০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আর্কটিকের সমুদ্র সম্পদ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা জটিলতা বাড়াচ্ছে

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আর্কটিক মহাসাগরের বরফ গলা শুরু হওয়ায় নতুন নৌপথের দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে, যেমন রাশিয়ার নর্দার্ন সি রুট ও কনাডার নর্থওয়েস্ট প্যাসেজ। এই পরিবর্তনটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক জাহাজ চালানোর জন্য সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করেছে, বরং বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায়, এই অঞ্চলের সঙ্গে জড়িত বাণিজ্য এবং জীবিকা সরাসরি অনেকে নির্ভরশীল। তবে একইসঙ্গে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি এবং কৌশলগত স্বার্থের সংঘাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে, এই অঞ্চলের অনেক জলরাশি পুরোপুরি মানচিত্রায়িত না হওয়া এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থাসমূহের সীমাবদ্ধতা বড় কোনো দূর্যোগ বা দুর্ঘটনা মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। ইউক্রেন সংকটের ফলে আর্কটিক কাউন্সিলের কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও, বিজ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর জন্য এখনও কূটনৈতিক পথ খোলা রয়েছে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের চাহিদা বাড়ার কারণে নিকেল ও কোবাল্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, ফলে প্রশান্ত মহাসাগর অঙ্গরাজ্যের গভীর সাগরের খনিজ ভাণ্ডার আহরণে সমঝোতা ও প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে এসব খনিজের উৎস অনুসন্ধান ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে। তবে গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি ও কার্যপ্রণালীর অজানা অনেক দিকের কারণে, বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ এই খনিজ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবার পক্ষে সম্মত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে অনুমোদনপ্রাপ্ত ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথরিটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, যার জন্য নরওয়ের মতো দেশগুলো ২০২৯ সাল পর্যন্ত তাদের লাইসেন্স স্থগিত রেখেছে। পরিবেশের ক্ষতি এড়াতে গুগল, বিএমডব্লিউ ও ভলভোর মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানি এখনো গভীর সমুদ্রের খনিজ ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করেছে।

সমুদ্রের এই বহুমুখী সংকট সাহসী পদক্ষেপের অভাবে গভীর সমুদ্রে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের কারণে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য, অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ২০২৫ সালে অনেক দেশ ‘হাই সিজ ট্রিটি’ অনুমোদন করে, যা জলসীমায় সংরক্ষিত অঞ্চল গঠন করার পথ প্রশস্ত করেছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও রাশিয়া যৌথভাবে মাছ ধরার কোটা নির্ধারণের মাধ্যমে সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ভবিষ্যতের জন্য, নীতিনির্ধারকদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তির ওপর এখন সবকিছুর বিন্দু নির্ভরশীল, কারণ এসব উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা এবং টেকসই সমুদ্রসম্পদের ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা আসন্ন চ্যালেঞ্জ—নৌপথের প্রতিযোগিতা, খনিজ আহরণ এবং অতিরিক্ত মাছ ধরা—সমাধানের জন্যই এখন বিশ্ববাসীর প্রধান লক্ষ্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আর্কটিকের সমুদ্র সম্পদ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা জটিলতা বাড়াচ্ছে

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আর্কটিক মহাসাগরের বরফ গলা শুরু হওয়ায় নতুন নৌপথের দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে, যেমন রাশিয়ার নর্দার্ন সি রুট ও কনাডার নর্থওয়েস্ট প্যাসেজ। এই পরিবর্তনটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক জাহাজ চালানোর জন্য সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করেছে, বরং বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায়, এই অঞ্চলের সঙ্গে জড়িত বাণিজ্য এবং জীবিকা সরাসরি অনেকে নির্ভরশীল। তবে একইসঙ্গে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি এবং কৌশলগত স্বার্থের সংঘাত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে, এই অঞ্চলের অনেক জলরাশি পুরোপুরি মানচিত্রায়িত না হওয়া এবং জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থাসমূহের সীমাবদ্ধতা বড় কোনো দূর্যোগ বা দুর্ঘটনা মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। ইউক্রেন সংকটের ফলে আর্কটিক কাউন্সিলের কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও, বিজ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর জন্য এখনও কূটনৈতিক পথ খোলা রয়েছে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের চাহিদা বাড়ার কারণে নিকেল ও কোবাল্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, ফলে প্রশান্ত মহাসাগর অঙ্গরাজ্যের গভীর সাগরের খনিজ ভাণ্ডার আহরণে সমঝোতা ও প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে এসব খনিজের উৎস অনুসন্ধান ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে। তবে গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি ও কার্যপ্রণালীর অজানা অনেক দিকের কারণে, বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ এই খনিজ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবার পক্ষে সম্মত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে অনুমোদনপ্রাপ্ত ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথরিটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, যার জন্য নরওয়ের মতো দেশগুলো ২০২৯ সাল পর্যন্ত তাদের লাইসেন্স স্থগিত রেখেছে। পরিবেশের ক্ষতি এড়াতে গুগল, বিএমডব্লিউ ও ভলভোর মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানি এখনো গভীর সমুদ্রের খনিজ ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করেছে।

সমুদ্রের এই বহুমুখী সংকট সাহসী পদক্ষেপের অভাবে গভীর সমুদ্রে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের কারণে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য, অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ২০২৫ সালে অনেক দেশ ‘হাই সিজ ট্রিটি’ অনুমোদন করে, যা জলসীমায় সংরক্ষিত অঞ্চল গঠন করার পথ প্রশস্ত করেছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও রাশিয়া যৌথভাবে মাছ ধরার কোটা নির্ধারণের মাধ্যমে সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ভবিষ্যতের জন্য, নীতিনির্ধারকদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তির ওপর এখন সবকিছুর বিন্দু নির্ভরশীল, কারণ এসব উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা এবং টেকসই সমুদ্রসম্পদের ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা আসন্ন চ্যালেঞ্জ—নৌপথের প্রতিযোগিতা, খনিজ আহরণ এবং অতিরিক্ত মাছ ধরা—সমাধানের জন্যই এখন বিশ্ববাসীর প্রধান লক্ষ্য।