১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

খালেদা জিয়া প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনোই প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নেত্রীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে শ্রদ্ধা ও দোয়া জানানো হয়।

আলাল উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া একজন সাধারণ নেতা ছিলেন না, বরং তার ব্যক্তিত্বে নেতৃত্বের শক্তি ও মাতৃত্বের স্পর্শ এক অনন্য সমন্বয় ছিল। তার রাজনৈতিক জীবনে দৃঢ়তা যেমন ছিল স্পষ্ট, তেমনি ছিল তার আচরণের মধ্যে মাতৃসুলভ শাসন ও স্নেহের ভারসাম্য। এই দুই গুণের সংমিশ্রণে তিনি একজন ব্যতিক্রমী ও কালজয়ী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, চরম অসুস্থতা আর কঠিন নির্যাতনের মধ্যেও বেগম জিয়া দলের নেতাকর্মীদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দিতেন। এত প্রতিরোধ ও অবহেলার মাঝেও তিনি প্রতিহিংসার পরিবর্তে ভালবাসা ও স্থিতিশীলতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সামর্থ্য ছিলেন।

প্রসঙ্গ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি তুলে ধরতে আলাল বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, প্রবাসী কল্যাণ ও অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ় করতে বেগম জিয়ার অবদান অসীম। তিনি অভিযোগ করেন, যে সমস্ত শাসকরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে, তাদের অনেকেই সেই চেতনার বাস্তবায়ন করতে পারেননি; কিন্তু বেগম জিয়া সেটিই করে দেখিয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে সেই চেতনা পদে পদে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিএনপি সরকারের অবদানকে উল্লেখ করে আলাল বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে দেশের প্রথম ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালু হয়, যা আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছিল। তখন তারেক রহমান প্রযুক্তির মাধ্যমে তৃণমূল মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন, যা ছিল একটি দূরদর্শী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ।

শাসনামলের সততা ও কঠোরতা তুলে ধরে আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপোসহীন নেত্রী, যিনি নিজের দলের প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে কখনো ছাড় দিতেন না। তিনি দলের ভেতরের অপরাধ বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল এক দৃষ্টান্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার জীবনযাত্রা এবং নেতৃত্বের আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় ও অনুপ্রেরণা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়া প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

প্রকাশিতঃ ১১:৪৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনোই প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নেত্রীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে শ্রদ্ধা ও দোয়া জানানো হয়।

আলাল উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া একজন সাধারণ নেতা ছিলেন না, বরং তার ব্যক্তিত্বে নেতৃত্বের শক্তি ও মাতৃত্বের স্পর্শ এক অনন্য সমন্বয় ছিল। তার রাজনৈতিক জীবনে দৃঢ়তা যেমন ছিল স্পষ্ট, তেমনি ছিল তার আচরণের মধ্যে মাতৃসুলভ শাসন ও স্নেহের ভারসাম্য। এই দুই গুণের সংমিশ্রণে তিনি একজন ব্যতিক্রমী ও কালজয়ী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, চরম অসুস্থতা আর কঠিন নির্যাতনের মধ্যেও বেগম জিয়া দলের নেতাকর্মীদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দিতেন। এত প্রতিরোধ ও অবহেলার মাঝেও তিনি প্রতিহিংসার পরিবর্তে ভালবাসা ও স্থিতিশীলতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সামর্থ্য ছিলেন।

প্রসঙ্গ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি তুলে ধরতে আলাল বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, প্রবাসী কল্যাণ ও অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ় করতে বেগম জিয়ার অবদান অসীম। তিনি অভিযোগ করেন, যে সমস্ত শাসকরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে, তাদের অনেকেই সেই চেতনার বাস্তবায়ন করতে পারেননি; কিন্তু বেগম জিয়া সেটিই করে দেখিয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে সেই চেতনা পদে পদে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিএনপি সরকারের অবদানকে উল্লেখ করে আলাল বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে দেশের প্রথম ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালু হয়, যা আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছিল। তখন তারেক রহমান প্রযুক্তির মাধ্যমে তৃণমূল মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন, যা ছিল একটি দূরদর্শী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ।

শাসনামলের সততা ও কঠোরতা তুলে ধরে আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপোসহীন নেত্রী, যিনি নিজের দলের প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে কখনো ছাড় দিতেন না। তিনি দলের ভেতরের অপরাধ বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল এক দৃষ্টান্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার জীবনযাত্রা এবং নেতৃত্বের আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় ও অনুপ্রেরণা।