১১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বেতন ছাড়া সংসদ সদস্যদের পাওনা সুযোগ-সুবিধা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নবনির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে কৌতূহল বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরে জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ছাড়াও নানা আর্থিক ভাতা, আবাসন ও যাতায়াত সুবিধা রয়েছে—যা আইনগতভাবে নির্ধারিত এবং তাদের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হিসেবে দেওয়া হয়।

এগুলোর আইনি প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা এসেছে ১৯৭৩ সালের ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার’ ও পরবর্তী সংশোধনীর মাধ্যমে। প্রধান প্রধান ভাতা ও সুবিধাগুলো নিম্নরূপ:

– মূল মাসিক বেতন: ৫৫,০০০ টাকা।

– নির্বাচনী এলাকা কার্যক্রমের জন্য ভাতা: প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা।

– আপ্যায়ন ভাতা: মাসে ৫,০০০ টাকা।

– পরিবহন ভাতা: সবচেয়ে বড় বরাদ্দ—প্রতি মাসে ৭০,০০০ টাকা; যা মূলত গাড়ির জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের মেয়াদি বেতন জোগাতে ব্যবহৃত হয়।

– ব্যক্তিগত অফিস পরিচালনা: মাসে ১৫,০০০ টাকা।

– লন্ড্রি/কাপড় ধোয়ার খরচের জন্য: ১,৫০০ টাকা মাসিক।

– বিবিধ খরচ: ৬,০০০ টাকা মাসিক।

যাতায়াত ও যান-জমা সংক্রান্ত এক বড় সুবিধা হলো শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির অধিকার। নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্য তাঁর মেয়াদে একবার একটি লাক্সারি কার, জিপ বা মাইক্রোবাস ট্যাক্স ও ভ্যাটমুক্তভাবে বিদেশ থেকে আনতে পারেন। মেয়াদ পূরণ করার পরই আবার এই সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকে—যা অনেকেই বিশেষ সুবিধা হিসেবে দেখেন। এছাড়া বিমান, রেল বা নৌপথে ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যায়। বার্ষিক ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত ভ্রমণ ভাতা বা বিকল্প হিসেবে ট্রাভেল পাস পাওয়ারও ব্যবস্থা আছে।

সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য দৈনিক ভাতাও নির্ধারিত—কর্মস্থলে থাকলে দৈনিক ৭৫০ টাকা এবং অধিবেশন বা কমিটিতে থাকা অবস্থায় পরিমাণ বেড়ে ৮০০ টাকা। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যরা অগ্রাধিকারভোগী; তারা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পেয়েন এবং মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা মঞ্জুর আছে। দায়িত্ব পালনকালে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে সরকারি বিমা হিসেবে ১০ লাখ টাকার সুবিধা দেয়া হয়েছে।

টেলিযুগ্মে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ প্রদান এবং মাসিক বিল বাবদ ৭,৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে। স্থানীয় উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে ব্যয় করার জন্য প্রতি বছরে সর্বোচ্চ ৫০০,০০০ টাকার একটি অনুদান তহবিল ব্যবহারের ক্ষমতাও তাদের হাতে রাখা হয়।

একটি গুরুত্বপুর্ন দিক হলো—বেতন ও অধিকাংশ ভাতা-ভিত্তিক সুবিধা আয়করমুক্ত। ফলে সংসদ সদস্যরা মাসিক বেতন ছাড়াও এই ভাতা ও সুবিধাগুলো থেকে সন্দেহাতীতভাবে জীবনযাত্রা বজায় রাখা এবং নির্বাচনী এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হন। নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নিলেই এসব সুবিধা গ্রহণ শুরু করবেন, আর কিছু সুবিধা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণে (যেমন মেয়াদপূরণ) প্রযোজ্য হয়।

এই বিধানগুলো সংসদ সদস্যদের সরকারি কাজকর্ম নির্বাহে আর্থিক ও ব্যবস্থাগত সহায়তা প্রদান করে—তবে একই সঙ্গে এসব সুবিধা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে নানা প্রশ্ন-উত্তর ও আলোচনা থাকায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও জোরালো হওয়া উচিত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বেতন ছাড়া সংসদ সদস্যদের পাওনা সুযোগ-সুবিধা

