১১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছার সম্ভাবনা

বিশ্বের শীর্ষ খনি প্রতিষ্ঠান ভেল বলছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রাজিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস জানিয়েছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping Newsেও প্রকাশ পায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গিনির সিমান্দু খনিতে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় খনি কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ বাজারে সরবরাহ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে প্রধান আমদানিকারক চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে—এই দ্বৈত প্রভাবেই দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্থির হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেন, খনি খাতে এখন কাঠামোগত পরিবর্তন চলে। পুরনো খনিগুলোর থেকে আকরিক উত্তোলন তুলনামূলকভাবে অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং মজুদও কমে এসেছে, ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিম্নমানের আকরিকে হাত দিতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতার কারণে ভেল দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাসটিকে টনপ্রতি প্রায় ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় ও মজুদ হ্রাসের ফলে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এমন একটি বাজার ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করলে উৎপাদনকারীদের জন্য লাভরক্ষণ করা কঠিন, ফলে এটি শিল্পের জন্য কার্যত ব্রেক-ইভেন পয়েন্টে পরিণত হচ্ছে।

পরিবর্তিত বাজার বাস্তবতায় ভেলও তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তারা সাধারণ মানের আকরিকের বদলে উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেডের আকরিক উৎপাদনের দিকে বেশি মনোনিবেশ করছে—বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে ব্যবহৃত ‘পেলেট ফিড’ ও ব্রাজিলের পরিচিত ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিকে।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে ইস্পাত শিল্প দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় সেখানে চাহিদা বাড়ছে। ভেলের আশা, এসব অঞ্চলের অতিরিক্ত চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোরও পরিকল্পনা নিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছার সম্ভাবনা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের শীর্ষ খনি প্রতিষ্ঠান ভেল বলছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রাজিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস জানিয়েছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping Newsেও প্রকাশ পায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গিনির সিমান্দু খনিতে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় খনি কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ বাজারে সরবরাহ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে প্রধান আমদানিকারক চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে—এই দ্বৈত প্রভাবেই দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্থির হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেন, খনি খাতে এখন কাঠামোগত পরিবর্তন চলে। পুরনো খনিগুলোর থেকে আকরিক উত্তোলন তুলনামূলকভাবে অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং মজুদও কমে এসেছে, ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিম্নমানের আকরিকে হাত দিতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতার কারণে ভেল দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাসটিকে টনপ্রতি প্রায় ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় ও মজুদ হ্রাসের ফলে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এমন একটি বাজার ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করলে উৎপাদনকারীদের জন্য লাভরক্ষণ করা কঠিন, ফলে এটি শিল্পের জন্য কার্যত ব্রেক-ইভেন পয়েন্টে পরিণত হচ্ছে।

পরিবর্তিত বাজার বাস্তবতায় ভেলও তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তারা সাধারণ মানের আকরিকের বদলে উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেডের আকরিক উৎপাদনের দিকে বেশি মনোনিবেশ করছে—বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে ব্যবহৃত ‘পেলেট ফিড’ ও ব্রাজিলের পরিচিত ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিকে।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে ইস্পাত শিল্প দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় সেখানে চাহিদা বাড়ছে। ভেলের আশা, এসব অঞ্চলের অতিরিক্ত চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোরও পরিকল্পনা নিয়েছে।