১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টেইলর সুইফটের ‘ওপালাইট’ মিউজিক ভিডিওতে নব্বইয়ের নস্টালজিয়া ও তারকাবহুল কাস্ট

বিশ্ববিখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফট তাঁর দ্বাদশ স্টুডিও অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’-এর নতুন একক ‘ওপালাইট’-এর মিউজিক ভিডিও দিয়ে আবারও সৃজনশীলতার নতুন মাত্রা যোগ করলেন। প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিডিওটি ব্যাপক সাড়া তুলেছে — বিশেষত এর নস্টালজিক নব্বই দশকীয় ভিজ্যুয়ালস এবং তারকাখচিত কাস্ট দর্শকদের মন কাড়ছে।

ভিডিওটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন সুইফট নিজেই, যেখানে তাঁর নির্মাণশৈলীর মার্জিত মনোযোগ ও খুঁটিনাটি প্রকাশ পেয়েছে। ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে এক কাল্পনিক, জাদুকরী পৃথিবীর গল্প—কেন্দ্রে রয়েছে ‘ওপালাইট স্প্রে’ নামের একটি রহস্যময় তরল, যা অচল বস্তুকে জীবন্ত মানুষের মতো রূপ দিতে পারে। এছাড়া নিজের প্রিয় পাথরটাকে সবসময় সঙ্গে রাখার মতো ছোট ছোট আলাদা বয়ানগুলোকে অত্যন্ত কোমলভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা বন্ধুত্ব ও আবেগের বিচিত্র রূপরেখা তৈরি করে।

ভিডিও তৈরির প্রেক্ষাপটও কম আকর্ষণীয় নয়। সুইফট জানিয়েছেন, গত বছরের অক্টোবর মাসে যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় টকশো ‘গ্রাহাম নর্টন শো’-তে অতিথি হওয়ার সময়ই এই আইডিয়ার সূত্রপাত হয়। ওই পর্বে উপস্থিত ছিলেন অস্কারজয়ী কিলিয়ান মারফি, অভিনেতা ডোমনাল গ্লিসন, অভিনেত্রী গ্রেটা লি এবং গায়ক লুইস ক্যাপালডি। আড্ডার এক মুহূর্তে ডোমনালের করা মজার মন্তব্য—সুইফটের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের ইচ্ছা—কাঠামোবদ্ধভাবে বাস্তবে রূপ পায়। সুইফট সেই পর্বের সহ-অতিথিদের প্রোজেক্টে নিয়ে আসেন এবং উপস্থাপক গ্রাহাম নর্টনকেও একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা যায়।

টুকরো গল্পগুলোতে দেখা যায় কীভাবে একটি সাধারণ ক্যাকটাস কিংবা পাথর বন্ধুত্বের নানা রূপ নেয়। নাটকীয় এক মোড়ে, ডোমনালের ক্যাকটাসে ওপালাইট স্প্রে করার পর সেটি এক জাদুকরী প্রক্রিয়ায় মানব রূপ ধারণ করে—একটি হালকা, ছদ্মরসিক এবং হৃদয়স্পর্শী বিপরীতে। সুইফট নিজে এই টোনকে ‘বড়দের জন্য একটি স্কুল গ্রুপ প্রজেক্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন—এক ধরনের শিশুসুলভ উৎসাহ নিয়ে সৃজনশীল বন্ধুত্ব উদযাপন।

গানের শিরোনাম ‘ওপালাইট’ নিয়েও অনুরাগীদের মধ্যে নানা অনুমান আছে। অনেকেই মনে করছেন, নামটি ট্রাভিস কেলসির জন্মরত্ন ‘ওপাল’-এর সঙ্গে একটি ব্যক্তি সম্পর্কিত রোমান্টিক ইঙ্গিত বহন করে,—টেইলরের ব্যক্তিগত জীবনের নিকটবর্তী সংযোগকে ইঙ্গিত করে বলেই অনেকে ধরছেন।

কিলিয়ান মারফির মতো প্রতিষ্ঠিত অভিনেতার উপস্থিতি, নব্বই দশকের সিনেম্যাটিক টোন এবং সুইফটের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে ‘ওপালাইট’ দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউটিউব ও অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এটি কোটি ভিউ ছাড়িয়ে সুইফটের জনপ্রিয়তায় আরেকটি মাইলফলক সৃষ্টি করেছে।

ফ্যান এবং সমালোচকরা একমত যে, এই ভিডিও সুইফটের নির্মাণশৈলীর বহুমাত্রিক প্রতিভা ও অব্যক্ত কৌতুকপূর্ণ ভাবনাকে সুন্দরভাবে উন্মোচিত করেছে। সুর, স্টাইলিং ও অভিনয়ের মিশেলে ‘ওপালাইট’ হয়েছে এমন একটি কাজ, যা শুধু একটি গান নয়—একটি ছোট কাহিনি, একটি অনুভব এবং একটি বন্ধুত্বের উৎসব হিসেবে জাঁকজমক করে ওঠে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নবীন—প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করবে বিএনপি

