০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদযাত্রায় তেলের ভোগান্তি, বাসচালক ও পরিবহনকর্মীর দুর্ভোগ চলছেই ঢাকা থেকে ১৭ দিনে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮টি ফ্লাইট বাতিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক ঘোষণা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে দিন-রাত কাজ করবে সরকার: তারেক রহমান র‍্যাব ও পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রতিনিধি হলেন আবদুর রহমান সানী বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৈষম্য তদন্তে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, মাসিক ক্ষতি প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা ডা. জাহেদ উর রহমানকে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাইলাতুল কদর: প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক শুভেচ্ছা

ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রা চাহিদা কমাতে ও ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কার্যালয়ে পৃথক ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, নগদ ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুরক্ষিত পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ সোমবার (১৬ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও)-কে প্রধান কার্যালয়ে সম্পূর্ণ কার্যকর একটি ইউনিট গঠন করে কাজ করতে হবে।

নির্দেশনায় গতানুগতিক সুবিধার বাইরে বাংলা কিউআর, ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো, এমএফএস, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, পিওএস ও অনলাইন পেমেন্টের প্রসারকে প্রাধান্য দিয়ে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগের অংশ হিসেবে খুচরা ব্যবসা বা মার্চেন্টদের লাইসেন্স প্রদানের সময় বাংলা কিউআর লেনদেনে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; এতে ছোট ও প্রান্তিক ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা সহজ হবে।

ইউনিটটি তিন ধরনের কাজ করবে—নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়। ব্যাংকে ইউনিটটির তত্ত্বাবধান পেমেন্ট সিস্টেম সংক্রান্ত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা করবেন; আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানগুলিতে সেটি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ঠিক এক ধাপ নিচের কর্মকর্তা তদারকি করবেন। ব্যাংকে কমপক্ষে চারজন এবং এমএফএস/পিএসপি/পিএসও-তে কমপক্ষে দুইজন কর্মকর্তাকে ওই ইউনিটে নিয়োগ দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য প্রত্যেক ব্যাংকে উপ-মহাব্যবস্থাপক বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট করতে বলা হয়েছে। এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানগুলিতে এ দায়িত্বে থাকবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা।

ইউনিটের কাজের মধ্যে রয়েছে কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সমন্বয় করা। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বছরে একবার ক্যাশলেস উদ্যোগের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি পৃথক প্রতিবেদন পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে এবং প্রতি বছরের মার্চ মাসের শেষ কর্মদিবসে সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এ উদ্যোগ কার্যকর করার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, বাণিজ্য সংগঠনসহ সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। সার্কুলারে উল্লেখ আছে, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করে প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনাটি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা থেকে ১৭ দিনে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮টি ফ্লাইট বাতিল

ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রা চাহিদা কমাতে ও ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কার্যালয়ে পৃথক ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, নগদ ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুরক্ষিত পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ সোমবার (১৬ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও)-কে প্রধান কার্যালয়ে সম্পূর্ণ কার্যকর একটি ইউনিট গঠন করে কাজ করতে হবে।

নির্দেশনায় গতানুগতিক সুবিধার বাইরে বাংলা কিউআর, ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো, এমএফএস, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, পিওএস ও অনলাইন পেমেন্টের প্রসারকে প্রাধান্য দিয়ে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগের অংশ হিসেবে খুচরা ব্যবসা বা মার্চেন্টদের লাইসেন্স প্রদানের সময় বাংলা কিউআর লেনদেনে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; এতে ছোট ও প্রান্তিক ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা সহজ হবে।

ইউনিটটি তিন ধরনের কাজ করবে—নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়। ব্যাংকে ইউনিটটির তত্ত্বাবধান পেমেন্ট সিস্টেম সংক্রান্ত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা করবেন; আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানগুলিতে সেটি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ঠিক এক ধাপ নিচের কর্মকর্তা তদারকি করবেন। ব্যাংকে কমপক্ষে চারজন এবং এমএফএস/পিএসপি/পিএসও-তে কমপক্ষে দুইজন কর্মকর্তাকে ওই ইউনিটে নিয়োগ দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য প্রত্যেক ব্যাংকে উপ-মহাব্যবস্থাপক বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট করতে বলা হয়েছে। এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানগুলিতে এ দায়িত্বে থাকবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা।

ইউনিটের কাজের মধ্যে রয়েছে কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সমন্বয় করা। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বছরে একবার ক্যাশলেস উদ্যোগের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি পৃথক প্রতিবেদন পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে এবং প্রতি বছরের মার্চ মাসের শেষ কর্মদিবসে সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এ উদ্যোগ কার্যকর করার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, বাণিজ্য সংগঠনসহ সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। সার্কুলারে উল্লেখ আছে, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করে প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনাটি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।