০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেল: আকরিক লোহা টনপ্রতি ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে

বিশ্বের শীর্ষ খনি প্রতিষ্ঠান ভেল বলেছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রাজিলভিত্তিক কোম্পানিটি তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News-এ প্রকাশিত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া ও বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর ফলে বাজারে প্রাথমিকভাবে সরবরাহ বেড়েছে। এর সঙ্গে প্রধান আমদানিকারক চীনের চাহিদা ধীরে কমায় একটি নতুন সাপ্লাই-ডিমান্ড ভারসাম্য গঠিত হয়েছে, যা হঠাৎ করে দরপতন আটকাতে সহায়তা করছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা জানিয়েছেন, খনি খাত বর্তমানে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি মজুদও কমে এসেছে। ফলে অনেক কোম্পানিকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা মোট উৎপাদন খরচ বাড়ায়। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে ভেল তাদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

ভেলের বাণিজ্যিক ও উন্নয়নবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং মজুদ হ্রাসের ফলে বিশ্বজুড়ে খনিগুলো প্রতি বছরে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারাচ্ছে। এর ফলে এমন একটি বাজার সঙ্কট তৈরি হচ্ছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করলে উৎপাদকদের জন্য আর লাভজনক নয় — এটিকে তারা শিল্পের ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন।

বাজার বাস্তবতা ও পরিবেশগত চাহিদা মাথায় রেখে ভেল তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। সাধারণ মানের আকরিকের বদলে তারা এখন উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেডের আকরিক উৎপাদনে বেশি জোর দিচ্ছে। ভেল জানায়, ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের উৎপাদনের বড় অংশই উন্নতমানের ‘পেলেট ফিড’ এবং ব্রাজিলিয়ান ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিকের ওপর নির্ভর করবে, যা ইস্পাতশিল্পে পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় বেশি ব্যবহৃত হয়।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমে এলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ইস্পাত শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় সেখানে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভেলের আশাবাদ, এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

এছাড়া ভেল ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাদের উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোরও পরিকল্পনা করেছে, যা ভবিষ্যতে সরবরাহ-সামর্থ্য উন্নত করে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব পরিবর্তন ও পরিকল্পনা ইস্পাত উৎপাদনকারী ও খনি খাতের জন্য ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদের দিনে মেট্রোরেল সম্পূর্ণ বন্ধ

ভেল: আকরিক লোহা টনপ্রতি ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের শীর্ষ খনি প্রতিষ্ঠান ভেল বলেছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রাজিলভিত্তিক কোম্পানিটি তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News-এ প্রকাশিত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া ও বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর ফলে বাজারে প্রাথমিকভাবে সরবরাহ বেড়েছে। এর সঙ্গে প্রধান আমদানিকারক চীনের চাহিদা ধীরে কমায় একটি নতুন সাপ্লাই-ডিমান্ড ভারসাম্য গঠিত হয়েছে, যা হঠাৎ করে দরপতন আটকাতে সহায়তা করছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা জানিয়েছেন, খনি খাত বর্তমানে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি মজুদও কমে এসেছে। ফলে অনেক কোম্পানিকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা মোট উৎপাদন খরচ বাড়ায়। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে ভেল তাদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

ভেলের বাণিজ্যিক ও উন্নয়নবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং মজুদ হ্রাসের ফলে বিশ্বজুড়ে খনিগুলো প্রতি বছরে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারাচ্ছে। এর ফলে এমন একটি বাজার সঙ্কট তৈরি হচ্ছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করলে উৎপাদকদের জন্য আর লাভজনক নয় — এটিকে তারা শিল্পের ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন।

বাজার বাস্তবতা ও পরিবেশগত চাহিদা মাথায় রেখে ভেল তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। সাধারণ মানের আকরিকের বদলে তারা এখন উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেডের আকরিক উৎপাদনে বেশি জোর দিচ্ছে। ভেল জানায়, ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের উৎপাদনের বড় অংশই উন্নতমানের ‘পেলেট ফিড’ এবং ব্রাজিলিয়ান ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিকের ওপর নির্ভর করবে, যা ইস্পাতশিল্পে পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় বেশি ব্যবহৃত হয়।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমে এলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ইস্পাত শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় সেখানে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভেলের আশাবাদ, এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

এছাড়া ভেল ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাদের উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোরও পরিকল্পনা করেছে, যা ভবিষ্যতে সরবরাহ-সামর্থ্য উন্নত করে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব পরিবর্তন ও পরিকল্পনা ইস্পাত উৎপাদনকারী ও খনি খাতের জন্য ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।