১১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এক বছরে দেশি বাইসাইকেল বিক্রি ৬০০ কোটি টাকার ঘরছাড়া, রপ্তানিও বাড়ছে

বড় শহরের ট্রাফিক জ্যাম, বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসচেতনতা ও ডেলিভারি সেবার চাহিদা মিলে দেশের পথঘাটে বাইসাইকেলের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। তরুণদের মধ্যে বাইসাইকেল এখন ট্রেন্ডই নয়—স্বাস্থ্য-অনুশীলন ও পরিবহন উভয়ের সহজ সমাধি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

গত এক বছরে বাজারের বড় তিনটি দেশীয় ব্র্যান্ড মিলিয়ে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বাইসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যা এই খাতের দ্রুত উন্নতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। মেঘনা গ্রুপ, আরএফএল ও আকিজ ভেঞ্চারের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলি এখন দেশি চাহিদার অর্ধেকের বেশি মেটাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে শীর্ষ তিন ব্র্যান্ড ৪৪০ কোটি টাকার বাইসাইকেল বিক্রি করলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯৫ কোটি টাকায় — অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি বাড়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ওপরে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার বাইসাইকেল।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, প্রতি বছরের ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিক্রির ঋতুতে সবচেয়ে বেশি চাহিদা পড়ে। মোট বিক্রির প্রায় অর্ধেকই শিশুদের জন্য হলেও বাকিটা মূলত ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ও পেশাজীবীদের মধ্যে বণ্টিত।

এক দশক আগেও দেশের বাইসাইকেল বাজার প্রাধান্যত বিদেশি ব্র্যান্ডের দখলে ছিল; আজ স্থানীয় শিল্পী এলাকায় দামে ও গুণে নিজের স্থান করে নিয়েছে—স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো এখন মোট বাজারের ৫০ শতাংশেরও বেশি দখল করে আছে। যন্ত্রাংশ সহ পুরো বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে। মেঘনা গ্রুপ তাদের সাতটি কারখানার মাধ্যমে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করছে এবং বছরে ১৫০ কোটি টাকার বেশি পণ্য বিক্রি করছে। আরএফএল ও আকিজ ভেঞ্চারও বড় বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, ফলে আমদানি নির্ভরতা কমে দেশীয় উৎপাদনশীলতা বাড়ছে।

বাইসাইকেল এখন শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং রপ্তানিতেও এগিয়ে এসেছে — ইউরোপসহ বিশ্বের ১৮টি দেশে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ঠিকানা পৌঁছাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত বাইসাইকেল থেকে প্রাপ্ত রপ্তানির মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার, যার বড় অংশ রপ্তানি করেছে মেঘনা গ্রুপ। আরএফএল গ্রুপ নিয়মিত পণ্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো উন্নত দেশে, আর আকিজ ভেঞ্চারও সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি শুরু করেছে। উন্নত মান ও প্রতিযোগী মূল্য ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত করে তুলছে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, সরকারী নীতিগত সহায়তা ও সাহসী দেশীয় বিনিয়োগই এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের চাহিদা ভবিষ্যতে বাইসাইকেলের বাজারকে আরও বড় করবে—এই বিশ্বাস তাদের। বর্তমানে এ খাতে হাজারো কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, কাঁচামাল আমদানে শুল্ক সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত হলে আগামী কয়েক বছরে রপ্তানি আয় বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

এক বছরে দেশি বাইসাইকেল বিক্রি ৬০০ কোটি টাকার ঘরছাড়া, রপ্তানিও বাড়ছে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

বড় শহরের ট্রাফিক জ্যাম, বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসচেতনতা ও ডেলিভারি সেবার চাহিদা মিলে দেশের পথঘাটে বাইসাইকেলের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। তরুণদের মধ্যে বাইসাইকেল এখন ট্রেন্ডই নয়—স্বাস্থ্য-অনুশীলন ও পরিবহন উভয়ের সহজ সমাধি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

গত এক বছরে বাজারের বড় তিনটি দেশীয় ব্র্যান্ড মিলিয়ে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বাইসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যা এই খাতের দ্রুত উন্নতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। মেঘনা গ্রুপ, আরএফএল ও আকিজ ভেঞ্চারের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলি এখন দেশি চাহিদার অর্ধেকের বেশি মেটাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে শীর্ষ তিন ব্র্যান্ড ৪৪০ কোটি টাকার বাইসাইকেল বিক্রি করলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯৫ কোটি টাকায় — অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি বাড়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ওপরে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার বাইসাইকেল।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, প্রতি বছরের ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিক্রির ঋতুতে সবচেয়ে বেশি চাহিদা পড়ে। মোট বিক্রির প্রায় অর্ধেকই শিশুদের জন্য হলেও বাকিটা মূলত ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ও পেশাজীবীদের মধ্যে বণ্টিত।

এক দশক আগেও দেশের বাইসাইকেল বাজার প্রাধান্যত বিদেশি ব্র্যান্ডের দখলে ছিল; আজ স্থানীয় শিল্পী এলাকায় দামে ও গুণে নিজের স্থান করে নিয়েছে—স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো এখন মোট বাজারের ৫০ শতাংশেরও বেশি দখল করে আছে। যন্ত্রাংশ সহ পুরো বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে। মেঘনা গ্রুপ তাদের সাতটি কারখানার মাধ্যমে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করছে এবং বছরে ১৫০ কোটি টাকার বেশি পণ্য বিক্রি করছে। আরএফএল ও আকিজ ভেঞ্চারও বড় বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, ফলে আমদানি নির্ভরতা কমে দেশীয় উৎপাদনশীলতা বাড়ছে।

বাইসাইকেল এখন শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং রপ্তানিতেও এগিয়ে এসেছে — ইউরোপসহ বিশ্বের ১৮টি দেশে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ঠিকানা পৌঁছাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত বাইসাইকেল থেকে প্রাপ্ত রপ্তানির মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার, যার বড় অংশ রপ্তানি করেছে মেঘনা গ্রুপ। আরএফএল গ্রুপ নিয়মিত পণ্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো উন্নত দেশে, আর আকিজ ভেঞ্চারও সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি শুরু করেছে। উন্নত মান ও প্রতিযোগী মূল্য ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত করে তুলছে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, সরকারী নীতিগত সহায়তা ও সাহসী দেশীয় বিনিয়োগই এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের চাহিদা ভবিষ্যতে বাইসাইকেলের বাজারকে আরও বড় করবে—এই বিশ্বাস তাদের। বর্তমানে এ খাতে হাজারো কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, কাঁচামাল আমদানে শুল্ক সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত হলে আগামী কয়েক বছরে রপ্তানি আয় বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।