০৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ঈদের পর শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে

ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। ছুটির আগে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী অনুভূতি থাকলেও বিক্রেয় প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন খাতে শেয়ারদর কমে গেলে প্রধান সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দেয়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ঝরে পড়তে থাকে এবং বাজার দ্রুত ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। মধ্যদিনে মিউচুয়াল ফান্ডে কিছুটা ইতিবাচক স্রোত দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা সার্বিক পতন রোধ করতে পারেনি। দিনের শেষ দিকে পতনের গতি আরও বাড়ে।

এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাবসহ টানা দরপতনের পর ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে বাজারে সামান্য সবুজ সিওয়ার দেখা গিয়েছিল। সেই আশাবাদ ছুটির পর ফিরেই অবশ্য ভেঙে পড়ে।

দিন শেষে ডিএসইতে ১২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ২৪৩টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানির মধ্যে ৬৯টির দাম বাড়লেও ১২২টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা: ২২টির দাম বেড়েছে, ৫০টির কমেছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির দাম বাড়লেও ৭১টির দাম কমেছে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিটির দামই বেড়েছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৮ পয়েন্ট পতনে নেমে এসেছে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৯ পয়েন্ট পতনে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে অবস্থান করে।

সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার তুলনায় ৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনে শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড — যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। এরপর ছিল ব্র্যাক ব্যাংক (১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা) এবং রবি (১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা)। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে সিটি ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ইনটেক, শাইনপুকুর সিরামিক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)ও মন্দার ছায়া দেখা গেছে; সামগ্রিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, ৬৫টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় বাড়তি।

সংক্ষেপে, ছুটির পরে প্রথম কার্যদিবসে বাজারে ব্যাপক বিক্রি দেখা গেল; যদিও লেনদেনের গতি কিছুটা বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়েছে। বাজারের সামগ্রিক দিশা নির্ভর করবে পরবর্তী দিনগুলোর বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঘটনার ওপর।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ঈদের পর শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। ছুটির আগে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী অনুভূতি থাকলেও বিক্রেয় প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন খাতে শেয়ারদর কমে গেলে প্রধান সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দেয়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ঝরে পড়তে থাকে এবং বাজার দ্রুত ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। মধ্যদিনে মিউচুয়াল ফান্ডে কিছুটা ইতিবাচক স্রোত দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা সার্বিক পতন রোধ করতে পারেনি। দিনের শেষ দিকে পতনের গতি আরও বাড়ে।

এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাবসহ টানা দরপতনের পর ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে বাজারে সামান্য সবুজ সিওয়ার দেখা গিয়েছিল। সেই আশাবাদ ছুটির পর ফিরেই অবশ্য ভেঙে পড়ে।

দিন শেষে ডিএসইতে ১২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ২৪৩টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানির মধ্যে ৬৯টির দাম বাড়লেও ১২২টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা: ২২টির দাম বেড়েছে, ৫০টির কমেছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির দাম বাড়লেও ৭১টির দাম কমেছে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিটির দামই বেড়েছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৮ পয়েন্ট পতনে নেমে এসেছে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৯ পয়েন্ট পতনে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে অবস্থান করে।

সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার তুলনায় ৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনে শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড — যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। এরপর ছিল ব্র্যাক ব্যাংক (১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা) এবং রবি (১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা)। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে সিটি ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ইনটেক, শাইনপুকুর সিরামিক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)ও মন্দার ছায়া দেখা গেছে; সামগ্রিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, ৬৫টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় বাড়তি।

সংক্ষেপে, ছুটির পরে প্রথম কার্যদিবসে বাজারে ব্যাপক বিক্রি দেখা গেল; যদিও লেনদেনের গতি কিছুটা বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়েছে। বাজারের সামগ্রিক দিশা নির্ভর করবে পরবর্তী দিনগুলোর বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঘটনার ওপর।