০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সরবরাহ সংকটে ময়মনসিংহে সবজির দাম চড়া, কেজি প্রতি ১০–২০ টাকা বৃদ্ধি

ময়মনসিংহে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাবেই সবজির সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে এবং বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। রোববার (৩ মে) সকালে নগরীর প্রধান পাইকারি বাজার মেছুয়া ঘুরে জানা গেছে, পণ্যবাহী যানবাহনের আঘাত কমে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় স্তরেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

সরকারি ও স্থানীয় বাজারদরে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি সাধারণত ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধিই হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি উত্থান লক্ষ্য করা গেছে কাঁকরোলের দামে; বর্তমানে তা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১৫–২০ টাকা বেশি। পটোলের দাম কেজিতে ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা এবং লতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা ও ঝিঙে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা এবং শসা ৭০ টাকায় মিলছে।

বিশেষ করে সজনে ডাঁটার দর এক পর্যায়ে ওঠে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকায়, আর বেগুনের কেজি দাম ছুঁয়ে বসেছে ৮০–৯০ টাকার মধ্যেই। কাঁচামরিচের বাজারেও গত এক সপ্তাহে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে; প্রকারভেদে মরিচের দাম এখন লক্ষ করা যাচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে, যেখানে আগে তা অনেক কম ছিল।

অন্যদিকে গাজর ও পেঁপে এখনও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল; এগুলোর কেজি প্রতি দাম আগের মতো প্রায় ৫০ টাকা র정을ায় রয়েছে। পাইকারিরা বলছেন স্থানীয় উৎপাদনকারী এলাকায় থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি না আসায় জোগানের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি থাকায় দাম বাড়ছে।

আড়তদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত চার-পাঁচ দিনের নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টির কারণে জমি থেকে সবজি তোলা ও বাজারে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে কৃষকরা পণ্য পাঠাতে না পারায় আগের যে দৈনিক সরবরাহ ছিল—প্রায় ২৫ বস্তা—এখন তা মাত্র ২–৩ বস্তায় নেমে এসেছে। সরবরাহের এই সরাসরি পতনই পাইকারি পর্যায়ে মূলত মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বেড়ে গেছে; পাইকারি মূল্যের ওপরে ব্যবসায়ীরা সাধারণত ১০–২০ টাকা যোগ করে রাখছে। এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তাদের পাতে পড়েছে সবচেয়ে বেশি—নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষগুলো প্রতিদিনের বাজার চালাতে কষ্ট পাচ্ছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে এবং সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক না হলে আগামি দিনগুলোতেও সবজির দাম কমার সম্ভাবনা কম। ক্রেতারা এখন বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করছেন, আবার ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার স্বাভাবিককরণ ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর আশা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সরবরাহ সংকটে ময়মনসিংহে সবজির দাম চড়া, কেজি প্রতি ১০–২০ টাকা বৃদ্ধি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

ময়মনসিংহে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাবেই সবজির সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে এবং বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। রোববার (৩ মে) সকালে নগরীর প্রধান পাইকারি বাজার মেছুয়া ঘুরে জানা গেছে, পণ্যবাহী যানবাহনের আঘাত কমে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় স্তরেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

সরকারি ও স্থানীয় বাজারদরে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি সাধারণত ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধিই হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি উত্থান লক্ষ্য করা গেছে কাঁকরোলের দামে; বর্তমানে তা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১৫–২০ টাকা বেশি। পটোলের দাম কেজিতে ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা এবং লতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা ও ঝিঙে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা এবং শসা ৭০ টাকায় মিলছে।

বিশেষ করে সজনে ডাঁটার দর এক পর্যায়ে ওঠে দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকায়, আর বেগুনের কেজি দাম ছুঁয়ে বসেছে ৮০–৯০ টাকার মধ্যেই। কাঁচামরিচের বাজারেও গত এক সপ্তাহে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে; প্রকারভেদে মরিচের দাম এখন লক্ষ করা যাচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে, যেখানে আগে তা অনেক কম ছিল।

অন্যদিকে গাজর ও পেঁপে এখনও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল; এগুলোর কেজি প্রতি দাম আগের মতো প্রায় ৫০ টাকা র정을ায় রয়েছে। পাইকারিরা বলছেন স্থানীয় উৎপাদনকারী এলাকায় থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি না আসায় জোগানের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি থাকায় দাম বাড়ছে।

আড়তদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত চার-পাঁচ দিনের নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টির কারণে জমি থেকে সবজি তোলা ও বাজারে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে কৃষকরা পণ্য পাঠাতে না পারায় আগের যে দৈনিক সরবরাহ ছিল—প্রায় ২৫ বস্তা—এখন তা মাত্র ২–৩ বস্তায় নেমে এসেছে। সরবরাহের এই সরাসরি পতনই পাইকারি পর্যায়ে মূলত মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বেড়ে গেছে; পাইকারি মূল্যের ওপরে ব্যবসায়ীরা সাধারণত ১০–২০ টাকা যোগ করে রাখছে। এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তাদের পাতে পড়েছে সবচেয়ে বেশি—নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষগুলো প্রতিদিনের বাজার চালাতে কষ্ট পাচ্ছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে এবং সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক না হলে আগামি দিনগুলোতেও সবজির দাম কমার সম্ভাবনা কম। ক্রেতারা এখন বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করছেন, আবার ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার স্বাভাবিককরণ ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর আশা প্রকাশ করেছেন।