লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে নির্বিঘ্ন এক লড়াই শেষে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে আর্সেনাল। কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং সিপির সঙ্গে ০-০ ড্র করে আর্সেনাল প্রথম লেগের অর্জিত ১-০ লিড ধরে রেখেছে এবং দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ ব্যবধানে সেমিফাইনালে উঠেছে।
ম্যাচ শুরু থেকেই স্বাগতিকরা নিয়ন্ত্রণ গড়ে দিতে চেয়েছে। নিজের মাঠে আর্সেনাল বল ভাগাভাগি করে মোটামুটি আধিপত্য দেখায়—প্রায় ৫৫ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখে তারা। পরিসংখ্যান বলছে, আর্সেনাল ম্যাচে মোট ১৬টি শট নেয় কিন্তু পারফেক্ট ফিনিশিং না থাকায় তার মধ্যে মাত্র একটি শটই লক্ষ্যভেদি হয়।
স্পোর্টিংও লড়াই ছাড়েনি। ৪৫ শতাংশ বল পজেশন নিয়ে তারা আক্রমণাত্মকভাবে আর্সেনালের রক্ষণ পরীক্ষা করতে থাকে এবং মোট ১০টি শট রাখে। ম্যাচে স্বাগতিকদের সবচেয়ে চরম মুহূর্ত ছিল লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের হেড, যা দুর্ভাগ্যবশত গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।
প্রথম লেগে লিসবনে কাই হাভার্টজের জোড়া গোল শিবিরকে মানসিকভাবে সুবিধা দিয়েছিল; তাই এমিরেটসে তারা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তবে ম্যাচের শেষ পর্যায়ে স্পোর্টিং বেশ কিছু গোলের স্পষ্ট সুযোগ তৈরি করেছিল। তবুও ডেভিড রায়া গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে যান এবং আর্সেনালের রক্ষণভাগ দৃঢ়ভাবে লড়াই চালিয়ে কোনো বড় বিপদকে ঠেকিয়ে দেয়। শেষ সিটিতে মাঠ পরিপূর্ণ উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে।
এবার আর্সেনালের সামনে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে—সেমিফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে দিয়েগো সিমিওনের Atletico Madrid-র সঙ্গে। স্প্যানিশ ক্লাবটি গত মঙ্গলবার বার্সেলোনাকে দুই লেগে ৩-২ অ্যাগ্রিগেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে এসেছে। সূচি অনুযায়ী প্রথম লেগগুলো হবে ৩০ এপ্রিল মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে এবং ফিরতি লেগ ৬ মে এমিরেটসে।
অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং বায়ার্ন মিউনিখ। পিএসজি দুই লেগ মিলিয়ে লিভারপুলকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়েছে, আর বায়ার্ন মাদ্রিদকে ৬-৪ অ্যাগ্রিগেটে হারিয়ে নিজের শক্তি দেখিয়েছে। ঐ চার দলের মধ্যেই এখন নির্ধারিত হবে কে ইউরোপীয় শিরোপা জিতবে—আর্সেনাল ভক্তরা এখন নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























