১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরত আসছে শেয়ার বাজারে

শেয়ার বাজারে গত দুই বছর ধরে চলমান ধারাবাহিক নিম্নমুখীতার পর বাংলার বিনিয়োগকারীরা আবার নতুন করে সেন্টিমেন্ট ফিরে পাচ্ছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশের শেয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অনেক বাড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিক্রির পক্ষে থাকলে এখন তারা সক্রিয়ভাবে শেয়ার কিনতে শুরু করেছেন, যা বাজারে নতুন আশা জাগছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছেন। একই সময়ে তারা বিক্রি করেছেন ১৭৯ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার, যার ফলে এই মাসে নিট বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৫ দিনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম অর্ধেও তাদের লেনদেন ছিল ১১৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

বাজারের সাথে সম্পৃক্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের তরলতা অবস্থা আরও উন্নত হতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরও সক্রিয় উপস্থিতি স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াচ্ছে, যা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে।

তবে, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের তথ্য আলাদা ছবি দেখাচ্ছে। জানুয়ারির শুরুতে বিদেশি হিসাবধারীদের বেনিফিশিয়ারিরি ওয়ার্স বা বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৫৪৯টি। ফেব্রুয়ারির ১৫ দিনের মধ্যে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ১০১টিতে, অর্থাৎ এই সময়ে ৪৪৮টি বিও হিসাব হ্রাস পেয়েছে। যদিও হিসাবের সংখ্যায় কমলেও বিনিয়োগের অঙ্ক বেড়েছে।

ডিএসইর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিদেশিরা ২ হাজার ৯৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেন, যেখানে তারা কিনেছেন ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার শেয়ার। বছরশেষে তাদের নিট বিনিয়োগ সূচক থেকে প্রায় ২৭০ কোটি টাকা কমে গেছে। এর আগে ২০২৪ সালেও নিট বিনিয়োগ কমেছিল ২৬১ কোটি টাকার মত। তবে, ২০২৩ সালে তারা ৬৪ কোটি টাকার ইতিবাচক নিট বিনিয়োগ করেছিলেন। গত আট বছরে সাত বছরই বিদেশিদের বিনিয়োগ ছিল নেতিবাচক।

বলা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবস্থান ছিল ইতিবাচক—বিশেষ করে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে শেয়ার কেনেন, যা ডিএসইএক্স সূচককে উর্ধ্বমুখী করে তোলে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক বিক্রির মাধ্যমে তারা বাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরত আসছে শেয়ার বাজারে

প্রকাশিতঃ ০৪:৫১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শেয়ার বাজারে গত দুই বছর ধরে চলমান ধারাবাহিক নিম্নমুখীতার পর বাংলার বিনিয়োগকারীরা আবার নতুন করে সেন্টিমেন্ট ফিরে পাচ্ছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশের শেয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অনেক বাড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিক্রির পক্ষে থাকলে এখন তারা সক্রিয়ভাবে শেয়ার কিনতে শুরু করেছেন, যা বাজারে নতুন আশা জাগছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছেন। একই সময়ে তারা বিক্রি করেছেন ১৭৯ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার, যার ফলে এই মাসে নিট বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৫ দিনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম অর্ধেও তাদের লেনদেন ছিল ১১৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

বাজারের সাথে সম্পৃক্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের তরলতা অবস্থা আরও উন্নত হতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরও সক্রিয় উপস্থিতি স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াচ্ছে, যা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে।

তবে, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের তথ্য আলাদা ছবি দেখাচ্ছে। জানুয়ারির শুরুতে বিদেশি হিসাবধারীদের বেনিফিশিয়ারিরি ওয়ার্স বা বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৫৪৯টি। ফেব্রুয়ারির ১৫ দিনের মধ্যে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ১০১টিতে, অর্থাৎ এই সময়ে ৪৪৮টি বিও হিসাব হ্রাস পেয়েছে। যদিও হিসাবের সংখ্যায় কমলেও বিনিয়োগের অঙ্ক বেড়েছে।

ডিএসইর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিদেশিরা ২ হাজার ৯৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেন, যেখানে তারা কিনেছেন ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার শেয়ার। বছরশেষে তাদের নিট বিনিয়োগ সূচক থেকে প্রায় ২৭০ কোটি টাকা কমে গেছে। এর আগে ২০২৪ সালেও নিট বিনিয়োগ কমেছিল ২৬১ কোটি টাকার মত। তবে, ২০২৩ সালে তারা ৬৪ কোটি টাকার ইতিবাচক নিট বিনিয়োগ করেছিলেন। গত আট বছরে সাত বছরই বিদেশিদের বিনিয়োগ ছিল নেতিবাচক।

বলা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবস্থান ছিল ইতিবাচক—বিশেষ করে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে শেয়ার কেনেন, যা ডিএসইএক্স সূচককে উর্ধ্বমুখী করে তোলে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক বিক্রির মাধ্যমে তারা বাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নেন।