আন্তর্জাতিক সঙ্গীতপ্রযোজনা প্ল্যাটফর্ম স্প্লাইসে প্রকাশিত হল আরমীন মুসার নতুন প্রজেক্ট ‘বাংলা বাউল ফোক ভোকাল’—শত বছরের পুরনো বাংলা বাউল গানকে আধুনিক সংগীতের সাথে মিলিয়ে একটি বিশ্বমানের স্যাম্পল প্যাক আকারে উপস্থাপন করার উদ্যোগ। এই সংকলনটি মূলত রয়ে্যালটি-মুক্ত ভোকাল ও স্যাম্পলসহ এমন কনটেন্ট দেবে, যা ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক মিউজিক, চলচ্চিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর বা পরীক্ষামূলক সঙ্গীত তৈরি করা যাবে।
প্রকল্পটি আরহ লেবেলের সাথে যৌথভাবে করা হয়েছে; লেবেলটি পরিচালনা করেছেন ভারতীয় সুরকার ধ্রুব গোয়েল। আরমীন মুসা বলেন, বাংলার বাউল দর্শনের আধ্যাত্মিকতা ও কাব্যিক রস আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেওয়া এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। স্যাম্পল প্যাকটি বিদেশি প্রযোজকদের জন্য বাংলা লোকসঙ্গীতকে কাজে লাগানোর একটি খুলে দেওয়া দরজার মতো কাজ করবে—যেখানে বাউলের মেলোডি, ভোকাল টেক্সচার ও আধ্যাত্মিক আভা সহজেই আনা সম্ভব হবে।
এই সংকলনের সাউন্ড মিক্সিং করেছেন ইফতেখারুল আলম শুভ। বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে দুইজন প্রখ্যাত কণ্ঠস্বর—বেবি আখতার ও লোকমান সিদ্দিকীর ভোকাল, যাদের কণ্ঠে বাউলের স্বতঃস্ফূর্ততা ও মাটির গন্ধ দরকারীভাবে ধরা পড়েছে। আরমীন মুসা বলেন, বেবি আখতার ও লোকমান সিদ্দিকীর অভিব্যক্তিই এই প্রজেক্টের প্রাণ; তাদের কণ্ঠের গভীরতা আন্তর্জাতিক সংগীত নির্মাতাদেরও মুগ্ধ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এর আগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রযোজক কিশোন খানও বেবি আখতারকে নিয়ে কাজ করেছিলেন, যেখানে বাউলসঙ্গীতকে জ্যাজ ও সমসাময়িক ঘরানায় উপস্থাপন করা হয়েছিল।
স্প্লাইসে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় শ্যাম্পল প্যাক। এর আগেই আরমীন মুসা ‘সমকালীন বাংলা কোরাস’ শিরোনামে প্রথম বাংলাদেশি প্রজেক্টটি প্ল্যাটফর্মে এনেছিলেন। নতুন এই মুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংগীত বাজারে বাংলাদেশের লোকসংগীতের উপস্থিতি আরও দৃঢ় হয়েছে। সংগীতজনেরা মনে করছেন, এই ধরনের স্যাম্পল প্যাক বিশ্বজুড়ে নতুন ফিউশন, ইলেকট্রনিক এবং চলচ্চিত্রসংগীতে বাউল সুরকে কেন্দ্রীয়ভাবে স্থান করে দেবে।
সারকথা, ‘বাংলা বাউল ফোক ভোকাল’ শুধু ঐতিহ্য সংরক্ষণ নয়—এটি বাউল সুরকে বৈশ্বিক সংগীতমঞ্চে যুক্ত করে এক নতুন দিক খুলে দেওয়ার প্রয়াস। এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের লোকসঙ্গীতকে আধুনিক ও বিশ্বজনীন ধারায় আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করার সম্ভাবনা তৈরি করবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