টেইলর সুইফটের ‘ওপালাইট’ মিউজিক ভিডিওতে নব্বইয়ের নস্টালজিয়া ও তারকাবহুল কাস্ট

প্রকাশিতঃ ০৩:২১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ববিখ্যাত পপ তারকা টেইলর সুইফট তাঁর দ্বাদশ স্টুডিও অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’-এর নতুন একক ‘ওপালাইট’-এর মিউজিক ভিডিও দিয়ে আবারও সৃজনশীলতার নতুন মাত্রা যোগ করলেন। প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিডিওটি ব্যাপক সাড়া তুলেছে — বিশেষত এর নস্টালজিক নব্বই দশকীয় ভিজ্যুয়ালস এবং তারকাখচিত কাস্ট দর্শকদের মন কাড়ছে।

ভিডিওটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন সুইফট নিজেই, যেখানে তাঁর নির্মাণশৈলীর মার্জিত মনোযোগ ও খুঁটিনাটি প্রকাশ পেয়েছে। ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে এক কাল্পনিক, জাদুকরী পৃথিবীর গল্প—কেন্দ্রে রয়েছে ‘ওপালাইট স্প্রে’ নামের একটি রহস্যময় তরল, যা অচল বস্তুকে জীবন্ত মানুষের মতো রূপ দিতে পারে। এছাড়া নিজের প্রিয় পাথরটাকে সবসময় সঙ্গে রাখার মতো ছোট ছোট আলাদা বয়ানগুলোকে অত্যন্ত কোমলভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা বন্ধুত্ব ও আবেগের বিচিত্র রূপরেখা তৈরি করে।

ভিডিও তৈরির প্রেক্ষাপটও কম আকর্ষণীয় নয়। সুইফট জানিয়েছেন, গত বছরের অক্টোবর মাসে যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় টকশো ‘গ্রাহাম নর্টন শো’-তে অতিথি হওয়ার সময়ই এই আইডিয়ার সূত্রপাত হয়। ওই পর্বে উপস্থিত ছিলেন অস্কারজয়ী কিলিয়ান মারফি, অভিনেতা ডোমনাল গ্লিসন, অভিনেত্রী গ্রেটা লি এবং গায়ক লুইস ক্যাপালডি। আড্ডার এক মুহূর্তে ডোমনালের করা মজার মন্তব্য—সুইফটের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের ইচ্ছা—কাঠামোবদ্ধভাবে বাস্তবে রূপ পায়। সুইফট সেই পর্বের সহ-অতিথিদের প্রোজেক্টে নিয়ে আসেন এবং উপস্থাপক গ্রাহাম নর্টনকেও একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা যায়।

টুকরো গল্পগুলোতে দেখা যায় কীভাবে একটি সাধারণ ক্যাকটাস কিংবা পাথর বন্ধুত্বের নানা রূপ নেয়। নাটকীয় এক মোড়ে, ডোমনালের ক্যাকটাসে ওপালাইট স্প্রে করার পর সেটি এক জাদুকরী প্রক্রিয়ায় মানব রূপ ধারণ করে—একটি হালকা, ছদ্মরসিক এবং হৃদয়স্পর্শী বিপরীতে। সুইফট নিজে এই টোনকে ‘বড়দের জন্য একটি স্কুল গ্রুপ প্রজেক্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন—এক ধরনের শিশুসুলভ উৎসাহ নিয়ে সৃজনশীল বন্ধুত্ব উদযাপন।

গানের শিরোনাম ‘ওপালাইট’ নিয়েও অনুরাগীদের মধ্যে নানা অনুমান আছে। অনেকেই মনে করছেন, নামটি ট্রাভিস কেলসির জন্মরত্ন ‘ওপাল’-এর সঙ্গে একটি ব্যক্তি সম্পর্কিত রোমান্টিক ইঙ্গিত বহন করে,—টেইলরের ব্যক্তিগত জীবনের নিকটবর্তী সংযোগকে ইঙ্গিত করে বলেই অনেকে ধরছেন।

কিলিয়ান মারফির মতো প্রতিষ্ঠিত অভিনেতার উপস্থিতি, নব্বই দশকের সিনেম্যাটিক টোন এবং সুইফটের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে ‘ওপালাইট’ দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউটিউব ও অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এটি কোটি ভিউ ছাড়িয়ে সুইফটের জনপ্রিয়তায় আরেকটি মাইলফলক সৃষ্টি করেছে।

ফ্যান এবং সমালোচকরা একমত যে, এই ভিডিও সুইফটের নির্মাণশৈলীর বহুমাত্রিক প্রতিভা ও অব্যক্ত কৌতুকপূর্ণ ভাবনাকে সুন্দরভাবে উন্মোচিত করেছে। সুর, স্টাইলিং ও অভিনয়ের মিশেলে ‘ওপালাইট’ হয়েছে এমন একটি কাজ, যা শুধু একটি গান নয়—একটি ছোট কাহিনি, একটি অনুভব এবং একটি বন্ধুত্বের উৎসব হিসেবে জাঁকজমক করে ওঠে।