০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েল রমজানে আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা করেছে

জেরুজালেম: পবিত্র রমজান উপলক্ষে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে মুসলমানদের প্রবেশ ও ইবাদত সীমিত করার পরিকল্পনা গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি এবং সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ একরিমা সাবরি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে তিনি বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রমজানে আল-আকসা চত্বরে মুসলমানদের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চায়। তিনি এ সিদ্ধান্তকে গভীর দুঃখজনক ও উসকানিমূলকভাবে আখ্যায়িত করেছেন।

শেখ একরিমা সাবরি বলেছেন, ইতোমধ্যে ইসরায়েলি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে। গত কয়েক দিনে বেশ কিছু মুসলিম যুবককে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, রমজানের শুরু থেকে এই কড়াকড়ি বাড়ানো হবে এবং নির্দিষ্ট একটি বয়সসীমার নিচের মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে; তবে নির্দিষ্ট বয়সসীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফিলিস্তিনি ধর্মীয় নেতারা বলছেন, এমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বড় ধরনের আঘাত এবং তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরাও সতর্ক করে বলেছেন, স্পর্শকাতর রমজানকে কেন্দ্র করে এই ধরনের বিধিনিষেধ যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে রাজ্যে নতুন বৈরিতা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজেও এ ধরনের পরিকল্পনার তিনটি ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির গত জানুয়ারি থেকেই এই ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যান্যের মধ্যে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেডের পূর্ব জেরুজালেম শাখার শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব বিধিনিষেধ ত্বরান্বিত হয়েছে—হারেৎজ এসব ঘটনা ও পরিকল্পনাকে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেছে এবং রমজানের মতো স্পর্শকাতর সময়ে এসব সিদ্ধান্ত আনার সমালোচনা করেছে।

আল-আকসা মসজিদ ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান; এটি প্রথম ক্বিবলা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইসরা ও মিরাজের সঙ্গে যুক্ত একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র। ১৯৬৭ সালের ছ’বছর যুদ্ধের পরে পূর্ব জেরুজালেমসহ এই অঞ্চলটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রতি বছর রমজানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে হাজার হাজার মুসল্লি এখানে ইবাদতের জন্য সমবেত হন।

অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখার তাগিদে উভয় পক্ষকেই শান্তিপূর্ণ সমঝোতার কল্যাণে কাজ করতে অনুরোধ করছেন কূটনৈতিক ও বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ধর্মীয় অনুভূতিসম্পন্ন এই সময়টি সংবেদনশীলভাবে পরিচালনা না করলে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত নতুন সংঘাতকে উসকে দিতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েল রমজানে আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা করেছে

প্রকাশিতঃ ০৩:২৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জেরুজালেম: পবিত্র রমজান উপলক্ষে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে মুসলমানদের প্রবেশ ও ইবাদত সীমিত করার পরিকল্পনা গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি এবং সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ একরিমা সাবরি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে তিনি বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রমজানে আল-আকসা চত্বরে মুসলমানদের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চায়। তিনি এ সিদ্ধান্তকে গভীর দুঃখজনক ও উসকানিমূলকভাবে আখ্যায়িত করেছেন।

শেখ একরিমা সাবরি বলেছেন, ইতোমধ্যে ইসরায়েলি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে। গত কয়েক দিনে বেশ কিছু মুসলিম যুবককে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, রমজানের শুরু থেকে এই কড়াকড়ি বাড়ানো হবে এবং নির্দিষ্ট একটি বয়সসীমার নিচের মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে; তবে নির্দিষ্ট বয়সসীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফিলিস্তিনি ধর্মীয় নেতারা বলছেন, এমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বড় ধরনের আঘাত এবং তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরাও সতর্ক করে বলেছেন, স্পর্শকাতর রমজানকে কেন্দ্র করে এই ধরনের বিধিনিষেধ যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে রাজ্যে নতুন বৈরিতা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজেও এ ধরনের পরিকল্পনার তিনটি ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির গত জানুয়ারি থেকেই এই ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যান্যের মধ্যে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেডের পূর্ব জেরুজালেম শাখার শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব বিধিনিষেধ ত্বরান্বিত হয়েছে—হারেৎজ এসব ঘটনা ও পরিকল্পনাকে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেছে এবং রমজানের মতো স্পর্শকাতর সময়ে এসব সিদ্ধান্ত আনার সমালোচনা করেছে।

আল-আকসা মসজিদ ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান; এটি প্রথম ক্বিবলা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইসরা ও মিরাজের সঙ্গে যুক্ত একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র। ১৯৬৭ সালের ছ’বছর যুদ্ধের পরে পূর্ব জেরুজালেমসহ এই অঞ্চলটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রতি বছর রমজানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে হাজার হাজার মুসল্লি এখানে ইবাদতের জন্য সমবেত হন।

অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখার তাগিদে উভয় পক্ষকেই শান্তিপূর্ণ সমঝোতার কল্যাণে কাজ করতে অনুরোধ করছেন কূটনৈতিক ও বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ধর্মীয় অনুভূতিসম্পন্ন এই সময়টি সংবেদনশীলভাবে পরিচালনা না করলে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত নতুন সংঘাতকে উসকে দিতে পারে।