১১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে অর্থনীতি নাজুক নতুন সরকারের সামনে পাঁচটি জরুরি চ্যালেঞ্জ ড. ইউনূস লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করবে না সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কারও চাঁদাবাজি করার সুযোগ নেই: সড়ক পরিবহণমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা তারেক রহমানের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠি, অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি শিক্ষাকে রাজনীতির বাইরেই রাখবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ড. ইউনূসসহ বিদায়ী উপদেষ্টারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর রমজানেই শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প

ছাত্রনেতা থেকে জননেতা, জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন

জহির উদ্দিন স্বপন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে এখন দেশের মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়া একজন প্রভাবশালী নেতা। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পথে তিনি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর আরও তিন বছর পার না করতেই বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধারাবাহিকভাবে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি দলের উপদেষ্টার দায়িত্বও পান। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বদৌলতে তাঁর জনপ্রিয়তা ও দায়িত্বের পরিমাণ বাড়তে থাকে। অবশেষে, মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, তিনি নতুন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভের পর তিনিই প্রথমবারের মতো সংসদে আসীন হন। এর আগে, ১৯৯৬ সালে বরিশাল-১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি ইসতেপ্যান্ড আস্থার সঙ্গে এই আসন থেকে বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আবার সংসদে eingeschর্ল হন। এবার তিনি তৃতীয়বারের জন্য সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন।

তার নির্বাচনী এলাকায় এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক আনন্দে ভাসেন। সন্ধ্যার পর স্থানীয় বাজারে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল বের হয়, নেতা-কর্মীদের স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে—’স্বপন ভাই, স্বপন ভাই’। ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাসের মাঝে তার এই মন্ত্রীত্বের খবর প্রত্যেকের মুখে মুখে।

জহির উদ্দিন স্বপন এর বিখ্যাত রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। এরপর ২০০১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে আবার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। এই সিরিজে এবার তাঁর তৃতীয়বারের মতো সংসদে যাওয়ার সুযোগ হলো। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও অভিজ্ঞতার জন্য এই আসনটি সফলভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে।

সংসদে থাকার সময় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটি অন দ্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন কমিটিতে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত। সরকারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিনি বেশ ফলপ্রসূ কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। দুবার তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরূপে অংশ নেন। মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করা ‘পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন’ (PGA) এর এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী স্বপন তার মূল দক্ষতার মধ্যে রাজনৈতিক কৌশল, নীতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা অন্যতম।

অফিসিয়াল সংবাদের এই মুহূর্তে, জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার মূল্য দিতে চাই। তাদের প্রত্যাশা পূরণে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের ও মানুষের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করতে আমি প্রচেষ্টা চালাব। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে অর্থনীতি নাজুক

ছাত্রনেতা থেকে জননেতা, জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন

প্রকাশিতঃ ১১:৪৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জহির উদ্দিন স্বপন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে এখন দেশের মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়া একজন প্রভাবশালী নেতা। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পথে তিনি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর আরও তিন বছর পার না করতেই বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধারাবাহিকভাবে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি দলের উপদেষ্টার দায়িত্বও পান। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বদৌলতে তাঁর জনপ্রিয়তা ও দায়িত্বের পরিমাণ বাড়তে থাকে। অবশেষে, মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, তিনি নতুন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভের পর তিনিই প্রথমবারের মতো সংসদে আসীন হন। এর আগে, ১৯৯৬ সালে বরিশাল-১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি ইসতেপ্যান্ড আস্থার সঙ্গে এই আসন থেকে বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আবার সংসদে eingeschর্ল হন। এবার তিনি তৃতীয়বারের জন্য সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন।

তার নির্বাচনী এলাকায় এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক আনন্দে ভাসেন। সন্ধ্যার পর স্থানীয় বাজারে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল বের হয়, নেতা-কর্মীদের স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে—’স্বপন ভাই, স্বপন ভাই’। ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাসের মাঝে তার এই মন্ত্রীত্বের খবর প্রত্যেকের মুখে মুখে।

জহির উদ্দিন স্বপন এর বিখ্যাত রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। এরপর ২০০১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে আবার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। এই সিরিজে এবার তাঁর তৃতীয়বারের মতো সংসদে যাওয়ার সুযোগ হলো। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও অভিজ্ঞতার জন্য এই আসনটি সফলভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে।

সংসদে থাকার সময় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটি অন দ্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন কমিটিতে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত। সরকারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিনি বেশ ফলপ্রসূ কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। দুবার তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরূপে অংশ নেন। মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করা ‘পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন’ (PGA) এর এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী স্বপন তার মূল দক্ষতার মধ্যে রাজনৈতিক কৌশল, নীতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা অন্যতম।

অফিসিয়াল সংবাদের এই মুহূর্তে, জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার মূল্য দিতে চাই। তাদের প্রত্যাশা পূরণে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের ও মানুষের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করতে আমি প্রচেষ্টা চালাব। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’