১০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আইজিপি বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন? আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগ নিয়ে প্রশাসনে তীব্র গুঞ্জন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথে ১৩ দেশের প্রধানকে আমন্ত্রণ গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ও নির্বাচনী সফলতার জন্য তিন শীর্ষ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, নতুন সরকারের শপথ আজ মঙ্গলবার আসিফ নজরুলের স্পষ্টবার্তা: বিএনপির মন্ত্রিসভায় আমার থাকাটা সম্ভব নয় সেনাবাহিনী ফিরে যাবে ব্যারাকে: সেনাপ্রধান নবনির্বাচিত সরকার শপথ নিলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী ফিরে যাবে ব্যারাকে: সেনাপ্রধান

দেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এক বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, নবনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন সেনাবাহিনী মাঠ থেকে ফিরে যাবে এবং তাদের মূল কৌঁসুলি অবস্থানে ফিরে আসবে। এই ঘোষণা রোববার সকাল ১১টায় রাজধানীর সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্স অফিসার (সিএএস) দরবারে সেনাবাহিনীর সকল পদমর্যাদার সদস্য ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সেনাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রদান করা হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না পাওয়া পর্যন্ত, সেনাবাহিনীর একটি অংশ নিরাপত্তা রক্ষায় কিছু সময়ের জন্য রয়েছে থাকবেন।

সেনাপ্রধান তাঁর বক্তবে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সেনাসদস্যের ভূমিকা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সেনাদের সততা, ধৈর্য্য ও দক্ষতা সূচক হিসেবে দেশবাসী তাদের নজরে দেখতে পেরেছে। এই দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব এক স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্নে সহায়তা করেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জানান, গত এক বছর দেড় বছর ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকে দেশকে স্থিতিশীল করতে সেনা সদস্যরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার জন্য তারা দেশের মানুষ চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে।

অনুষ্ঠানে সেনাসদস্যদের নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন, যেখানে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।’ তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে সেনা সদস্যরা ধৈর্য্য ও সাহসের মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, যা তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। পাশাপাশি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা সদস্যদের দক্ষতা ও বীরত্বের প্রশংসাও করেন তিনি।

বিশ্লেষকরা এই সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের পর ক্ষমতা সন্তোষজনকভাবে হস্তান্তরের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেনাবাহিনীর এই প্রফেশনাল অবস্থান সবাইকে আরেক ধাপ যেন স্বস্তি ও আস্থা দিয়ে তোলে, যেখানে নতুন সরকার শপথ নেবে, সেখানে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হস্তান্তর সম্ভব হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন?

সেনাবাহিনী ফিরে যাবে ব্যারাকে: সেনাপ্রধান

প্রকাশিতঃ ১১:৪৬:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এক বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, নবনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন সেনাবাহিনী মাঠ থেকে ফিরে যাবে এবং তাদের মূল কৌঁসুলি অবস্থানে ফিরে আসবে। এই ঘোষণা রোববার সকাল ১১টায় রাজধানীর সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্স অফিসার (সিএএস) দরবারে সেনাবাহিনীর সকল পদমর্যাদার সদস্য ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সেনাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রদান করা হয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না পাওয়া পর্যন্ত, সেনাবাহিনীর একটি অংশ নিরাপত্তা রক্ষায় কিছু সময়ের জন্য রয়েছে থাকবেন।

সেনাপ্রধান তাঁর বক্তবে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সেনাসদস্যের ভূমিকা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সেনাদের সততা, ধৈর্য্য ও দক্ষতা সূচক হিসেবে দেশবাসী তাদের নজরে দেখতে পেরেছে। এই দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব এক স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্নে সহায়তা করেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জানান, গত এক বছর দেড় বছর ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকে দেশকে স্থিতিশীল করতে সেনা সদস্যরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার জন্য তারা দেশের মানুষ চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে।

অনুষ্ঠানে সেনাসদস্যদের নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন, যেখানে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।’ তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে সেনা সদস্যরা ধৈর্য্য ও সাহসের মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, যা তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। পাশাপাশি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা সদস্যদের দক্ষতা ও বীরত্বের প্রশংসাও করেন তিনি।

বিশ্লেষকরা এই সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের পর ক্ষমতা সন্তোষজনকভাবে হস্তান্তরের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেনাবাহিনীর এই প্রফেশনাল অবস্থান সবাইকে আরেক ধাপ যেন স্বস্তি ও আস্থা দিয়ে তোলে, যেখানে নতুন সরকার শপথ নেবে, সেখানে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হস্তান্তর সম্ভব হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।