০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

কানাই দাস বাউল ‘রইদ’-এ রেখে গেলেন জীবনের শেষ প্লেব্যাক

বাউলসংগীতের এক অমোঘ কণ্ঠ আর নেই। পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ বাউল শিল্পী কানাই দাস বাউল না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। গত ১৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করা এই গুণী শিল্পীর চলে যাওয়ায় দুই বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সংগীতজগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

জীবনের বহু বছর একতারা হাতে ঘুরে তিনি গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা থেকে আখড়া—সব জায়গায় মানুষের অন্তর ছুঁয়ে গেছেন তার সুরে। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’, ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’—এরকম কালজয়ী গানের মধ্য দিয়ে তিনি মানবতাবোধ ও জীবনদর্শন প্রচার করেছেন। দৃষ্টিহীন হলেও তার অন্তর্দৃষ্টি ও সুমধুর কণ্ঠ শ্রোতাদের মুগ্ধ করত, তার গায়কিতে ছিল বিরহী সুরের সঙ্গে আধ্যাত্মিক গভীরতা।

বিদায়বেলায় তিনি ভক্তদের জন্য রেখে গেছেন একটি বিশেষ উপহার। মেজবাউর রহমান সুমনের নির্মিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’-এর জন্য কানাই দাস সম্প্রতি একটি গান রেকর্ড করেছিলেন—এই গানটাই তার জীবনের প্রথম ও শেষ সিনেমা-প্লেব্যাক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে। নির্মাতা জানান, গত বছর সংগীতায়োজনের সময় তিনি শিল্পীকে দিয়ে গানটি রেকর্ড করিয়েছিলেন। যখন পরিচালক জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি আগে সিনেমায় গেয়েছেন কি না, কানাই দাস বিনয়ভরে বলেছিলেন, ‘কেউ তো ডাকেনি!’

তিনি মাটির ঠাসা, অমোঘ মেলডি নিয়ে সিনেমার জন্য মাতান চাঁদ গোঁসাইয়ের এক পরিচিত গান রেকর্ড করেছিলেন। পরিচালকও জানালেন, গানটির চূড়ান্ত কাজ শেষ হওয়ার পর শিল্পী ততক্ষণ পর্যন্ত সেটি শুনতে আগ্রহী ছিলেন—কিন্তু গানটি প্রকাশের আগেই তাঁর চলে যাওয়া সবকিছুকে আরেকটু গভীর শোকমাখা করে দিয়েছে।

মেজবাউর রহমান সুমনের কাজের সঙ্গে বাউল দর্শনের নিবিড় সম্পর্ক সদ্য নয়। আগে তাঁর সুপারহিট ছবি ‘হাওয়া’-তে বাসুদেব দাস বাউলের কণ্ঠে ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’ গানটি দর্শক-শ্রোতাদের মনে ঘাঁটাঘাঁটি করেছিল। এবার ‘রইদ’-এ তিনি কানাই দাসের সেই সোজাসাপ্টা, মেঠো কণ্ঠকে আরও বিস্ময়ে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। যদিও শিল্পী নিজে চূড়ান্ত রেকর্ড শোনার সৌভাগ্য পাননি, নির্মাতা আশা করছেন তাঁর কণ্ঠ শীঘ্রই দর্শক, শ্রোতাদের কাছে পৌঁছবে।

চলচ্চিত্রটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি ও গাজী রাকায়েত। সম্প্রতি সিনেমার প্রথম গান ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ প্রকাশ পেয়ে দর্শক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সহজিয়া ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু তার কথাও লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন, আর সংগীত পরিচালনা করেছেন রাশীদ শরীফ শোয়েব।

কানাই দাস বাউলের সেই শেষ গানটি এখন দর্শক ও শোতাদের বিশেষ নজরে থাকবে—এটি বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসে এক মূল্যবান দলিল হিসেবে রয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ‘রইদ’ সিনেমা হবে কানাই দাসের স্মৃতি ও মেজবাউর রহমান সুমনের নির্মাণশৈলীর এক সংমিশ্রণ, যা বাউলসঙ্গীতের ঐতিহ্যকে নতুন করে সামনে আনবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

