০৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি দুই যুগ পর আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দলীয় প্রধান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করা হবে—এমনটাই দলীয় সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক অন্দরের সবচেয়ে জমাট 전망। এখন আলোচনা-জল্পনার কেন্দ্রবিন্দু নতুন মন্ত্রিসভা: কে কোথায় থাকবেন, কাদের জায়গা হবে—এসব নিয়েই চলছে নাটকীয় কদমচারি।

বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি করছি বলেই সূত্রের খবর। এবারের মন্ত্রিসভা ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের তুলনায় অনেকটা ছোট হবে—মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ত্রিশের নিচে নামানো হতে পারে। দল মনে করে মন্ত্রণালয়সংখ্যা কমালে প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহি বাড়বে।

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, নতুন মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞ ও নতুন প্রজন্মের সমন্বয়। শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সদস্যরা; তাদের শপথ অনুষ্ঠান শুক্রবার/মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হওয়ার কথা রয়েছে—এর পরই চূড়ান্ত তালিকা সামনে আসবে।

সম্ভাব্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে দলের শীর্ষনেতা এবং নির্বাচিত তরুণ নেতারা—দুটি দফায় তাদের ভিন্ন মাত্রার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। যেখানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পাবেন, সেখানে নতুন ও মেধাবী তরুণরা উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে বলে জানায় দলীয় সূত্র।

আলোচনায় থাকা বড় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নূরুল ইসলাম মনি ও আবদুল আউয়াল মিন্টু।

নারী প্রতিনিধিত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে—বিশেষ করে শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-২ থেকে নির্বাচিত হওয়ায় তার সম্ভাবনা বেশি।

তরুণদের মধ্যে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন লক্ষ্মীপুর সদর থেকে বিজয়ী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, টাঙ্গাইল-৫ থেকে নির্বাচিত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা-৬ থেকে জয়ী ইশরাক হোসেন। এদের অনেককে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

此次 নির্বাচনে মিত্র দল থেকে সাতজন নেতা দল ছেড়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন; তাদের মধ্যে ঢাকা-১৩ থেকে ববি হাজ্জাজ এবং লক্ষ্মীপুর-১ থেকে সাহাদাত হোসেন সেলিম জয়ী হয়েছেন—তাদেরও প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিগত আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ ছিলেন এমন মিত্র দলগুলোর মধ্যে মাত্র তিনজন জয়ী হয়েছেন—বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায় তাদের মন্ত্রিসভায় ডাক দিতে পারেন বলে জানিয়েছে দল।

অন্যদিকে, যারা এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন না—তাদের মধ্যে অনেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে জায়গা পেতে পারেন। দলের একাধিক সূত্র বলছে, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে।

সব আলোচনা-জল্পনার মাঝেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে শপথ প্রদানের পরেই। তখনই জানা যাবে কে কোন মন্ত্রণালয় পায় এবং নতুন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত চেহারা কেমন হবে। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন—সংখ্যা কম হলেও মন্ত্রিসভা কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হবে—এটাই সরকারের লক্ষ্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন?

প্রকাশিতঃ ০৮:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি দুই যুগ পর আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দলীয় প্রধান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করা হবে—এমনটাই দলীয় সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক অন্দরের সবচেয়ে জমাট 전망। এখন আলোচনা-জল্পনার কেন্দ্রবিন্দু নতুন মন্ত্রিসভা: কে কোথায় থাকবেন, কাদের জায়গা হবে—এসব নিয়েই চলছে নাটকীয় কদমচারি।

বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি করছি বলেই সূত্রের খবর। এবারের মন্ত্রিসভা ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের তুলনায় অনেকটা ছোট হবে—মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ত্রিশের নিচে নামানো হতে পারে। দল মনে করে মন্ত্রণালয়সংখ্যা কমালে প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহি বাড়বে।

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, নতুন মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞ ও নতুন প্রজন্মের সমন্বয়। শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সদস্যরা; তাদের শপথ অনুষ্ঠান শুক্রবার/মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হওয়ার কথা রয়েছে—এর পরই চূড়ান্ত তালিকা সামনে আসবে।

সম্ভাব্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে দলের শীর্ষনেতা এবং নির্বাচিত তরুণ নেতারা—দুটি দফায় তাদের ভিন্ন মাত্রার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। যেখানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পাবেন, সেখানে নতুন ও মেধাবী তরুণরা উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে অংশ নেবেন। এর পাশাপাশি নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে বলে জানায় দলীয় সূত্র।

আলোচনায় থাকা বড় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নূরুল ইসলাম মনি ও আবদুল আউয়াল মিন্টু।

নারী প্রতিনিধিত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে—বিশেষ করে শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-২ থেকে নির্বাচিত হওয়ায় তার সম্ভাবনা বেশি।

তরুণদের মধ্যে মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন লক্ষ্মীপুর সদর থেকে বিজয়ী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, টাঙ্গাইল-৫ থেকে নির্বাচিত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা-৬ থেকে জয়ী ইশরাক হোসেন। এদের অনেককে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

此次 নির্বাচনে মিত্র দল থেকে সাতজন নেতা দল ছেড়ে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন; তাদের মধ্যে ঢাকা-১৩ থেকে ববি হাজ্জাজ এবং লক্ষ্মীপুর-১ থেকে সাহাদাত হোসেন সেলিম জয়ী হয়েছেন—তাদেরও প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিগত আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ ছিলেন এমন মিত্র দলগুলোর মধ্যে মাত্র তিনজন জয়ী হয়েছেন—বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায় তাদের মন্ত্রিসভায় ডাক দিতে পারেন বলে জানিয়েছে দল।

অন্যদিকে, যারা এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন না—তাদের মধ্যে অনেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে জায়গা পেতে পারেন। দলের একাধিক সূত্র বলছে, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে।

সব আলোচনা-জল্পনার মাঝেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে শপথ প্রদানের পরেই। তখনই জানা যাবে কে কোন মন্ত্রণালয় পায় এবং নতুন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত চেহারা কেমন হবে। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন—সংখ্যা কম হলেও মন্ত্রিসভা কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হবে—এটাই সরকারের লক্ষ্য।