০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

দশ প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ১২ হাজার কোটি টাকা

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) গুরুত্বপূর্ণ দশটি প্রকল্পের বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব রাখে, তবে বাস্তবায়নের অগ্রগতির অভাবে বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে তাদের বরাদ্দ হ্রাস করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোট ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কোনো বরাদ্দ কমছে না, সেটি দেশের অন্যতম বড় প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। আবার রাজধানীর ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার উন্নয়নের জন্য ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। তবে বাকি আটটি প্রকল্পের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হচ্ছে। এসব প্রকল্পের বরাদ্দ কমানোর পেছনে মূল কারণ হলো বাস্তবায়নের হার প্রত্যাশিত পর্যায়ে না থাকা এবং সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের পরিস্থিতি খারাপ হওয়া।

উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মেট্রোরেল (এমআরটি-৬), এমআরটি-১, এমআরটি-৫ উত্তরাংশ; সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ; ঢাকা-সিলেট চার লেন সড়ক; মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন; হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্প।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদিত হয়। এই সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বড় প্রকল্পগুলো শুরুতেই বরাদ্দ পেলে হয়তো পুরো অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব নয়। বাস্তবায়নের অপ্রতুলতা ও সমন্বয়ের অভাবে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতিও খারাপ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপিতে তা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ কোটি টাকা করা হচ্ছে। এর মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের মতোই থাকছে। তবে প্রকল্প সহায়তা বা ফান্ড থেকে কমিয়ে আনা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর সংশোধিত এডিপির আকার সবচেয়ে বেশি কমানো হয়েছিল। তখন ৪৯ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট হয়। এই বছরও প্রকল্পের অদক্ষ বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে বরাদ্দ কমানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় প্রকল্পে বরাদ্দ অপরিবর্তিত থাকছে। এটির বরাদ্দ আগের মতই ১০ হাজার ১১ কোটি টাকা থাকবে।

অতিরিক্ত, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে এর বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এর সংশোধিত বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে, চলতি অর্থবছর সরকারের সংশোধিত এডিপির আকার প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা ধরা হচ্ছে, যা আগের পরিকল্পনা থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। এই কমতির মাধ্যমে বাস্তবায়ন সময় ও পারদর্শিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার লক্ষ্য রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

দশ প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ১২ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) গুরুত্বপূর্ণ দশটি প্রকল্পের বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব রাখে, তবে বাস্তবায়নের অগ্রগতির অভাবে বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে তাদের বরাদ্দ হ্রাস করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোট ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কোনো বরাদ্দ কমছে না, সেটি দেশের অন্যতম বড় প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। আবার রাজধানীর ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার উন্নয়নের জন্য ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। তবে বাকি আটটি প্রকল্পের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হচ্ছে। এসব প্রকল্পের বরাদ্দ কমানোর পেছনে মূল কারণ হলো বাস্তবায়নের হার প্রত্যাশিত পর্যায়ে না থাকা এবং সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের পরিস্থিতি খারাপ হওয়া।

উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মেট্রোরেল (এমআরটি-৬), এমআরটি-১, এমআরটি-৫ উত্তরাংশ; সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ; ঢাকা-সিলেট চার লেন সড়ক; মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন; হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্প।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদিত হয়। এই সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বড় প্রকল্পগুলো শুরুতেই বরাদ্দ পেলে হয়তো পুরো অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব নয়। বাস্তবায়নের অপ্রতুলতা ও সমন্বয়ের অভাবে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতিও খারাপ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপিতে তা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ কোটি টাকা করা হচ্ছে। এর মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের মতোই থাকছে। তবে প্রকল্প সহায়তা বা ফান্ড থেকে কমিয়ে আনা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর সংশোধিত এডিপির আকার সবচেয়ে বেশি কমানো হয়েছিল। তখন ৪৯ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট হয়। এই বছরও প্রকল্পের অদক্ষ বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে বরাদ্দ কমানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় প্রকল্পে বরাদ্দ অপরিবর্তিত থাকছে। এটির বরাদ্দ আগের মতই ১০ হাজার ১১ কোটি টাকা থাকবে।

অতিরিক্ত, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে এর বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এর সংশোধিত বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে, চলতি অর্থবছর সরকারের সংশোধিত এডিপির আকার প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা ধরা হচ্ছে, যা আগের পরিকল্পনা থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। এই কমতির মাধ্যমে বাস্তবায়ন সময় ও পারদর্শিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার লক্ষ্য রয়েছে।