০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইরানে বিধ্বস্ত এফ-১৫-এর দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারে সফল হয়েছে মার্কিন বিশেষবাহিনী

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের ভূখণ্ডে অভিযান চালিয়ে বিধ্বস্ত একটি এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ঈগলের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। কাতারভিত্তিক আলজাজিরার রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঘটনা সূত্রপাত করে গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল), যখন ইরানের এলিট বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে যে তারা একটি মার্কিন এফ-১৫ বিমান ভূপাতিত করেছে। ঐ ধরনের বিমানে সাধারণত দুইজন ক্রু থাকে — এক পাইলট এবং এক ওয়েপন সিস্টেম অফিসার। বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির এক ক্রুকে শুক্রবারই উদ্ধার করা হয়েছিল, আর নিখোঁজ থাকা দ্বিতীয় ক্রুর সন্ধানে শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।

পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশন ফোর্স ওই অনুসন্ধানে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। দুই দিন ধরে ইরানের আকাশে নজরদারি বিমানের ব্যবস্থা করা হয় এবং মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে অভিযান পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকাজের এক পর্যায়ে একটি হেলিকপ্টার পাইলটের কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলে অন্যান্য পথ খুঁজে অবশেষে দ্বিতীয় ক্রুর সন্ধান মিলেছে।

ওই সেনার জীবিত অবস্থান কিংবা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ওয়াশিংটন এখনও স্পষ্ট কোনো বিবৃতি দেয়নি; বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অপেক্ষমান।

ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে শুধু সামরিক সংঘর্ষ নয়, মনস্তাত্ত্বিক চাপও তৈরি করেছে। আইআরজিসি ওই নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে ধরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করেছিল এবং তেহরান থেকে সাধারণ জনগণকে সহায়তা করতে উৎসাহিত করা হয়েছিল—এ ধরনের ঘোষণার মধ্যেই মার্কিন উদ্ধার অভিযান সফল হওয়াকে বিশ্লেষকরা কৌশলগত একটি বিজয় বলছেন।

বিশ্লেষকেরা মনে করে, মার্কিন স্পেশাল বাহিনীর সরাসরি ইরানি সীমানায় প্রবেশ করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা regional উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে তেহরান কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটাই এখন আন্তর্জাতিক নজরের কেন্দ্রবিন্দু।

উদ্ধারকৃত দুই সেনার অবস্থান, চিকিৎসাসহ অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানাতে পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের গতিসূত্র ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নজরদারি করার মতো বিষয় হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইরানে বিধ্বস্ত এফ-১৫-এর দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধারে সফল হয়েছে মার্কিন বিশেষবাহিনী

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের ভূখণ্ডে অভিযান চালিয়ে বিধ্বস্ত একটি এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ঈগলের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। কাতারভিত্তিক আলজাজিরার রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঘটনা সূত্রপাত করে গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল), যখন ইরানের এলিট বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে যে তারা একটি মার্কিন এফ-১৫ বিমান ভূপাতিত করেছে। ঐ ধরনের বিমানে সাধারণত দুইজন ক্রু থাকে — এক পাইলট এবং এক ওয়েপন সিস্টেম অফিসার। বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির এক ক্রুকে শুক্রবারই উদ্ধার করা হয়েছিল, আর নিখোঁজ থাকা দ্বিতীয় ক্রুর সন্ধানে শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।

পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশন ফোর্স ওই অনুসন্ধানে সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। দুই দিন ধরে ইরানের আকাশে নজরদারি বিমানের ব্যবস্থা করা হয় এবং মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে অভিযান পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকাজের এক পর্যায়ে একটি হেলিকপ্টার পাইলটের কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলে অন্যান্য পথ খুঁজে অবশেষে দ্বিতীয় ক্রুর সন্ধান মিলেছে।

ওই সেনার জীবিত অবস্থান কিংবা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ওয়াশিংটন এখনও স্পষ্ট কোনো বিবৃতি দেয়নি; বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অপেক্ষমান।

ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে শুধু সামরিক সংঘর্ষ নয়, মনস্তাত্ত্বিক চাপও তৈরি করেছে। আইআরজিসি ওই নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে ধরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করেছিল এবং তেহরান থেকে সাধারণ জনগণকে সহায়তা করতে উৎসাহিত করা হয়েছিল—এ ধরনের ঘোষণার মধ্যেই মার্কিন উদ্ধার অভিযান সফল হওয়াকে বিশ্লেষকরা কৌশলগত একটি বিজয় বলছেন।

বিশ্লেষকেরা মনে করে, মার্কিন স্পেশাল বাহিনীর সরাসরি ইরানি সীমানায় প্রবেশ করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা regional উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে তেহরান কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটাই এখন আন্তর্জাতিক নজরের কেন্দ্রবিন্দু।

উদ্ধারকৃত দুই সেনার অবস্থান, চিকিৎসাসহ অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানাতে পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের গতিসূত্র ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নজরদারি করার মতো বিষয় হয়ে উঠেছে।