কাতারভিত্তিক আলজাজিরার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির ব্যবহার করে ইরান ভূপাতিত ধ্বংসস্তূপ ও বিমান-আঘাতের ছায়ার নিচ থেকে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজও জানায়, তেহরান দ্রুতই তাদের ড্রোন ও মিসাইল সক্ষমতা পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, যদি ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে পুনরায় সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী জবাবী কর্মসূচি চালাতে এই পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ বড় ধরনের পুনর্গঠনই এমন সতর্কতার কারণ বলে ওয়াশিংটন মনে করছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সাথে যুদ্ধ চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রয়োজন হলে অভিযানের নতুন ধাপ চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। হোয়াইট হাউজ সূত্রের খবর, জাতীয় নিরাপত্তা দলের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। একই সময়ে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও כבר বিভিন্ন সামরিক বিকল্প সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে বিস্তৃত ব্রিফিং দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের মে মাসের পরিকল্পিত চীন সফর এই সিদ্ধান্ত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ বেইজিং ও তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ওয়াশিংটন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
মার্চের এই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ১৬ এপ্রিল হুঁশিয়ারি মুলক মন্তব্য করেছেন: “আপনারা যা করছেন আমরা সবই জানি। ধ্বংসস্তূপ থেকে আপনারা অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র আর লঞ্চারগুলো খুঁড়ে বের করছেন, কিন্তু এগুলো প্রতিস্থাপনের কোনো ক্ষমতা আপনাদের নেই। আপনারা যখন গর্ত খুঁড়ছেন, আমরা তখন আরও শক্তিশালী হচ্ছি।”
অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন, “ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, তাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নৌবাহিনী এখন পানির নিচে।” কিন্তু এনবিসি নিউজ বলছে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে এই দাবিতে কিছু বিচ্যুতি রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগেই ইরান অনেক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল; ফলে তাদের বিমানবাহিনীর বড় অংশ এবং বিপ্লবী গার্ডের নৌ-সরঞ্জামের অনেকটাই এখনও কার্যকর ও অক্ষত রয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় এখনও চূড়ান্ত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। যুদ্ধবিরতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধারের জোরকদম ক্রিয়াকলাপ ইরান চালিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনা মণ্ডিত করছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























