০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ দেড় যুগ পর ফিরে আসছে স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজ ডেপুটি স্পিকারের স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান ঈদের সফরে কুমিল্লার কোটবাড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় রূপগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈদ ছুটির পর মঙ্গলবার থেকে অফিস, আদালত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতায় পেট্রোলপাম্প বন্ধের আশঙ্কা ডা. জুবাইদা রহমান লন্ডন যাত্রা করেছেন ঈদে সুন্দরবন: চমকপ্রদ ভ্রমণগন্তব্য হতে যাচ্ছে ডা. জুবাইদা রহমান লন্ডন গেলেন কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোক

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা

ব্রাজিলভিত্তিক খনি কোম্পানি ভেল জানিয়েছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News।

বাজার বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের কারণে বৈশ্বিক যোগান বাড়ছে। একই সময়ে চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে, ফলে মুল্য ওঠা-পড়ার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেছেন, খনি খাত বড়ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মজুদও সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ভেল দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

ভেলের বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় ও মজুদের হ্রাসের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এই ঘাটতি এমন এক ভারসাম্য তৈরি করেছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করা বড় উৎপাদকদের জন্য আর লাভজনক নয় — যা এখন শিল্পের জন্য কার্যত ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বাজারের এই পরিবর্তনকে স্বীকার করে তাদের উৎপাদন-কৌশলে সমন্বয় আনার অগ্রাধিকার দিয়েছে। সাধারণ মানের আকরিকের তুলনায় এখন তারা উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেড আকরিক, বিশেষ করে ‘পেলেট ফিড’ ও ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, যেগুলো পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহার হয়।

চীনের চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে দ্রুত ইস্পাত শিল্পের সম্প্রসারণ দেখা যাচ্ছে। ভেলের আশাবাদ, এই অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

একই সঙ্গে কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে ভবিষ্যতে সরবরাহ ঝটকিকে সামলানো যায় এবং বাজারের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ব্রাজিলভিত্তিক খনি কোম্পানি ভেল জানিয়েছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News।

বাজার বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের কারণে বৈশ্বিক যোগান বাড়ছে। একই সময়ে চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে, ফলে মুল্য ওঠা-পড়ার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী গুস্তাভো পিমেন্টা বলেছেন, খনি খাত বড়ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মজুদও সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ভেল দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে।

ভেলের বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় ও মজুদের হ্রাসের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এই ঘাটতি এমন এক ভারসাম্য তৈরি করেছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করা বড় উৎপাদকদের জন্য আর লাভজনক নয় — যা এখন শিল্পের জন্য কার্যত ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বাজারের এই পরিবর্তনকে স্বীকার করে তাদের উৎপাদন-কৌশলে সমন্বয় আনার অগ্রাধিকার দিয়েছে। সাধারণ মানের আকরিকের তুলনায় এখন তারা উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেড আকরিক, বিশেষ করে ‘পেলেট ফিড’ ও ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, যেগুলো পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহার হয়।

চীনের চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে দ্রুত ইস্পাত শিল্পের সম্প্রসারণ দেখা যাচ্ছে। ভেলের আশাবাদ, এই অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

একই সঙ্গে কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে ভবিষ্যতে সরবরাহ ঝটকিকে সামলানো যায় এবং বাজারের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।