০৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা: বাংলাদেশি আবেদনকারীর অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যাখ্যাত সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস আবু সাঈদ হত্যা: ট্রাইব্যুনাল—২ পুলিশ সদস্যের ফাঁসি, তিনজনকে যাবজ্জীবন অর্থমন্ত্রী: ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আবু সাঈদ হত্যা: ২ পুলিশকে ফাঁসি, ৩ জনকে যাবজ্জীবন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন: এনইআইআর নীতিমালা সংশোধন করা হবে জ্বালানি বিতরণে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলট চালু ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের সাক্ষাৎ আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের বৈঠক

ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত ৪৩ কেমিক্যালে কর-ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত ট্যানারি বা চামড়া শিল্প টিকে রাখতে ৪৩ ধরনের কেমিক্যাল আমদানিতে শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন শিল্পীরা। উদ্যোক্তারা বলছেন, খাতে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে নতুন বাজেটে এসব পণ্যের ওপর আরোপিত কর-ভ্যাট কমানো প্রয়োজন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এই দাবি উঠলো; সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) বক্তব্যে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে উৎপাদন খরচ দ্রুত কমানো জরুরি না হলে ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার শক্তি থাকবে না এবং রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শিল্প মালিকদের দাবি, শতভাগ রফতানিমুখী ট্যানারি কারখানার জন্য কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে উৎস কর ও ভ্যাট পুরোপুরি তুলে দেওয়া উচিত। তাদের মতে, কাঁচা চামড়া একটি পচনশীল কৃষিপণ্য—তাই এর ওপর প্রযোজ্য ৩ শতাংশ উৎস কর শিল্পের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করছে; এই কর বাতিল করে কাঁচা চামড়া করমুক্ত করার অনুরোধও জানিয়েছে তারা।

বর্তমান নীতিমালায় শর্তসাপেক্ষে কিছু শুল্ক ছাড় থাকলেও কেমিক্যাল আমদানিতে ভ্যাট এখনও ১৫ শতাংশ বসে আছে। উদ্যোক্তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, মূল্যভিত্তিক শুল্কের অন্তত ৩ শতাংশের অধিক অংশে ছাড় দেয়া এবং ভ্যাট কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হোক। তাদের হিসাব মতে কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও এক্সেসরিজ আমদানিতে মিলিয়ে মোট করের বোঝা প্রায় ৩০ শতাংশের উপরে গেলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কমে।

এছাড়া বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানিতে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা কার্যকর করতে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ এসব খাতে সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তা গ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। তারা আরও মনে করি, এসব সুবিধা বাস্তবায়িত হলে না শুধু শিল্পের প্রতিযোগিতা বাড়বে, অনিয়মিত আমদানিও কমবে, বরং উৎপাদন ও রফতানিও বাড়বে—দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও উন্নত হতে পারে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, ট্যানারি খাতের বহুলাংশই আমদানিনির্ভর হওয়ায় সুবিধা না দিলে খরচ বহুগুণ বাড়বে এবং শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। আগামী বাজেটে এসব দাবি বিবেচনায় নেওয়া হলে খাতটি নতুন উদ্যমে রফতানি বাড়াতে সক্ষম হবে বলে তারা আশাবাদী।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস

ট্যানারি খাতে ব্যবহৃত ৪৩ কেমিক্যালে কর-ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত ট্যানারি বা চামড়া শিল্প টিকে রাখতে ৪৩ ধরনের কেমিক্যাল আমদানিতে শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন শিল্পীরা। উদ্যোক্তারা বলছেন, খাতে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে নতুন বাজেটে এসব পণ্যের ওপর আরোপিত কর-ভ্যাট কমানো প্রয়োজন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এই দাবি উঠলো; সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) বক্তব্যে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে উৎপাদন খরচ দ্রুত কমানো জরুরি না হলে ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার শক্তি থাকবে না এবং রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শিল্প মালিকদের দাবি, শতভাগ রফতানিমুখী ট্যানারি কারখানার জন্য কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে উৎস কর ও ভ্যাট পুরোপুরি তুলে দেওয়া উচিত। তাদের মতে, কাঁচা চামড়া একটি পচনশীল কৃষিপণ্য—তাই এর ওপর প্রযোজ্য ৩ শতাংশ উৎস কর শিল্পের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করছে; এই কর বাতিল করে কাঁচা চামড়া করমুক্ত করার অনুরোধও জানিয়েছে তারা।

বর্তমান নীতিমালায় শর্তসাপেক্ষে কিছু শুল্ক ছাড় থাকলেও কেমিক্যাল আমদানিতে ভ্যাট এখনও ১৫ শতাংশ বসে আছে। উদ্যোক্তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, মূল্যভিত্তিক শুল্কের অন্তত ৩ শতাংশের অধিক অংশে ছাড় দেয়া এবং ভ্যাট কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হোক। তাদের হিসাব মতে কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও এক্সেসরিজ আমদানিতে মিলিয়ে মোট করের বোঝা প্রায় ৩০ শতাংশের উপরে গেলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কমে।

এছাড়া বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানিতে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা কার্যকর করতে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ এসব খাতে সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তা গ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। তারা আরও মনে করি, এসব সুবিধা বাস্তবায়িত হলে না শুধু শিল্পের প্রতিযোগিতা বাড়বে, অনিয়মিত আমদানিও কমবে, বরং উৎপাদন ও রফতানিও বাড়বে—দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও উন্নত হতে পারে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, ট্যানারি খাতের বহুলাংশই আমদানিনির্ভর হওয়ায় সুবিধা না দিলে খরচ বহুগুণ বাড়বে এবং শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। আগামী বাজেটে এসব দাবি বিবেচনায় নেওয়া হলে খাতটি নতুন উদ্যমে রফতানি বাড়াতে সক্ষম হবে বলে তারা আশাবাদী।