০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জেদ্দায় ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর: ইউক্রেন ও সৌদি আরব

বিশ্ব রাজনীতির সংবেদনশীল মুহূর্তে প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব শক্ত করার লক্ষ্যে জেদ্দায় ইউক্রেন ও সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরে এ চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতার বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও ইউক্রেন সংকটসহ বহুবিধ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল—যা উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘোষণা করে বলেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি মূলত তাঁর সৌদি সফরের অংশ হিসেবে যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকের আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সামরিক অভিজ্ঞতা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সৌদি আরবের সঙ্গে শেয়ার করতে প্রস্তুত আছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসায় যে প্রযুক্তিগত ও রণকৌশলগত দক্ষতা তৈরি হয়েছে, সেটাই এই চুক্তির ভিত্তি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

বিশেষত ইউক্রেনের কাছে ইরানের তৈরি কামিকাজি ড্রোন মোকাবিলার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য খুবই মূল্যবান হতে পারে। জেলেনস্কির প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব ইতোমধ্যেই সৌদি আরবসহ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবসহ অঞ্চলে প্রায় ২০০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ ইউক্রেনীয় সামরিক প্রযুক্তিবিদ কাজ করছেন—এটি চুক্তির বাস্তব প্রয়োগকে আরও শক্তিশালী করবে।

সফর শেষ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শনিবার (২৮ মার্চ) জেদ্দা ত্যাগ করবেন। কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে মক্কা অঞ্চলের উপ-গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল ও সৌদি সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রাজকীয় মর্যাদায় বিদায় জানাবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্ত করে তা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা কাঠামোতেও ইউক্রেনীয় প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নতুন কৌশলগত ভারসাম্য এনে দিতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জেদ্দায় ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর: ইউক্রেন ও সৌদি আরব

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতির সংবেদনশীল মুহূর্তে প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব শক্ত করার লক্ষ্যে জেদ্দায় ইউক্রেন ও সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরে এ চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতার বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও ইউক্রেন সংকটসহ বহুবিধ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল—যা উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘোষণা করে বলেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি মূলত তাঁর সৌদি সফরের অংশ হিসেবে যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকের আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সামরিক অভিজ্ঞতা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সৌদি আরবের সঙ্গে শেয়ার করতে প্রস্তুত আছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসায় যে প্রযুক্তিগত ও রণকৌশলগত দক্ষতা তৈরি হয়েছে, সেটাই এই চুক্তির ভিত্তি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

বিশেষত ইউক্রেনের কাছে ইরানের তৈরি কামিকাজি ড্রোন মোকাবিলার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য খুবই মূল্যবান হতে পারে। জেলেনস্কির প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব ইতোমধ্যেই সৌদি আরবসহ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবসহ অঞ্চলে প্রায় ২০০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ ইউক্রেনীয় সামরিক প্রযুক্তিবিদ কাজ করছেন—এটি চুক্তির বাস্তব প্রয়োগকে আরও শক্তিশালী করবে।

সফর শেষ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শনিবার (২৮ মার্চ) জেদ্দা ত্যাগ করবেন। কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে মক্কা অঞ্চলের উপ-গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল ও সৌদি সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রাজকীয় মর্যাদায় বিদায় জানাবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্ত করে তা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা কাঠামোতেও ইউক্রেনীয় প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নতুন কৌশলগত ভারসাম্য এনে দিতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।