০১:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

ভাঙ্গুড়ায় বিয়ের ২৯ দিন পর নববধূ ফাতেমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের উত্তর মেন্দা গ্রামে বিয়ের ২৯ দিন পর স্বামীর বাড়ি থেকেই এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম ফাতেমা খাতুন (বয়স সম্পর্কে তথ্য মেলেনি), তিনি স্বামী ইমন হোসেনের বাড়িতে বসবাস করতেন। স্থানীয়রা গত সোমবার (২ মার্চ) বিকালে তার শয়নকক্ষে ফাতেমার ঝুলন্ত দেহ দেখেন এবং দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

পরিবার ও আশপাশের লোকজন জানিয়েছেন, ফাতেমা অষ্টমনিষা উপজেলার উত্তর কলকতি গ্রামের একজনের মেয়ে। বাল্যবেলায় পরিচয় থেকে ইমনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত পরিবারে সম্মতিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ফাতেমা স্বামীর উত্তর মেন্দার বাড়িতেই ছিল। ইমন ভ্যানযোগে দুধ পরিবহন করে এবং তার পিতামাতার সঙ্গে ওই বাড়িতেই থাকেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পরিচয় চলাকালীন দুই পক্ষই পরিবারের প্রতি হুমকি দিয়ে বলতেন—বিবাহ না হলে তারা আত্মহত্যা করবেন। পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হলেও ফাতেমার হঠাৎ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও রহস্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনায় ইমনের মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না; বিকালে রান্নার প্রস্তুতির সময় ফাতেমা নিজের শয়নকক্ষের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে পড়েন। ইমনের ছোট ভাই জানালা দিয়ে বিষয়টি দেখে ডাকচিৎকার করলে পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে মাথায় পানি ঢেলে চেষ্টাও করেন, কিন্তু তখনও তিনি বাঁচাতে সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থল ও পরিবারের ভাষ্য নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে থানা পুলিশের টীম। ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের এসআই রেজাউল করিম জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে লাশ সংগ্রহ করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, কেন ফাতেমা এমনকী পথ বেছে নিয়েছিলেন—তার কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। পরিবার ও পুলিশ ময়নাতদন্তের ফলাফল ও অনুসন্ধান থেকে ঘটনার কারণ উদঘাটনের অপেক্ষায় আছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

ভাঙ্গুড়ায় বিয়ের ২৯ দিন পর নববধূ ফাতেমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিতঃ ০৮:২৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের উত্তর মেন্দা গ্রামে বিয়ের ২৯ দিন পর স্বামীর বাড়ি থেকেই এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম ফাতেমা খাতুন (বয়স সম্পর্কে তথ্য মেলেনি), তিনি স্বামী ইমন হোসেনের বাড়িতে বসবাস করতেন। স্থানীয়রা গত সোমবার (২ মার্চ) বিকালে তার শয়নকক্ষে ফাতেমার ঝুলন্ত দেহ দেখেন এবং দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

পরিবার ও আশপাশের লোকজন জানিয়েছেন, ফাতেমা অষ্টমনিষা উপজেলার উত্তর কলকতি গ্রামের একজনের মেয়ে। বাল্যবেলায় পরিচয় থেকে ইমনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত পরিবারে সম্মতিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ফাতেমা স্বামীর উত্তর মেন্দার বাড়িতেই ছিল। ইমন ভ্যানযোগে দুধ পরিবহন করে এবং তার পিতামাতার সঙ্গে ওই বাড়িতেই থাকেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পরিচয় চলাকালীন দুই পক্ষই পরিবারের প্রতি হুমকি দিয়ে বলতেন—বিবাহ না হলে তারা আত্মহত্যা করবেন। পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হলেও ফাতেমার হঠাৎ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও রহস্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনায় ইমনের মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না; বিকালে রান্নার প্রস্তুতির সময় ফাতেমা নিজের শয়নকক্ষের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে পড়েন। ইমনের ছোট ভাই জানালা দিয়ে বিষয়টি দেখে ডাকচিৎকার করলে পার্শ্ববর্তী লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে মাথায় পানি ঢেলে চেষ্টাও করেন, কিন্তু তখনও তিনি বাঁচাতে সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থল ও পরিবারের ভাষ্য নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে থানা পুলিশের টীম। ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের এসআই রেজাউল করিম জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে লাশ সংগ্রহ করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, কেন ফাতেমা এমনকী পথ বেছে নিয়েছিলেন—তার কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। পরিবার ও পুলিশ ময়নাতদন্তের ফলাফল ও অনুসন্ধান থেকে ঘটনার কারণ উদঘাটনের অপেক্ষায় আছেন।