টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী পাকিস্তান ক্রিকেট দল নামিবিয়াকে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শেষ হাসি হাসল। শ্রীলঙ্কার সিংহলিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগার নেতৃত্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে ক্রিকেটপ্রেমীরা মুগ্ধ হয়েছেন। ব্যাটে-বলে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় পাকিস্তান এই কঠিন লড়াইয়ে জয়লাভ করে এবং গ্রুপ ‘এ’ থেকে চার ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দল হিসেবে সুপার এইটে স্থান নিশ্চিত করে। এর আগে গ্রুপের অন্য দল ভারত ইতোমধ্যেই পরবর্তী রাউন্ডের জন্য নিজের জায়গা পাকা করেছে। এই জয়ে কপাল পোড়াল দুটি দল যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের; এছাড়া, ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর, নামিবিয়াও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল।
প্রথমে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। শুরু থেকে ব্যাটসম্যানরা নামিবিয়ান বোলারদের উপর দাপট দেখাতে থাকেন। ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুবের দৃঢ়তা থাকা ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওপেনিং জুটিতে ৩১ বলে ৪০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান বড় সংগ্রহের পথ তৈরি করে। সাইম আউট হলেও, ফারহান ছিলেন অটুট। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক সালমান আগার সাথে গড়ে ওঠে ৪২ বলে ৬৭ রানের জুটি। সালমান ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হলে, ফারহান চতুর্থ উইকেটে Shadab Khanকে নিয়ে তান্ডব শুরু করেন। এই জুটিতে মাত্র ৪০ বলে ৮১ রান যোগ হয়, যেখানে ফারহানের অবদান ছিল মূল। ৪৩তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার। ৫৭ বলে নিজের ১০০ রানের ইনিংসটি পাকিস্তানের জন্য অসাধারণ। শাদাব খানও ২২ বলে ৩৬ রান করে কার্যকরী এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশি ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান করে।
গন্তব্যে থাকা লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০০ রানের। এমন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নামিবিয়া অলআউট হতে থাকে। বিশেষ করে উসমান তারেক ও শাদাব খানের ঘূর্ণি জাদুতে ব্যাটাররা ছিল দিশেহারা। সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন ওপেনার লরেন স্টিনক্যাম্প, আর আলেকজান্ডার বাসিং ভোলশেঙ্ক করেন ২০। বাকি ব্যাটাররা দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে ১৭.৩ ওভারে মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় নামিবিয়ান ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে লেগ স্পিনার উসমান তারেক ৩.৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন, আর শাদাব খান ৪ ওভারে ১৯ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন।
এই বড় জয় পাকিস্তান দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। শুরুতে হারের শঙ্কায় থাকলেও, এই জয়ে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে কঠিন প্রতিযোগিতার সামনে প্রস্তুত হলো। শাহিবজাদা ফারহানের দুর্দান্ত ফর্ম এবং শাদাব খানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স পাকিস্তানের জন্য বড় স্বস্তি। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সুপার এইটে যোগ্যতা অর্জনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান বিশ্বকাপের স্বপ্ন নতুন করে জেগে উঠল।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























