০৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ

দেওয়ানগঞ্জে ভাসমান সেতু ধসে পাঁচ শিশুর মৃত্যু; জানাজা ও দাফন সম্পন্ন, তদন্ত কমিটি গঠন

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান সেতু ধসে পড়ায় নিহত পাঁচ শিশুর জানাজা ও দাফন রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে তাদের নিজ নিজ এলাকায় সম্পন্ন হয়েছে। দুর্ঘটনায় শোক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়; আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা বিশ্বস্ত শব্দও হারিয়ে ফেলেছেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন অনেকে।

জেলা প্রশাসন নিহত প্রতিটি পরিবারের জন্য দাফন ও অন্যান্য খরচ হিসেবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে পবিত্র ঈদ উদযাপনের সময় দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনের ওই ভাসমান সেতুটিতে অতিরিক্ত মানুষের ভিড় হলে সেতুটি মানুষের ভার সহ্য করতে না পেরে হঠাৎ ধসে পড়ে। অনেকেই নদীতে পড়ে যান; বড়রা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও কয়েকটি শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার তল্লাশি চালায়। দীর্ঘ তল্লাশিচেষ্টার পর একে একে পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুগুলো হলেন: ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের মায়ামনি ও মিহাদ, ঝালুরচর এলাকার আব্দুল মোর্তালেব ও খাদিজা এবং বেলতলি এলাকার আবির হোসেন।

ঘটনার তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জামালপুর জেলা প্রশাসক মো. ইউসুপ আলী জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ভূমি অফিসের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখবে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তদন্ত শেষে সেতুর নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কোথায় ছিল তা স্পষ্ট হলে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদে সুন্দরবন: চমকপ্রদ ভ্রমণগন্তব্য হতে যাচ্ছে

দেওয়ানগঞ্জে ভাসমান সেতু ধসে পাঁচ শিশুর মৃত্যু; জানাজা ও দাফন সম্পন্ন, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশিতঃ ০২:২২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান সেতু ধসে পড়ায় নিহত পাঁচ শিশুর জানাজা ও দাফন রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে তাদের নিজ নিজ এলাকায় সম্পন্ন হয়েছে। দুর্ঘটনায় শোক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়; আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা বিশ্বস্ত শব্দও হারিয়ে ফেলেছেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন অনেকে।

জেলা প্রশাসন নিহত প্রতিটি পরিবারের জন্য দাফন ও অন্যান্য খরচ হিসেবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে পবিত্র ঈদ উদযাপনের সময় দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনের ওই ভাসমান সেতুটিতে অতিরিক্ত মানুষের ভিড় হলে সেতুটি মানুষের ভার সহ্য করতে না পেরে হঠাৎ ধসে পড়ে। অনেকেই নদীতে পড়ে যান; বড়রা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও কয়েকটি শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার তল্লাশি চালায়। দীর্ঘ তল্লাশিচেষ্টার পর একে একে পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুগুলো হলেন: ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের মায়ামনি ও মিহাদ, ঝালুরচর এলাকার আব্দুল মোর্তালেব ও খাদিজা এবং বেলতলি এলাকার আবির হোসেন।

ঘটনার তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জামালপুর জেলা প্রশাসক মো. ইউসুপ আলী জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ভূমি অফিসের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখবে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তদন্ত শেষে সেতুর নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কোথায় ছিল তা স্পষ্ট হলে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।