প্রকাশিতঃ ১১:৩৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নবনির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে কৌতূহল বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরে জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ছাড়াও নানা আর্থিক ভাতা, আবাসন ও যাতায়াত সুবিধা রয়েছে—যা আইনগতভাবে নির্ধারিত এবং তাদের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হিসেবে দেওয়া হয়।

এগুলোর আইনি প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা এসেছে ১৯৭৩ সালের ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার’ ও পরবর্তী সংশোধনীর মাধ্যমে। প্রধান প্রধান ভাতা ও সুবিধাগুলো নিম্নরূপ:

– মূল মাসিক বেতন: ৫৫,০০০ টাকা।

– নির্বাচনী এলাকা কার্যক্রমের জন্য ভাতা: প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা।

– আপ্যায়ন ভাতা: মাসে ৫,০০০ টাকা।

– পরিবহন ভাতা: সবচেয়ে বড় বরাদ্দ—প্রতি মাসে ৭০,০০০ টাকা; যা মূলত গাড়ির জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের মেয়াদি বেতন জোগাতে ব্যবহৃত হয়।

– ব্যক্তিগত অফিস পরিচালনা: মাসে ১৫,০০০ টাকা।

– লন্ড্রি/কাপড় ধোয়ার খরচের জন্য: ১,৫০০ টাকা মাসিক।

– বিবিধ খরচ: ৬,০০০ টাকা মাসিক।

যাতায়াত ও যান-জমা সংক্রান্ত এক বড় সুবিধা হলো শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির অধিকার। নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্য তাঁর মেয়াদে একবার একটি লাক্সারি কার, জিপ বা মাইক্রোবাস ট্যাক্স ও ভ্যাটমুক্তভাবে বিদেশ থেকে আনতে পারেন। মেয়াদ পূরণ করার পরই আবার এই সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকে—যা অনেকেই বিশেষ সুবিধা হিসেবে দেখেন। এছাড়া বিমান, রেল বা নৌপথে ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যায়। বার্ষিক ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত ভ্রমণ ভাতা বা বিকল্প হিসেবে ট্রাভেল পাস পাওয়ারও ব্যবস্থা আছে।

সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য দৈনিক ভাতাও নির্ধারিত—কর্মস্থলে থাকলে দৈনিক ৭৫০ টাকা এবং অধিবেশন বা কমিটিতে থাকা অবস্থায় পরিমাণ বেড়ে ৮০০ টাকা। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যরা অগ্রাধিকারভোগী; তারা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পেয়েন এবং মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা মঞ্জুর আছে। দায়িত্ব পালনকালে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে সরকারি বিমা হিসেবে ১০ লাখ টাকার সুবিধা দেয়া হয়েছে।

টেলিযুগ্মে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ প্রদান এবং মাসিক বিল বাবদ ৭,৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে। স্থানীয় উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে ব্যয় করার জন্য প্রতি বছরে সর্বোচ্চ ৫০০,০০০ টাকার একটি অনুদান তহবিল ব্যবহারের ক্ষমতাও তাদের হাতে রাখা হয়।

একটি গুরুত্বপুর্ন দিক হলো—বেতন ও অধিকাংশ ভাতা-ভিত্তিক সুবিধা আয়করমুক্ত। ফলে সংসদ সদস্যরা মাসিক বেতন ছাড়াও এই ভাতা ও সুবিধাগুলো থেকে সন্দেহাতীতভাবে জীবনযাত্রা বজায় রাখা এবং নির্বাচনী এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হন। নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নিলেই এসব সুবিধা গ্রহণ শুরু করবেন, আর কিছু সুবিধা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণে (যেমন মেয়াদপূরণ) প্রযোজ্য হয়।

এই বিধানগুলো সংসদ সদস্যদের সরকারি কাজকর্ম নির্বাহে আর্থিক ও ব্যবস্থাগত সহায়তা প্রদান করে—তবে একই সঙ্গে এসব সুবিধা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে নানা প্রশ্ন-উত্তর ও আলোচনা থাকায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও জোরালো হওয়া উচিত।