০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিশাদের খরুচে বোলিং, মুলতানের সহজ জয় — রাওয়ালপিন্ডিজ টানা চতুর্থ পরাজয়ে

পাকিস্তান সুপার লিগের একাদশ আসরে রাওয়ালপিন্ডিজের খেলা যেন ফর্মেই নেই। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে মুলতান সুলতানসের বিরুদ্ধে দলের বিশৃঙ্খল পারফরম্যান্স ও রিশাদ হোসেনের খরুচে বোলিং মিলে রাওয়ালপিন্ডিজ ৭ উইকেটে হেরেছে এবং টুর্নামেন্টে টানা চার ম্যাচ হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেলো তারা।

রাওয়ালপিন্ডিজ ম্যানেজমেন্ট শুরু থেকেই রিশাদের ওপর আস্থা রেখেছিল, কিন্তু তিন ওভার বোলিং করে কোনো উইকেট না নিয়ে তিনি ৪৬ রান খরচ করেন। বিশেষ করে এক ওভারে চারটি ছয় হজম করে তিনি দলের অবস্থাকে প্রকৃতিই কঠিন করে দেন। ব্যাটিং-এও কোনো অবদান রাখতে না পেরে ৩ বল খেলে মাত্র ১ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। পিএসএলে এটি তার সবচেয়ে বাজে বোলিং পারফরম্যান্স হিসেবে তালিকাভুক্ত হলো।

রাওয়ালপিন্ডিজ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে স্যাম বিলিংস নেমে লড়াই করেই অপরাজিত ৫৬ রান করে যান (৩৪ বল), আর কামরান গুলাম ৩৫ ও ডিয়ান ফরেস্টার ২৪ রানের ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ব্যাটিং লাইন-আপে ওপেনার ইয়াসির খান ৫ ও অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৯ করে ফিরলে দলের শুরুতেই চাপ তৈরী হয়। মুলতানের তরফে ফয়সাল আকরাম বল হাতে চমৎকার দেখান; তিনি গুরুত্বপূর্ণ ৪ উইকেট নেন এবং রাওয়ালপিন্ডিজের রানের চাকা থামিয়ে দেন।

টার্গেট (১৮৩) তাড়া করতে নেমে মুলতান সুলতানস ধাক্কা খেলেও দ্রুত নিজেদের সাজিয়ে নেয়। স্টিভেন স্মিথকে মাত্র ৫ রানে ফেরানো রাওয়ালপিন্ডিজকে অল্পক্ষণ আশা দিয়েছিল, তবে দ্বিতীয় উইকেটে সাহিবজাদা ফারহান ও জশ ফিলিপ গড়ে ওঠা ১১৭ রানের বিধ্বংসী জুটি ম্যাচের পাল্টা ঘুরিয়ে দেয়। জশ ফিলিপ ৩০ বলে ৫৬ রান করেন, আর সাহিবজাদা ফারহান একপ্রান্ত রক্ষায় ৩৮ বলে ৬৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন।

শেষের দিকে শান মাসুদ ও অ্যাশটন টার্নারের দ্রুতগতির ব্যাটিংয়ে মুলতান ২২ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে মুলতান পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকে, আর রাওয়ালপিন্ডিজ চার ম্যাচে পরাজয়ে আট দলের টুর্নামেন্টে সপ্তম স্থানে নেমে এসেছে।

রিশাদের একই লাইন-লেন্থে বল ফেলার প্রবণতা, বাউন্ডারি হজম এবং দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে না পারা নিয়ে বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক গ্রুপে সম্ভাবনাময় এই লেগ-স্পিনারের এমন দীর্ঘস্থায়ী খারাপ ফর্ম কেবল তার ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনালোকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সূত্র জানায়, রাওয়ালপিন্ডিজ এখন টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

রিশাদের খরুচে বোলিং, মুলতানের সহজ জয় — রাওয়ালপিন্ডিজ টানা চতুর্থ পরাজয়ে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তান সুপার লিগের একাদশ আসরে রাওয়ালপিন্ডিজের খেলা যেন ফর্মেই নেই। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে মুলতান সুলতানসের বিরুদ্ধে দলের বিশৃঙ্খল পারফরম্যান্স ও রিশাদ হোসেনের খরুচে বোলিং মিলে রাওয়ালপিন্ডিজ ৭ উইকেটে হেরেছে এবং টুর্নামেন্টে টানা চার ম্যাচ হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেলো তারা।

রাওয়ালপিন্ডিজ ম্যানেজমেন্ট শুরু থেকেই রিশাদের ওপর আস্থা রেখেছিল, কিন্তু তিন ওভার বোলিং করে কোনো উইকেট না নিয়ে তিনি ৪৬ রান খরচ করেন। বিশেষ করে এক ওভারে চারটি ছয় হজম করে তিনি দলের অবস্থাকে প্রকৃতিই কঠিন করে দেন। ব্যাটিং-এও কোনো অবদান রাখতে না পেরে ৩ বল খেলে মাত্র ১ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। পিএসএলে এটি তার সবচেয়ে বাজে বোলিং পারফরম্যান্স হিসেবে তালিকাভুক্ত হলো।

রাওয়ালপিন্ডিজ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে স্যাম বিলিংস নেমে লড়াই করেই অপরাজিত ৫৬ রান করে যান (৩৪ বল), আর কামরান গুলাম ৩৫ ও ডিয়ান ফরেস্টার ২৪ রানের ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ব্যাটিং লাইন-আপে ওপেনার ইয়াসির খান ৫ ও অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৯ করে ফিরলে দলের শুরুতেই চাপ তৈরী হয়। মুলতানের তরফে ফয়সাল আকরাম বল হাতে চমৎকার দেখান; তিনি গুরুত্বপূর্ণ ৪ উইকেট নেন এবং রাওয়ালপিন্ডিজের রানের চাকা থামিয়ে দেন।

টার্গেট (১৮৩) তাড়া করতে নেমে মুলতান সুলতানস ধাক্কা খেলেও দ্রুত নিজেদের সাজিয়ে নেয়। স্টিভেন স্মিথকে মাত্র ৫ রানে ফেরানো রাওয়ালপিন্ডিজকে অল্পক্ষণ আশা দিয়েছিল, তবে দ্বিতীয় উইকেটে সাহিবজাদা ফারহান ও জশ ফিলিপ গড়ে ওঠা ১১৭ রানের বিধ্বংসী জুটি ম্যাচের পাল্টা ঘুরিয়ে দেয়। জশ ফিলিপ ৩০ বলে ৫৬ রান করেন, আর সাহিবজাদা ফারহান একপ্রান্ত রক্ষায় ৩৮ বলে ৬৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন।

শেষের দিকে শান মাসুদ ও অ্যাশটন টার্নারের দ্রুতগতির ব্যাটিংয়ে মুলতান ২২ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে মুলতান পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকে, আর রাওয়ালপিন্ডিজ চার ম্যাচে পরাজয়ে আট দলের টুর্নামেন্টে সপ্তম স্থানে নেমে এসেছে।

রিশাদের একই লাইন-লেন্থে বল ফেলার প্রবণতা, বাউন্ডারি হজম এবং দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে না পারা নিয়ে বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক গ্রুপে সম্ভাবনাময় এই লেগ-স্পিনারের এমন দীর্ঘস্থায়ী খারাপ ফর্ম কেবল তার ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনালোকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সূত্র জানায়, রাওয়ালপিন্ডিজ এখন টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে।