০৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

মুক্তিযুদ্ধে খাসিয়াদের বীরত্বগাথা নিয়ে নতুন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে খাসিয়া (খাসি) জাতিসত্তার মানুষের অসামান্য ত্যাগের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করতেই রচিত হয়েছে একটি গবেষনামূলক বই—’দ্য খাসিস ইন দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’। এই গুরুত্বপূর্ণ বইটির মোড়ক উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক কাজের লেখক ও গবেষক ড্যানিয়েল স্টোন লিংডো নিজে উপস্থিত থেকে বইটির সংক্ষিপ্ত ধারণা উপস্থাপন করেন। তিনি ১৯৭১ সালে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বীরত্বপূর্ণ অবদান ও তাদের লেখা ইতিহাসের অলিখিত অধ্যায়গুলোকে বিশদভাবে তুলে ধরেছেন, যা সময়ের গভীর আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক্ষ সঞ্জীব দ্রং। তিনি বলেন, ইতিহাসের পাতায় কিছু নাম স্বীকৃতি পেয়েছে, আবার অনেকেরই পূর্বোচিত কীর্তি অজানা রয়ে গেছে। তবে তারা সকলেই সমানভাবে অবদান রেখেছে আমাদের মাতৃভুমির মুক্তির জন্য। তিনি এই গ্রন্থটিকে সম্ভবত প্রথম খাসিয়া জাতির সম্পূর্ণ অবদান নিয়ে লেখা বই হিসেবে আখ্যায়িত করে আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, এটি আদিবাসী তরুণ গবেষকদের জন্য নতুন ইতিহাসের অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হবে।

বিশেষ অতিথি এন্ড্রু জুয়েল সলমার তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ভারতের নাগরিক হলেও ড্যানিয়েল স্টোন লিংডো বাংলাদেশের খাসিয়া সম্প্রদায়ের অবদান যেভাবে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন, তা সকল পাহাড়ি ও সমতলপ্রধান আদিবাসীর জন্য অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অন্যদিকে, লেখিকা ও গবেষক ঈশিতা দস্তিদার এবং মানবাধিকার কর্মী ত্রিজিনাদ চাকমা এই ধরনের ব্যক্তিগত ও বৌদ্ধিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, যেখানে রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এই বইটি খাসিয়া জাতির বীরত্বের এক শক্তিশালী লিখিত দলিল হিসেবে পরিণত হবে। তদ্ব্যতীত, আদিবাসী আন্দোলনের কর্মী টনি চিরন বুইটিকে মানবতার স্বার্থে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন।

মোড়ক উন্মোচনের পর অতিথিরা এই গ্রন্থটির গুরুত্ব এবং এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

মুক্তিযুদ্ধে খাসিয়াদের বীরত্বগাথা নিয়ে নতুন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে খাসিয়া (খাসি) জাতিসত্তার মানুষের অসামান্য ত্যাগের স্মৃতিকে সংরক্ষণ করতেই রচিত হয়েছে একটি গবেষনামূলক বই—’দ্য খাসিস ইন দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’। এই গুরুত্বপূর্ণ বইটির মোড়ক উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক কাজের লেখক ও গবেষক ড্যানিয়েল স্টোন লিংডো নিজে উপস্থিত থেকে বইটির সংক্ষিপ্ত ধারণা উপস্থাপন করেন। তিনি ১৯৭১ সালে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বীরত্বপূর্ণ অবদান ও তাদের লেখা ইতিহাসের অলিখিত অধ্যায়গুলোকে বিশদভাবে তুলে ধরেছেন, যা সময়ের গভীর আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক্ষ সঞ্জীব দ্রং। তিনি বলেন, ইতিহাসের পাতায় কিছু নাম স্বীকৃতি পেয়েছে, আবার অনেকেরই পূর্বোচিত কীর্তি অজানা রয়ে গেছে। তবে তারা সকলেই সমানভাবে অবদান রেখেছে আমাদের মাতৃভুমির মুক্তির জন্য। তিনি এই গ্রন্থটিকে সম্ভবত প্রথম খাসিয়া জাতির সম্পূর্ণ অবদান নিয়ে লেখা বই হিসেবে আখ্যায়িত করে আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, এটি আদিবাসী তরুণ গবেষকদের জন্য নতুন ইতিহাসের অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হবে।

বিশেষ অতিথি এন্ড্রু জুয়েল সলমার তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ভারতের নাগরিক হলেও ড্যানিয়েল স্টোন লিংডো বাংলাদেশের খাসিয়া সম্প্রদায়ের অবদান যেভাবে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন, তা সকল পাহাড়ি ও সমতলপ্রধান আদিবাসীর জন্য অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অন্যদিকে, লেখিকা ও গবেষক ঈশিতা দস্তিদার এবং মানবাধিকার কর্মী ত্রিজিনাদ চাকমা এই ধরনের ব্যক্তিগত ও বৌদ্ধিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, যেখানে রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এই বইটি খাসিয়া জাতির বীরত্বের এক শক্তিশালী লিখিত দলিল হিসেবে পরিণত হবে। তদ্ব্যতীত, আদিবাসী আন্দোলনের কর্মী টনি চিরন বুইটিকে মানবতার স্বার্থে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন।

মোড়ক উন্মোচনের পর অতিথিরা এই গ্রন্থটির গুরুত্ব এবং এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করে।