০৪:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্দামান সাগরে শরণার্থীবাহী ট্রলারডুবি: ২৫০ জন নিখোঁজ—ইউএনএইচসিআর ও আইওএম গভীর উদ্বিগ্ন

আন্দামান সাগরে একটি শরণার্থীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাগুলো ঘটনার গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রলারটি বাংলাদেশের টেকনাফ উপকূল থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। চলমান ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলছে, তবু এখন পর্যন্ত কোনো আশাব্যঞ্জক সাফল্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং টেকসই সমাধানের অভাবের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলমান সহিংসতা নিরাপদ প্রত্যাবাসনকে অনিশ্চিত করে দিয়েছে; শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তা ঘাটতি এবং কর্মসংস্থানের অভাব মানুষকে হতাশায় ঠেলে দিচ্ছে। এমন সংকটে পাচারকারীরা সুযোগ নেয়, আর উন্নত জীবনের আশায় আশেপাশের মানুষরা বারবার বিপজ্জনক সমুদ্রপথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি তহবিল ও সহায়তা বাড়াতে আবেদন জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে মিয়ানমারের সংকটের মূল কারণ সমাধান না হলে এমন ধরনের প্রাণহানি প্রতিরোধ করা যাবে না।

এ ধরনের দুর্ঘটনা মানবিক ও নৈতিক সংকটকে আরও গভীর করছে এবং দ্রুত, সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনই রয়েছে—খোলা সীমান্ত স্থল, নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর জীবিকা সংরক্ষণে সহায়তা ছাড়া এ সমস্যা সমাধান অসম্ভব বলে সংস্থাগুলো মনে করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আন্দামান সাগরে শরণার্থীবাহী ট্রলারডুবি: ২৫০ জন নিখোঁজ—ইউএনএইচসিআর ও আইওএম গভীর উদ্বিগ্ন

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আন্দামান সাগরে একটি শরণার্থীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাগুলো ঘটনার গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রলারটি বাংলাদেশের টেকনাফ উপকূল থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। চলমান ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলছে, তবু এখন পর্যন্ত কোনো আশাব্যঞ্জক সাফল্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং টেকসই সমাধানের অভাবের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলমান সহিংসতা নিরাপদ প্রত্যাবাসনকে অনিশ্চিত করে দিয়েছে; শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তা ঘাটতি এবং কর্মসংস্থানের অভাব মানুষকে হতাশায় ঠেলে দিচ্ছে। এমন সংকটে পাচারকারীরা সুযোগ নেয়, আর উন্নত জীবনের আশায় আশেপাশের মানুষরা বারবার বিপজ্জনক সমুদ্রপথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর ও আইওএম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি তহবিল ও সহায়তা বাড়াতে আবেদন জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে মিয়ানমারের সংকটের মূল কারণ সমাধান না হলে এমন ধরনের প্রাণহানি প্রতিরোধ করা যাবে না।

এ ধরনের দুর্ঘটনা মানবিক ও নৈতিক সংকটকে আরও গভীর করছে এবং দ্রুত, সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনই রয়েছে—খোলা সীমান্ত স্থল, নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর জীবিকা সংরক্ষণে সহায়তা ছাড়া এ সমস্যা সমাধান অসম্ভব বলে সংস্থাগুলো মনে করছে।