০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

খুলনায় সাবেক এমপির জামাতার সন্ধান এখনো মিলেনি, নিখোঁজ তিন দিন পার

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের জামাতা ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন ওরফে সুজন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পার হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন কাজীর বাবা, ব্যবসায়ী কাজী আবদুস সোবহান। তিনি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী আবদুস সোবহান বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পরে রাত ৮টার দিকে তার ছেলে নগরের পুলিশ লাইনস জামে মসজিদে তারাবির নামাজ পড়তে বাসা থেকে বের হন। নামাজ শেষে প্রায় অর্ধঘণ্টা পর তিনি মসজিদ থেকে বের হন। মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তবে এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নামাজের সময় তিনি মোবাইল ফোন বাসায় রেখে গেছিলেন, ফলে যোগাযোগের কোনো উপায় ছিল না।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে খোঁজ চালানো হলেও বেশ কিছু ক্যামেরা অচল থাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টিকে তারা রহস্যময় বলে আখ্যায়িত করেছেন।

নিখোঁজ ব্যক্তির বাবা আরও জানান, ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। র‍্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তবে এখনো কোনো অগ্রগতি প্রকাশ পায়নি।

তিনি বলেন, তার ছেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও যেতেন না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে থাকেন। এমন একজন মানুষ কী কারণ ছাড়াই নিখোঁজ হয়ে গেলে এটি রহস্যের গভীরতা বাড়ায়।

পরিবারের দাবি, কাজী নিজাম উদ্দিন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। তিনি পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার মা, স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও তার খোঁজে জোরালো পদক্ষেপের জন্য আহ্বান জানান।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সিসিটিভি বিশ্লেষণ করেছি, তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার মতো কিছুই পাইনি। আমরা আন্তরিকভাবে বিষয়টি দেখছি।’

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

খুলনায় সাবেক এমপির জামাতার সন্ধান এখনো মিলেনি, নিখোঁজ তিন দিন পার

প্রকাশিতঃ ১০:২০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের জামাতা ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন ওরফে সুজন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পার হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন কাজীর বাবা, ব্যবসায়ী কাজী আবদুস সোবহান। তিনি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী আবদুস সোবহান বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পরে রাত ৮টার দিকে তার ছেলে নগরের পুলিশ লাইনস জামে মসজিদে তারাবির নামাজ পড়তে বাসা থেকে বের হন। নামাজ শেষে প্রায় অর্ধঘণ্টা পর তিনি মসজিদ থেকে বের হন। মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তবে এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নামাজের সময় তিনি মোবাইল ফোন বাসায় রেখে গেছিলেন, ফলে যোগাযোগের কোনো উপায় ছিল না।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে খোঁজ চালানো হলেও বেশ কিছু ক্যামেরা অচল থাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টিকে তারা রহস্যময় বলে আখ্যায়িত করেছেন।

নিখোঁজ ব্যক্তির বাবা আরও জানান, ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। র‍্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তবে এখনো কোনো অগ্রগতি প্রকাশ পায়নি।

তিনি বলেন, তার ছেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও যেতেন না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে থাকেন। এমন একজন মানুষ কী কারণ ছাড়াই নিখোঁজ হয়ে গেলে এটি রহস্যের গভীরতা বাড়ায়।

পরিবারের দাবি, কাজী নিজাম উদ্দিন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। তিনি পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার মা, স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও তার খোঁজে জোরালো পদক্ষেপের জন্য আহ্বান জানান।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সিসিটিভি বিশ্লেষণ করেছি, তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার মতো কিছুই পাইনি। আমরা আন্তরিকভাবে বিষয়টি দেখছি।’