০৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রখ্যাত নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের সাথে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে তিনি আজ (২১ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তারস্থ এক বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী ও একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাভেদ বেশ কিছুদিন ধরেই ক্যানসার এবং বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। নিয়মিত চিকিৎসক ও নার্সের মাধ্যমে হাসপাতালে থেকেই তার চিকিৎসা চলে। ডলি চৌধুরী জানান, আজ সকালেই হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থা মারাত্মকভাবে খারাপ হয়ে যায়। নার্সরা তখন তার শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা অনুভব করেন। এরপরই দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে স্ত্রী ও চিকিৎসকদের সাথে তাকে উত্তরার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইলিয়াস জাভেদের চলচ্চিত্র জীবন ছিল অত্যন্ত বর্ণময় ও বৈচিত্র্যময়। তিনি মূলত ষাটের দশকে নৃত্য পরিচালকের দায়িত্ব দিয়ে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। তার প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল প্রশিক্ষিত পরিচালক কায়সার পাশার উর্দু ভাষার সিনেমা মালান। ঢাকাই ছবিতে নাচের শিল্পে আধুনিকতা ও নতুনত্ব আনার জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান। পরে তিনি অভিনয় জগতেও পা রাখেন এবং সেখানে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন।

১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার ছবি ‘নয়ে জিন্দেগি’ দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। এরপর ষাট ও আশির দশকে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একজন ডিমান্ডেড নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিশেষ করে ফোক-ফ্যান্টাসি ও অ্যাকশন ঘরানার সিনেমায় তার ছিল অনন্য দাপট। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে মালকা বানু, অনেক দিন আগে, শাহজাদী, নিশান, রাজকুমারী চন্দ্রবান, কাজল রেখা এবং সাহেব বিবি। নিশান সিনেমার আইকনিক চরিত্র ও স্টাইল আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

প্রকাশিতঃ ০৬:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রখ্যাত নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের সাথে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে তিনি আজ (২১ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তারস্থ এক বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী ও একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাভেদ বেশ কিছুদিন ধরেই ক্যানসার এবং বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। নিয়মিত চিকিৎসক ও নার্সের মাধ্যমে হাসপাতালে থেকেই তার চিকিৎসা চলে। ডলি চৌধুরী জানান, আজ সকালেই হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থা মারাত্মকভাবে খারাপ হয়ে যায়। নার্সরা তখন তার শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা অনুভব করেন। এরপরই দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে স্ত্রী ও চিকিৎসকদের সাথে তাকে উত্তরার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইলিয়াস জাভেদের চলচ্চিত্র জীবন ছিল অত্যন্ত বর্ণময় ও বৈচিত্র্যময়। তিনি মূলত ষাটের দশকে নৃত্য পরিচালকের দায়িত্ব দিয়ে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। তার প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল প্রশিক্ষিত পরিচালক কায়সার পাশার উর্দু ভাষার সিনেমা মালান। ঢাকাই ছবিতে নাচের শিল্পে আধুনিকতা ও নতুনত্ব আনার জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান। পরে তিনি অভিনয় জগতেও পা রাখেন এবং সেখানে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন।

১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার ছবি ‘নয়ে জিন্দেগি’ দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। এরপর ষাট ও আশির দশকে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একজন ডিমান্ডেড নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিশেষ করে ফোক-ফ্যান্টাসি ও অ্যাকশন ঘরানার সিনেমায় তার ছিল অনন্য দাপট। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে মালকা বানু, অনেক দিন আগে, শাহজাদী, নিশান, রাজকুমারী চন্দ্রবান, কাজল রেখা এবং সাহেব বিবি। নিশান সিনেমার আইকনিক চরিত্র ও স্টাইল আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।