১১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার, আল-শাদ্দাদি ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে সরকারি বাহিনীর

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সংকুচিত হচ্ছে — ইরাকসহ বেশ কিছু আরব দেশ থেকে নিজেদের ঘাঁটি সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন। পেছনে আরেক বড় কারণ হিসেবে স্বীকার করা হচ্ছে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবেলা ও কৌশলগত পুনর্বিন্যাস।

এর ধারাবাহিকতায় সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-শাদ্দাদি সামরিক ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, এমনটি জানিয়েছে দামেস্ক। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের পর সিরীয় আরব সেনাবাহিনীর সদস্যরা হাসাকা প্রদেশের ওই ঘাঁটির দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-শাদ্দাদি ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার নয়, বরং গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন বাহিনী ঘাঁটি ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যে। এছাড়া মার্কিন পক্ষও নিশ্চিত করেছে, চলতি মাসে জর্ডান ও ইরাক সীমান্তসংলগ্ন আল-তানফ ঘাঁটি থেকে তারা সরেছে — এক ঘোষণা অনুযায়ী ওই প্রত্যাহার ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি।

আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে নিজেদের কার্যক্রমের সময় ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী লড়াইয়ে মার্কিন সৈন্যরা আগে আল-শাদ্দাদিতে ছিল। আইএসকে পরাজিত করার লক্ষ্যে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ছিল মার্কিন জোটের অন্যতম প্রধান সহযোগী; ২০১৯ সালে আইএসের আঞ্চলিক উপস্থিতি কমাতে তাদের ভূমিকা ধরে রাখা হয়। তবে ওয়াশিংটন বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছে যে কুর্দি জোটের ওপর তাদের নির্ভরতা অনেক অংশেই কমে এসেছে।

যদিও আইএসের আঞ্চলিক পরাজয় হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে, তবু গোষ্ঠীটি এখনও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকতে পারে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, চলতি মাসে সিরিয়ায় ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আইএসের অবকাঠামো এবং অস্ত্র মজুত কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করা হয়েছে। এসব হামলা গত ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিচালিত হয়েছে, সেন্টকম বলেছে।

গুরুত্বপূর্ণ যে, সংবাদে আলোচিত কয়েকটি দাবি—বিশেষ করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন হয়েছে বা ওয়াশিংটনের সঙ্গে দামেস্কের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠেছে—এসবের স্বাধীনভাবে যাচাই এখনও স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন সূত্রে তথ্য ভিন্নভাবে প্রকাশিত হওয়ার কারণে এসব বিষয়ে সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

সামরিক প্রত্যাহার ও দখলান্তরের এই ঘটনাগুলো বোঝায় যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত উপস্থিতি বদলে যেতে পারে এবং স্থানীয় ক্ষমতা-কেন্দ্রগুলোর মধ্যে নতুন সমন্বয় দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতির আরও স্পষ্টতা পেতে নির্ভরশীল সংবাদ সংস্থা ও সরকারি ঘোষণাগুলো নজর রাখা উচিত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার, আল-শাদ্দাদি ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে সরকারি বাহিনীর

প্রকাশিতঃ ০৩:২৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সংকুচিত হচ্ছে — ইরাকসহ বেশ কিছু আরব দেশ থেকে নিজেদের ঘাঁটি সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন। পেছনে আরেক বড় কারণ হিসেবে স্বীকার করা হচ্ছে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবেলা ও কৌশলগত পুনর্বিন্যাস।

এর ধারাবাহিকতায় সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-শাদ্দাদি সামরিক ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, এমনটি জানিয়েছে দামেস্ক। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের পর সিরীয় আরব সেনাবাহিনীর সদস্যরা হাসাকা প্রদেশের ওই ঘাঁটির দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-শাদ্দাদি ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার নয়, বরং গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন বাহিনী ঘাঁটি ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যে। এছাড়া মার্কিন পক্ষও নিশ্চিত করেছে, চলতি মাসে জর্ডান ও ইরাক সীমান্তসংলগ্ন আল-তানফ ঘাঁটি থেকে তারা সরেছে — এক ঘোষণা অনুযায়ী ওই প্রত্যাহার ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি।

আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে নিজেদের কার্যক্রমের সময় ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী লড়াইয়ে মার্কিন সৈন্যরা আগে আল-শাদ্দাদিতে ছিল। আইএসকে পরাজিত করার লক্ষ্যে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ছিল মার্কিন জোটের অন্যতম প্রধান সহযোগী; ২০১৯ সালে আইএসের আঞ্চলিক উপস্থিতি কমাতে তাদের ভূমিকা ধরে রাখা হয়। তবে ওয়াশিংটন বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছে যে কুর্দি জোটের ওপর তাদের নির্ভরতা অনেক অংশেই কমে এসেছে।

যদিও আইএসের আঞ্চলিক পরাজয় হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে, তবু গোষ্ঠীটি এখনও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকতে পারে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, চলতি মাসে সিরিয়ায় ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আইএসের অবকাঠামো এবং অস্ত্র মজুত কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করা হয়েছে। এসব হামলা গত ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিচালিত হয়েছে, সেন্টকম বলেছে।

গুরুত্বপূর্ণ যে, সংবাদে আলোচিত কয়েকটি দাবি—বিশেষ করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন হয়েছে বা ওয়াশিংটনের সঙ্গে দামেস্কের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠেছে—এসবের স্বাধীনভাবে যাচাই এখনও স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন সূত্রে তথ্য ভিন্নভাবে প্রকাশিত হওয়ার কারণে এসব বিষয়ে সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

সামরিক প্রত্যাহার ও দখলান্তরের এই ঘটনাগুলো বোঝায় যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত উপস্থিতি বদলে যেতে পারে এবং স্থানীয় ক্ষমতা-কেন্দ্রগুলোর মধ্যে নতুন সমন্বয় দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতির আরও স্পষ্টতা পেতে নির্ভরশীল সংবাদ সংস্থা ও সরকারি ঘোষণাগুলো নজর রাখা উচিত।