০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন: হামলার পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা আংশিক অক্ষত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি—এই প্রতিশ্রুতিটি দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের নতুন তথ্য, সিএনএনের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আক্রামণ চালানো হলেও ইরানের প্রায় অর্ধেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনও অক্ষত আছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মিসাইল উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সচল রয়েছে এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে হাজার হাজার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোনও সংরক্ষিত আছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবহারযোগ্য।

তবে সব লঞ্চারই ব্যবহারযোগ্য নয়—কিছু লঞ্চার বিমান হামলার পরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অপ্রবেশযোগ্য ও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এ ধরনের লঞ্চারকে কিভাবে গোনা হবে, সেটাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিমাপের মধ্যে বড় পার্থক্য সৃষ্টি করছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দাবি করেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলও মার্চে জানিয়েছিল যে তাদের হিসাব অনুযায়ী ইরানের আনুমানিক ৪৭০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে।

তবে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এসব দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ইসরায়েলি সামরিক সার্বিক তথ্য অনুযায়ী হামলায় প্রায় ২০০টি লঞ্চার ধ্বংস ও আরও ৮০টি কার্যক্ষমতা হারিয়েছিল, যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে ছিল এবং সেখানে প্রবেশপথ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘অক্ষত কিন্তু ব্যবহারযোগ্য নয়’—এই ধরনের মধ্যম অবস্থার লঞ্চারকে কিভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হবে, সেটাই মূল ফারাক। ফলে আঙ্কড়া ও ব্যাখ্যায় ভিন্নতা দেখা দিচ্ছে।

একই সূত্রে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরানের কাছে এখনো পর্যাপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়ে গেছে এবং দেশটি সারাবিভাগে ব্যাপক ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে।

তবে এই প্রতিবেদনের কন্টেন্ট হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন উভয়ই অস্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন যে, এই ধরনের তথ্য ফাঁস করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের সফলতা কাভার-আপ বা সঙ্কুচিত করা হচ্ছে।

মোটকথা, সাম্প্রতিক মূল্যায়নগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আরও স্পষ্টতার বদলে জটিলতা দেখাচ্ছে—আঞ্চলিক উত্তেজনা ও তথ্যের অভিযোজনের কারণে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন: হামলার পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা আংশিক অক্ষত

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি—এই প্রতিশ্রুতিটি দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের নতুন তথ্য, সিএনএনের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আক্রামণ চালানো হলেও ইরানের প্রায় অর্ধেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনও অক্ষত আছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মিসাইল উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সচল রয়েছে এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে হাজার হাজার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোনও সংরক্ষিত আছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবহারযোগ্য।

তবে সব লঞ্চারই ব্যবহারযোগ্য নয়—কিছু লঞ্চার বিমান হামলার পরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অপ্রবেশযোগ্য ও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এ ধরনের লঞ্চারকে কিভাবে গোনা হবে, সেটাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিমাপের মধ্যে বড় পার্থক্য সৃষ্টি করছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দাবি করেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলও মার্চে জানিয়েছিল যে তাদের হিসাব অনুযায়ী ইরানের আনুমানিক ৪৭০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে।

তবে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এসব দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ইসরায়েলি সামরিক সার্বিক তথ্য অনুযায়ী হামলায় প্রায় ২০০টি লঞ্চার ধ্বংস ও আরও ৮০টি কার্যক্ষমতা হারিয়েছিল, যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে ছিল এবং সেখানে প্রবেশপথ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘অক্ষত কিন্তু ব্যবহারযোগ্য নয়’—এই ধরনের মধ্যম অবস্থার লঞ্চারকে কিভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হবে, সেটাই মূল ফারাক। ফলে আঙ্কড়া ও ব্যাখ্যায় ভিন্নতা দেখা দিচ্ছে।

একই সূত্রে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরানের কাছে এখনো পর্যাপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়ে গেছে এবং দেশটি সারাবিভাগে ব্যাপক ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে।

তবে এই প্রতিবেদনের কন্টেন্ট হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন উভয়ই অস্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন যে, এই ধরনের তথ্য ফাঁস করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের সফলতা কাভার-আপ বা সঙ্কুচিত করা হচ্ছে।

মোটকথা, সাম্প্রতিক মূল্যায়নগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আরও স্পষ্টতার বদলে জটিলতা দেখাচ্ছে—আঞ্চলিক উত্তেজনা ও তথ্যের অভিযোজনের কারণে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।