কানাই দাস বাউল ‘রইদ’-এ রেখে গেলেন জীবনের শেষ প্লেব্যাক

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বাউলসংগীতের এক অমোঘ কণ্ঠ আর নেই। পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ বাউল শিল্পী কানাই দাস বাউল না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। গত ১৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করা এই গুণী শিল্পীর চলে যাওয়ায় দুই বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সংগীতজগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

জীবনের বহু বছর একতারা হাতে ঘুরে তিনি গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা থেকে আখড়া—সব জায়গায় মানুষের অন্তর ছুঁয়ে গেছেন তার সুরে। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’, ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’—এরকম কালজয়ী গানের মধ্য দিয়ে তিনি মানবতাবোধ ও জীবনদর্শন প্রচার করেছেন। দৃষ্টিহীন হলেও তার অন্তর্দৃষ্টি ও সুমধুর কণ্ঠ শ্রোতাদের মুগ্ধ করত, তার গায়কিতে ছিল বিরহী সুরের সঙ্গে আধ্যাত্মিক গভীরতা।

বিদায়বেলায় তিনি ভক্তদের জন্য রেখে গেছেন একটি বিশেষ উপহার। মেজবাউর রহমান সুমনের নির্মিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’-এর জন্য কানাই দাস সম্প্রতি একটি গান রেকর্ড করেছিলেন—এই গানটাই তার জীবনের প্রথম ও শেষ সিনেমা-প্লেব্যাক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে। নির্মাতা জানান, গত বছর সংগীতায়োজনের সময় তিনি শিল্পীকে দিয়ে গানটি রেকর্ড করিয়েছিলেন। যখন পরিচালক জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি আগে সিনেমায় গেয়েছেন কি না, কানাই দাস বিনয়ভরে বলেছিলেন, ‘কেউ তো ডাকেনি!’

তিনি মাটির ঠাসা, অমোঘ মেলডি নিয়ে সিনেমার জন্য মাতান চাঁদ গোঁসাইয়ের এক পরিচিত গান রেকর্ড করেছিলেন। পরিচালকও জানালেন, গানটির চূড়ান্ত কাজ শেষ হওয়ার পর শিল্পী ততক্ষণ পর্যন্ত সেটি শুনতে আগ্রহী ছিলেন—কিন্তু গানটি প্রকাশের আগেই তাঁর চলে যাওয়া সবকিছুকে আরেকটু গভীর শোকমাখা করে দিয়েছে।

মেজবাউর রহমান সুমনের কাজের সঙ্গে বাউল দর্শনের নিবিড় সম্পর্ক সদ্য নয়। আগে তাঁর সুপারহিট ছবি ‘হাওয়া’-তে বাসুদেব দাস বাউলের কণ্ঠে ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’ গানটি দর্শক-শ্রোতাদের মনে ঘাঁটাঘাঁটি করেছিল। এবার ‘রইদ’-এ তিনি কানাই দাসের সেই সোজাসাপ্টা, মেঠো কণ্ঠকে আরও বিস্ময়ে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। যদিও শিল্পী নিজে চূড়ান্ত রেকর্ড শোনার সৌভাগ্য পাননি, নির্মাতা আশা করছেন তাঁর কণ্ঠ শীঘ্রই দর্শক, শ্রোতাদের কাছে পৌঁছবে।

চলচ্চিত্রটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি ও গাজী রাকায়েত। সম্প্রতি সিনেমার প্রথম গান ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ প্রকাশ পেয়ে দর্শক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সহজিয়া ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু তার কথাও লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন, আর সংগীত পরিচালনা করেছেন রাশীদ শরীফ শোয়েব।

কানাই দাস বাউলের সেই শেষ গানটি এখন দর্শক ও শোতাদের বিশেষ নজরে থাকবে—এটি বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসে এক মূল্যবান দলিল হিসেবে রয়ে যাবে। সব মিলিয়ে ‘রইদ’ সিনেমা হবে কানাই দাসের স্মৃতি ও মেজবাউর রহমান সুমনের নির্মাণশৈলীর এক সংমিশ্রণ, যা বাউলসঙ্গীতের ঐতিহ্যকে নতুন করে সামনে আনবে।