০১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা

ব্রাজিলভিত্তিক খনি প্রতিষ্ঠান ভেল বলছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি এই পূর্বাভাস তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে জানিয়েছে; বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News-এ প্রকাশিত হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় খনি কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ মিলিয়ে বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ পড়ছে। একই সময়ে প্রধান আমদানিকারক চীনে চাহিদা কিছুটা ধীরে কমায় দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেন, খনিখাত এখন বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মুখে রয়েছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন বেশি ব্যয়বহুল হচ্ছে এবং অনেক জায়গায় মজুদ কমে আসায় কোম্পানিগুলোকে নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় ভেল তাদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বৃদ্ধি করে প্রায় ১০০ ডলারে নির্ধারণ করেছে।

ভেলের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলছেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং মজুদ কমে যাওয়ার ফলে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এমন একটি বাজারগত ভারসাম্য তৈরী হচ্ছে যেখানে টনপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করলে উৎপাদনকারীদের জন্য আর লাভজনক থাকা কঠিন — যা এখন শিল্পজগতের কার্যকর ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ভেল তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। সাধারণ মানের আকরিকের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমানের প্রিমিয়াম গ্রেড আকরিক উৎপাদনে বেশি জোর দিচ্ছে। ২০২৫ সালের দিকে তাদের উৎপাদনের বড় অংশই উন্নত মানের ‘পেলেট ফিড’ এবং ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিকে রূপান্তরিত হয়েছে; এসব আকরিক পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহার হয়।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ইস্পাত শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় ভেল আশা করে যে এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

অধিকন্তু, কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোরও পরিকল্পনা করেছে যাতে ভবিষ্যতে সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায় এবং বাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়ে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ব্রাজিলভিত্তিক খনি প্রতিষ্ঠান ভেল বলছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি এই পূর্বাভাস তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে জানিয়েছে; বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News-এ প্রকাশিত হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় খনি কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ মিলিয়ে বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ পড়ছে। একই সময়ে প্রধান আমদানিকারক চীনে চাহিদা কিছুটা ধীরে কমায় দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেন, খনিখাত এখন বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মুখে রয়েছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন বেশি ব্যয়বহুল হচ্ছে এবং অনেক জায়গায় মজুদ কমে আসায় কোম্পানিগুলোকে নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় ভেল তাদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বৃদ্ধি করে প্রায় ১০০ ডলারে নির্ধারণ করেছে।

ভেলের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলছেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং মজুদ কমে যাওয়ার ফলে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এমন একটি বাজারগত ভারসাম্য তৈরী হচ্ছে যেখানে টনপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করলে উৎপাদনকারীদের জন্য আর লাভজনক থাকা কঠিন — যা এখন শিল্পজগতের কার্যকর ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ভেল তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। সাধারণ মানের আকরিকের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমানের প্রিমিয়াম গ্রেড আকরিক উৎপাদনে বেশি জোর দিচ্ছে। ২০২৫ সালের দিকে তাদের উৎপাদনের বড় অংশই উন্নত মানের ‘পেলেট ফিড’ এবং ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিকে রূপান্তরিত হয়েছে; এসব আকরিক পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহার হয়।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ইস্পাত শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় ভেল আশা করে যে এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

অধিকন্তু, কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোরও পরিকল্পনা করেছে যাতে ভবিষ্যতে সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায় এবং বাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বাড়ে।