১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা প্রদান

ঈদ সামনে রেখে দেশের ব্যাংকিং секторে তরলতার সংকট মোকাবেলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০০০ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন করা হয়েছে। এই সহায়তা ১১.৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের জন্য প্রদান করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকদের নগদ টাকা উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তা মেটানো যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ন্যাশনাল ব্যাংক বর্তমানে তারল্য সংকটের মুখোমুখি, যার কারণে গ্রাহকদের অর্থ সময়মতো ফেরত দিতে সমস্যা হচ্ছে। এর জেরেই ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ সহায়তা চেয়ে আবেদন করে। ব্যাংকের আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগে নগদ অর্থের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে, ফলে অতিরিক্ত তরলতার প্রয়োজন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো জানান, আমানত সংগ্রহ ও ঋণ আদায় দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে এই ধরনের সহায়তা দেয়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। তবে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় এটি সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হলো আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সহায়তা দিলে সেগুলোর বন্ধ হওয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, এমন সহায়তা মূল্যস্ফীতির উপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অন্য এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অর্থজনিত সাহায্য ‘ডিমান্ড প্রমিসরি’ (ডিপি) নোটের বিপরীতে দেয়া হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সংরক্ষিত অবস্থানে রয়েছে, যেখানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নীতি সুদ হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও মালিকানা পরিবর্তনের কারণে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময় পর্ষদ পুনর্গঠন ও নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও এটি সাবলীল অবস্থায় ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই তারল্য সহায়তাও সেই ধারারই অংশ, যা ব্যাংকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য একান্ত প্রয়োজন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা প্রদান

প্রকাশিতঃ ০৩:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঈদ সামনে রেখে দেশের ব্যাংকিং секторে তরলতার সংকট মোকাবেলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০০০ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন করা হয়েছে। এই সহায়তা ১১.৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের জন্য প্রদান করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকদের নগদ টাকা উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তা মেটানো যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ন্যাশনাল ব্যাংক বর্তমানে তারল্য সংকটের মুখোমুখি, যার কারণে গ্রাহকদের অর্থ সময়মতো ফেরত দিতে সমস্যা হচ্ছে। এর জেরেই ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ সহায়তা চেয়ে আবেদন করে। ব্যাংকের আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগে নগদ অর্থের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে, ফলে অতিরিক্ত তরলতার প্রয়োজন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো জানান, আমানত সংগ্রহ ও ঋণ আদায় দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে এই ধরনের সহায়তা দেয়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। তবে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় এটি সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হলো আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সহায়তা দিলে সেগুলোর বন্ধ হওয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, এমন সহায়তা মূল্যস্ফীতির উপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অন্য এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অর্থজনিত সাহায্য ‘ডিমান্ড প্রমিসরি’ (ডিপি) নোটের বিপরীতে দেয়া হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সংরক্ষিত অবস্থানে রয়েছে, যেখানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নীতি সুদ হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও মালিকানা পরিবর্তনের কারণে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময় পর্ষদ পুনর্গঠন ও নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও এটি সাবলীল অবস্থায় ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই তারল্য সহায়তাও সেই ধারারই অংশ, যা ব্যাংকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য একান্ত প্রয়োজন।