০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

অর্থ, পেশি ও ধর্মের মাধ্যমে রাজনীতি নিঃশেষ হচ্ছে: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সব মিলিয়ে মোট প্রার্থীর প্রায় ৩৬ শতাংশই এই ধরনের দল থেকে নির্বাচনের জন্য میدان সংগ্রহ করেছেন, যা বিগত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু হার। তিনি আরও মন্তব্য করে বলেন যে, রাজনীতিতে অর্থ, পেশী শক্তি এবং ধর্মের উপস্থিতি একসঙ্গে হয়ে যাওয়ায় সব ধরনের প্রতিযোগিতা এক ধরনের জিম্মি পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, যেখানে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন’ শীর্ষক এক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও উল্লেখ করেন, আমাদের রাজনীতিতে অর্থ, পেশীশক্তি এবং ধর্মের সংমিশ্রণ এই প্রকৃতির বৈশিষ্ট্যগুলো এখনও অটুট থাকায় সুস্থ ও শক্তিশালী রাজনীতি যে বিপদে পড়ছে, সেটি স্পষ্ট। তিনি বলেন, ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক স্পেস বা অঙ্গন থেকে সুস্থ রাজনীতির স্থান ক্ষীণ হয়ে আসছে, আর তাদের পক্ষের শক্তি যারা অসুস্থ রাজনীতির ধারক-পরিচালক তারা এই অঙ্গন দখল করছে।

এছাড়াও বক্তা জানিয়েছেন, কৃষি জমির ক্ষেত্রে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৫০ একরের বেশি জমি রাখতে পারেন। তবে, জমির মালিকানা সংক্রান্ত আইনগত আরেকটি বিধান নেই যে, এই সীমার বাইরে জমি থাকলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। এ পরিস্থিতিতে যতটুকু সম্ভব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী, যাতে এই নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তার মত, অবৈধভাবে অতিরিক্ত জমি মালিকানা থাকা প্রার্থীদের এই সম্পদগুলো রাষ্ট্রের কবজায় নিয়ে জনসেবা’র জন্য বিতরণ করা উচিত।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি রাজনৈতিক দল থাকলেও চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা ১৯৮১ জন এবং প্রায় ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র।প্রতিবারের মতো এবারও নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। প্রস্তাবিত লক্ষ্য ৫ শতাংশ নারীর প্রার্থী ছিল কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলই এই লক্ষ্য পূরণ করেনি।

অর্থসম্পদের দিক থেকেও দেখা গেছে, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ভিত্তিতে প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি সংখ্যা ৯৫১ জন। তাদের মধ্যে ২৭ জন শত কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। এছাড়া, দুজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে তারা হলফনামায় এই বিষয়টি উল্লেখ করেননি। মনে করা হয় তারা ব্রিটিশ নাগরিক। অন্য একজন প্রার্থীর বিদেশে নিজের সম্পদের তথ্য না দিলেও জানা গেছে, তার স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুল আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক, ও সহকারী কো-অর্ডিনেটর রিফাত রহমান। ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বললেন যে, অর্থ, পেশীশক্তি ও ধর্মের এই উল্লিখিত সংমিশ্রণ আমাদের রাজনীতিকে এক ধরনের জিম্মি অবস্থার দিকে ধাবিত করছে, যা সমাজের জন্য খুবই বিপজ্জনক। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে, সত্যিকারের শক্তিশালী ও সত্যনিষ্ঠ রাজনীতি ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র হয়ে যাবে, এবং অসুস্থ, অখাঁটি রাজনীতি রাজনৈতিক অঙ্গনকে দখল করে নেবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

অর্থ, পেশি ও ধর্মের মাধ্যমে রাজনীতি নিঃশেষ হচ্ছে: টিআইবি

প্রকাশিতঃ ১০:২৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সব মিলিয়ে মোট প্রার্থীর প্রায় ৩৬ শতাংশই এই ধরনের দল থেকে নির্বাচনের জন্য میدان সংগ্রহ করেছেন, যা বিগত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু হার। তিনি আরও মন্তব্য করে বলেন যে, রাজনীতিতে অর্থ, পেশী শক্তি এবং ধর্মের উপস্থিতি একসঙ্গে হয়ে যাওয়ায় সব ধরনের প্রতিযোগিতা এক ধরনের জিম্মি পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, যেখানে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন’ শীর্ষক এক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও উল্লেখ করেন, আমাদের রাজনীতিতে অর্থ, পেশীশক্তি এবং ধর্মের সংমিশ্রণ এই প্রকৃতির বৈশিষ্ট্যগুলো এখনও অটুট থাকায় সুস্থ ও শক্তিশালী রাজনীতি যে বিপদে পড়ছে, সেটি স্পষ্ট। তিনি বলেন, ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক স্পেস বা অঙ্গন থেকে সুস্থ রাজনীতির স্থান ক্ষীণ হয়ে আসছে, আর তাদের পক্ষের শক্তি যারা অসুস্থ রাজনীতির ধারক-পরিচালক তারা এই অঙ্গন দখল করছে।

এছাড়াও বক্তা জানিয়েছেন, কৃষি জমির ক্ষেত্রে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৫০ একরের বেশি জমি রাখতে পারেন। তবে, জমির মালিকানা সংক্রান্ত আইনগত আরেকটি বিধান নেই যে, এই সীমার বাইরে জমি থাকলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। এ পরিস্থিতিতে যতটুকু সম্ভব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী, যাতে এই নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তার মত, অবৈধভাবে অতিরিক্ত জমি মালিকানা থাকা প্রার্থীদের এই সম্পদগুলো রাষ্ট্রের কবজায় নিয়ে জনসেবা’র জন্য বিতরণ করা উচিত।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি রাজনৈতিক দল থাকলেও চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা ১৯৮১ জন এবং প্রায় ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র।প্রতিবারের মতো এবারও নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম। প্রস্তাবিত লক্ষ্য ৫ শতাংশ নারীর প্রার্থী ছিল কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলই এই লক্ষ্য পূরণ করেনি।

অর্থসম্পদের দিক থেকেও দেখা গেছে, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ভিত্তিতে প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি সংখ্যা ৯৫১ জন। তাদের মধ্যে ২৭ জন শত কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। এছাড়া, দুজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে তারা হলফনামায় এই বিষয়টি উল্লেখ করেননি। মনে করা হয় তারা ব্রিটিশ নাগরিক। অন্য একজন প্রার্থীর বিদেশে নিজের সম্পদের তথ্য না দিলেও জানা গেছে, তার স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুল আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক, ও সহকারী কো-অর্ডিনেটর রিফাত রহমান। ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বললেন যে, অর্থ, পেশীশক্তি ও ধর্মের এই উল্লিখিত সংমিশ্রণ আমাদের রাজনীতিকে এক ধরনের জিম্মি অবস্থার দিকে ধাবিত করছে, যা সমাজের জন্য খুবই বিপজ্জনক। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে, সত্যিকারের শক্তিশালী ও সত্যনিষ্ঠ রাজনীতি ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র হয়ে যাবে, এবং অসুস্থ, অখাঁটি রাজনীতি রাজনৈতিক অঙ্গনকে দখল করে নেবে।