ পড়ে, সেই তুলনায় ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সংগ্রহ অনেক কম খরচে ও দ্রুত সম্ভব। ইআইএ এর হিসেব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল সম্পদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এত বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও রাজনৈতিক নানা সংকটের কারণে দেশটি বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতে সক্ষম, যা বৈশ্বিক সরবরাহের মাত্র 0.8 শতাংশ। এই বিশাল অব্যবহৃত মজুত কাজে লাগিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

বিভিন্ন দেশের কাছে তেলের এক-পঞ্চমাংশ ভেনেজুয়েলা: ট্রাম্পের লক্ষ্য কি?

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সফলমরী অভিযানের মাধ্যমে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক পর্যায় সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা এবং দেশের বিশাল জ্বালানি তেল সংগ্রহের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর ওয়াশিংটনের এত গভীর আগ্রহের আসল কারণ কী। বিশ্লেষকদের মনে করা হয়, এই আগ্রহের পেছনে মূল কারণ হলো দুই দেশের জ্বালানি তেলের মানের পার্থক্য এবং ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা। এই কৌশলগত পদক্ষেপটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিষয়ক সংস্থা ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যমতে, দেশের জ্বালানি তেলের বড় অংশ অতি হালকা প্রকৃতির, প্রচলিত ভাষায় যাকে বলা হয় ‘সুইট ক্রুড’। এই ধরনের তেল গ্যাসোলিন বা পেট্রোল তৈরির জন্য উপযোগী হলেও ভারি শিল্পকারখানা ও ভারী যানবাহনের জন্য সামান্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার খনিগুলো থেকে পাওয়া যায় অত্যন্ত ভারী ও ঘন অপরিশোধিত তেল। এই ‘হেভি ক্রুড’ বা ভারী তেল পরিশোধন করে ডিজেল, অ্যাসফল্ট এবং ভারি শিল্প যন্ত্রপাতির জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও শিল্পের জন্য অপরিহার্য। ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিজের হালকা তেলের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার ভারী তেলের নিয়ন্ত্রণ খুবই লাভজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেলের গুণগত মানের স্তর এবং ভৌগোলিক স্থানও এই আগ্রহের বড় কারণ। ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত হওয়ায় এটি ভৌগোলিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করতে যে সময় ও খরচ পড়ে, সেই তুলনায় ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সংগ্রহ অনেক কম খরচে ও দ্রুত সম্ভব। ইআইএ এর হিসেব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল সম্পদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এত বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও রাজনৈতিক নানা সংকটের কারণে দেশটি বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করতে সক্ষম, যা বৈশ্বিক সরবরাহের মাত্র 0.8 শতাংশ। এই বিশাল অব্যবহৃত মজুত কাজে লাগিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।