০২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালিতে একযোগে হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে একযোগে সংঘটিত সশস্ত্র হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। রোববার এ তথ্য ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি দেশটির বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার কয়েকদিন আগে—শনিবার—কাটি শহরে কামারার বাসভবনে জঙ্গি সংগঠন জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএমআইএন) ও তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের সম্মিলিত হামলার কথা জানানো হয়। কাতির ওই আক্রমণে সরকার ও সামরিক ভবনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নিজ বাসভবনও আক্রমণের মধ্যে ছিল।

আল-জাজিরার দীর্ঘদিনের মালি প্রতিবেদক নিকোলাস হক বলেন, কামারা ২০২০ ও ২০২১ সালের দুইটি অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখলকারী সামরিক সরকারের প্রধান মিত্র ও প্রভাবশালী নেতাদের একজন ছিলেন। অনেকেই তাকে ভবিষ্যতে মালির এক সম্ভাব্য শাসক হিসেবে দেখতেন।

হক আরও জানিয়েছেন, কাটির ঘটনাস্থলে হামলাকারীরা একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। কাটি বামাকো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে; এই শহরটিকে মালির অন্যতম নিরাপদ কেল্লা হিসেবে ধরা হয় এবং এখানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতার থাকার কথাও বলা হয়। তবে হামলার সময় প্রেসিডেন্টকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে নিরাপদে আছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক দিনের এই আক্রমণগুলোর পেছনে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর একত্রিত কৌশল লক্ষ্য করা যায়। বিশ্লেষক বুলামা বুকার্তি মনে করেন, আগে একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা কিছু গোষ্ঠী এখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং এর ফলে আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও সংঘর্ষ দেখা দিতে পারে।

রোববার কিদালেও স্থানীয়রা ব্যাপক গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদক হক জানান, অভিযান শুরুর ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেখানে এখনও গোলাগুলির শব্দ থামেনি। একই সঙ্গে বামাকো ছাড়াও উত্তরের গাও ও কিদাল ও মধ্যাঞ্চলের সেভারেসহ আরও নানান স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক নানান সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব আফ্রিকান অ্যাফেয়ার্স এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অস্থিতিশীল থাকা এবং সাংগঠনিক হামলার পর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করেছেন।

মালির রাজনৈতিক ও সুরক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্য এখনও আসছে; ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কেমন হবে সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের বিবেচনা চলছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মালিতে একযোগে হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে একযোগে সংঘটিত সশস্ত্র হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। রোববার এ তথ্য ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি দেশটির বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার কয়েকদিন আগে—শনিবার—কাটি শহরে কামারার বাসভবনে জঙ্গি সংগঠন জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএমআইএন) ও তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের সম্মিলিত হামলার কথা জানানো হয়। কাতির ওই আক্রমণে সরকার ও সামরিক ভবনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নিজ বাসভবনও আক্রমণের মধ্যে ছিল।

আল-জাজিরার দীর্ঘদিনের মালি প্রতিবেদক নিকোলাস হক বলেন, কামারা ২০২০ ও ২০২১ সালের দুইটি অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখলকারী সামরিক সরকারের প্রধান মিত্র ও প্রভাবশালী নেতাদের একজন ছিলেন। অনেকেই তাকে ভবিষ্যতে মালির এক সম্ভাব্য শাসক হিসেবে দেখতেন।

হক আরও জানিয়েছেন, কাটির ঘটনাস্থলে হামলাকারীরা একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। কাটি বামাকো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে; এই শহরটিকে মালির অন্যতম নিরাপদ কেল্লা হিসেবে ধরা হয় এবং এখানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতার থাকার কথাও বলা হয়। তবে হামলার সময় প্রেসিডেন্টকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে নিরাপদে আছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক দিনের এই আক্রমণগুলোর পেছনে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর একত্রিত কৌশল লক্ষ্য করা যায়। বিশ্লেষক বুলামা বুকার্তি মনে করেন, আগে একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা কিছু গোষ্ঠী এখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং এর ফলে আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও সংঘর্ষ দেখা দিতে পারে।

রোববার কিদালেও স্থানীয়রা ব্যাপক গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদক হক জানান, অভিযান শুরুর ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেখানে এখনও গোলাগুলির শব্দ থামেনি। একই সঙ্গে বামাকো ছাড়াও উত্তরের গাও ও কিদাল ও মধ্যাঞ্চলের সেভারেসহ আরও নানান স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক নানান সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব আফ্রিকান অ্যাফেয়ার্স এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অস্থিতিশীল থাকা এবং সাংগঠনিক হামলার পর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করেছেন।

মালির রাজনৈতিক ও সুরক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্য এখনও আসছে; ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কেমন হবে সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের বিবেচনা চলছে।