১১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নয় মাসে ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণে চাপ বেড়েছে

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই–মার্চ) বাংলাদেশ সরকার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে মোট ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ফলে বাজেট ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বেড়েছে।

ইআরডি’র তথ্যমতে, আলোচিত সময়ে মূল ধার (principal) হিসেবে ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের পরিশোধ করা হয়েছে। একই সময়ে সুদ হিসেবে আর ১২৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ বাড়েছে প্রায় ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার; গত অর্থবছরের জুলাই–মার্চে এই খাতে মোট ব্যয় ছিল ৩২১ কোটি ২০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি বর্তমানে দ্বিমুখী চাপের মুখে। একদিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন ঋণপ্রাপ্তির গতিও আগের তুলনায় ধীর। বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর নতুন প্রতিশ্রুতি কমার কারণে বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সম্প্রতি নেওয়া বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার ফলে কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় এই ব্যয় বাড়ছে। তাছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সুদের হার বাড়ার কারণে ঋণের ওপরে সুদ পরিশোধও বেড়েছে, ফলে সরকারকে বেশি পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি বাজেটের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠিন করে তুলছে।

ইআরডি সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণ পরিশোধের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তাদের কথায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈদেশিক সহায়তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানো, বাজেট ব্যবস্থাপনায় সজাগতা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পকমিশন জরুরি।

অধিকন্তু, সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রেখে অনুমোদিত ঋণের অর্থ দ্রুত ছাড় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, যাতে প্রকল্পগুলোর তহবিল পেতে বিলম্ব না ঘটে এবং বাজেটের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জোরদার রাজস্ব সংগ্রহ, সাময়িক ব্যয়সমন্বয় ও বিদেশি তহবিলে বৈচিত্র্য আনা হলে এই চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

অবশেষে, ইআরডি’র এই হালনাগাদ প্রতিবেদনের আলোকে নীতিনির্ধারকরা বলছেন—দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সামনের কয়েকটি অর্থবছরে এই চ্যালেঞ্জ তীব্র হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নয় মাসে ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণে চাপ বেড়েছে

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই–মার্চ) বাংলাদেশ সরকার বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে মোট ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ফলে বাজেট ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বেড়েছে।

ইআরডি’র তথ্যমতে, আলোচিত সময়ে মূল ধার (principal) হিসেবে ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের পরিশোধ করা হয়েছে। একই সময়ে সুদ হিসেবে আর ১২৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ বাড়েছে প্রায় ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার; গত অর্থবছরের জুলাই–মার্চে এই খাতে মোট ব্যয় ছিল ৩২১ কোটি ২০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি বর্তমানে দ্বিমুখী চাপের মুখে। একদিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের বোঝা ক্রমশ ভারী হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন ঋণপ্রাপ্তির গতিও আগের তুলনায় ধীর। বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর নতুন প্রতিশ্রুতি কমার কারণে বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সম্প্রতি নেওয়া বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার ফলে কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় এই ব্যয় বাড়ছে। তাছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সুদের হার বাড়ার কারণে ঋণের ওপরে সুদ পরিশোধও বেড়েছে, ফলে সরকারকে বেশি পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি বাজেটের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠিন করে তুলছে।

ইআরডি সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণ পরিশোধের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তাদের কথায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈদেশিক সহায়তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানো, বাজেট ব্যবস্থাপনায় সজাগতা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পকমিশন জরুরি।

অধিকন্তু, সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রেখে অনুমোদিত ঋণের অর্থ দ্রুত ছাড় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, যাতে প্রকল্পগুলোর তহবিল পেতে বিলম্ব না ঘটে এবং বাজেটের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জোরদার রাজস্ব সংগ্রহ, সাময়িক ব্যয়সমন্বয় ও বিদেশি তহবিলে বৈচিত্র্য আনা হলে এই চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

অবশেষে, ইআরডি’র এই হালনাগাদ প্রতিবেদনের আলোকে নীতিনির্ধারকরা বলছেন—দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সামনের কয়েকটি অর্থবছরে এই চ্যালেঞ্জ তীব্র হতে পারে।