১০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এপ্রিলেই ভারত থেকে আরও ১৭ হাজার টন ডিজেল আসছে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এজেক প্লাস সম্মেলনে বক্তব্য রাখলেন কক্সবাজার থেকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হবে: বিমানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা: ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু প্রধানমন্ত্রী জানালেন: সরকারি ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত পহেলা বৈশাখে ধর্ম-বর্ণ বিভেদের কোনো স্থান নেই: তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর মাজারে জিয়ারত প্রধানমন্ত্রী: গাছে আম-জাম ধরলে পাঠাবেন, আমি হাতে খেয়ে দেখব টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর মাজারে জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন ও নীতিগত বাধা নিয়ে বিজিএমইএ-বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠক

সচিবালয়ে বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের টেকসই উন্নয়ন ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করেন বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দলসভায় উপস্থিত ছিলেন, যার নেতৃত্ব দিতেন সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বৈঠকে বিজিএমইএ নেতৃত্ব বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং দেশের জ্বালানিসংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ শিল্পের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে জোরালো নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন বলে তারা উদ্বেগ ব্যক্ত করেন।

সভায় আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর দায়িত্ব সীমা সম্পর্কে বিজিএমইএ সভাপতি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা তদারকির জন্য গঠিত; বেতন, ছুটি বা ইউনিয়নসহ সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এই কাউন্সিলের আওতার বাইরে থাকা উচিত। একই দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি শিল্পের ওপর অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেবে, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মালিকপক্ষের মতামত এবং দেশের আইনগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিতে জোর দেওয়া হয়।

প্রতিনিধি দল আমদানি ও বন্ড নীতিমালা সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে বিভিন্ন দাবি জানায়। তারা বিনাশুল্কে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজতর করার আহ্বান জানান, পাশাপাশি রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার ও প্রতিবেশী দেশ ভারত সীমান্ত পথে ব্যবসা ধারা সচল রাখার পথে থাকা প্রতিবন্ধকতা দ্রুত তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন। এছাড়া তারা আমদানি নীতি ২০২৪-২৭ সংশোধন এবং সিআইপি মর্যাদার স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদানের প্রস্তাবও উপস্থাপন করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে শুনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বজায় রাখতে সরকার সমস্ত রকম নীতিগত সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত আছে বলে আশ্বাস দেন।

বৈঠক শেষে বিজিএমইএ নেতারা বলেন, স্থিতিশীল নীতি এবং প্রশাসনিক চাপ কমালে শিল্প দ্রুত পুনরুজ্জীবিত হবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও মজবুত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি

পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন ও নীতিগত বাধা নিয়ে বিজিএমইএ-বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠক

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সচিবালয়ে বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের টেকসই উন্নয়ন ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা করেন বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দলসভায় উপস্থিত ছিলেন, যার নেতৃত্ব দিতেন সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বৈঠকে বিজিএমইএ নেতৃত্ব বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং দেশের জ্বালানিসংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ শিল্পের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে জোরালো নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন বলে তারা উদ্বেগ ব্যক্ত করেন।

সভায় আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর দায়িত্ব সীমা সম্পর্কে বিজিএমইএ সভাপতি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা তদারকির জন্য গঠিত; বেতন, ছুটি বা ইউনিয়নসহ সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এই কাউন্সিলের আওতার বাইরে থাকা উচিত। একই দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি শিল্পের ওপর অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেবে, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মালিকপক্ষের মতামত এবং দেশের আইনগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিতে জোর দেওয়া হয়।

প্রতিনিধি দল আমদানি ও বন্ড নীতিমালা সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে বিভিন্ন দাবি জানায়। তারা বিনাশুল্কে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজতর করার আহ্বান জানান, পাশাপাশি রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার ও প্রতিবেশী দেশ ভারত সীমান্ত পথে ব্যবসা ধারা সচল রাখার পথে থাকা প্রতিবন্ধকতা দ্রুত তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন। এছাড়া তারা আমদানি নীতি ২০২৪-২৭ সংশোধন এবং সিআইপি মর্যাদার স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদানের প্রস্তাবও উপস্থাপন করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে শুনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বজায় রাখতে সরকার সমস্ত রকম নীতিগত সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত আছে বলে আশ্বাস দেন।

বৈঠক শেষে বিজিএমইএ নেতারা বলেন, স্থিতিশীল নীতি এবং প্রশাসনিক চাপ কমালে শিল্প দ্রুত পুনরুজ্জীবিত হবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও মজবুত হবে।