১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বন্ধ বস্ত্র ও পাট কারখানা পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ ১৬ ডিআইজি ও একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে মনিরা শারমিনের আবেদন: নুসরাত তাবাসসুমের এমপি গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার অনুরোধ মনিরা শারমিনের আবেদন: নুসরাত তাবাসসুমের এমপি গেজেট প্রকাশ না করার অনুরোধ সিসি নোটিশে হাজিরা না করলে সমন বা গ্রেপ্তারি—ডিএমপি ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৫ থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র–সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতি: র‍্যাব দুই গ্রেপ্তার মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রহস্যময় আগুন; ৮৩টি ল্যাপটপ অনুপস্থিত

আসামে বিধানসভা নির্বাচন: বিজেপি নিরঙ্কুশ জয়ের পথে

ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট প্রাথমিক প্রবণতায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে। সোমবার সকাল ৮টায় গণনা শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন কেন্দ্রে ধারাবাহিক লিড ধরে রেখেছে জোটটি। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত রাজ্যের মোট ১২৬ টি আসনের মধ্যে ৯৬টিতেই এগিয়ে আছে বিজেপি ও তার মিত্র দলগুলো। যদি এই ব্যবধান বজায় থাকে, তাহলে এনডিএ রাজ্যে টানা তৃতীয়বার বিরাট জয় নিশ্চিত করবে—যা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধান বিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’ (কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন) বর্তমানে ২৬টি আসনে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) এবং তৃণমূল-আম আদমি পার্টির সমন্বয়ে গঠিত জোট মাত্র ২টি আসনে লিড দিচ্ছে। এছাড়া এক জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও একটি আসনে সাময়িকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। এ নির্বাচন বাংলার প্রচলিত রাজনীতির বাইরে, আশাকরায় বিরোধীরা এখন পর্যন্ত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তুলতে পারেনি—এমনটাই প্রাথমিক গণনা ইঙ্গিত করছে।

এই নির্বাচনে মোট ৭২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যার মধ্যে ২৫৮ জনই ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটগ্রহণ একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৯ এপ্রিল; আসামের মোট জনগণনার হিসেবে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ বসবাস করে এবংরাতে রাজ্যের মোট ভোটার ছিল প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ। মোট জনসংখ্যায় মুসলিম সম্প্রদায়ের অংশ প্রায় ৪০ শতাংশ, ফলে সাধারণত এখানকার নির্বাচনী মানচিত্রে ধর্মীয় ভিউ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। তবে এবার ভোটারদের মধ্যে উন্নয়ন, ইনফ্রাসট্রাকচার ও শক্তিশালী শাসনব্যবস্থার ওপর প্রাধান্য দেখা গেছে।

রাজ্যের ৩৫টি জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিসংখ্যান অনুসারে বিজেপি তাদের অবস্থান আরও শক্ত করতেছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ব্যক্তিগত কৌশল ও নেতৃত্বকে এ ফলত বড় প্রভাবশালী মনে করা হচ্ছে। একসময় কংগ্রেসে ছিলেন হিমন্ত; ২০১৪ সালে দল থেকে সরে এসে ২০১৫ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি আসামের শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছেন—এবং এবারের জয় নিশ্চিত হলে তাঁর ক্ষমতা ও প্রভাব উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে আরও মজবুত হবে।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন ও গণনা স্বচ্ছ রাখতে সারা রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। যদিও প্রাথমিক ফলাফল অসংগত থাকলে বদলও হতে পারে, তবে এই মুহূর্তের বিশাল ব্যবধান ইঙ্গিত দেয় যে আসামে ক্ষমতার পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ধ্যার মধ্যে প্রকাশ পেতে পারে; ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষার পালা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ

আসামে বিধানসভা নির্বাচন: বিজেপি নিরঙ্কুশ জয়ের পথে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট প্রাথমিক প্রবণতায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে। সোমবার সকাল ৮টায় গণনা শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন কেন্দ্রে ধারাবাহিক লিড ধরে রেখেছে জোটটি। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত রাজ্যের মোট ১২৬ টি আসনের মধ্যে ৯৬টিতেই এগিয়ে আছে বিজেপি ও তার মিত্র দলগুলো। যদি এই ব্যবধান বজায় থাকে, তাহলে এনডিএ রাজ্যে টানা তৃতীয়বার বিরাট জয় নিশ্চিত করবে—যা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধান বিরোধী জোট ‘ইনডিয়া’ (কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন) বর্তমানে ২৬টি আসনে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) এবং তৃণমূল-আম আদমি পার্টির সমন্বয়ে গঠিত জোট মাত্র ২টি আসনে লিড দিচ্ছে। এছাড়া এক জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও একটি আসনে সাময়িকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। এ নির্বাচন বাংলার প্রচলিত রাজনীতির বাইরে, আশাকরায় বিরোধীরা এখন পর্যন্ত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তুলতে পারেনি—এমনটাই প্রাথমিক গণনা ইঙ্গিত করছে।

এই নির্বাচনে মোট ৭২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যার মধ্যে ২৫৮ জনই ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটগ্রহণ একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৯ এপ্রিল; আসামের মোট জনগণনার হিসেবে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ বসবাস করে এবংরাতে রাজ্যের মোট ভোটার ছিল প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ। মোট জনসংখ্যায় মুসলিম সম্প্রদায়ের অংশ প্রায় ৪০ শতাংশ, ফলে সাধারণত এখানকার নির্বাচনী মানচিত্রে ধর্মীয় ভিউ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। তবে এবার ভোটারদের মধ্যে উন্নয়ন, ইনফ্রাসট্রাকচার ও শক্তিশালী শাসনব্যবস্থার ওপর প্রাধান্য দেখা গেছে।

রাজ্যের ৩৫টি জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিসংখ্যান অনুসারে বিজেপি তাদের অবস্থান আরও শক্ত করতেছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ব্যক্তিগত কৌশল ও নেতৃত্বকে এ ফলত বড় প্রভাবশালী মনে করা হচ্ছে। একসময় কংগ্রেসে ছিলেন হিমন্ত; ২০১৪ সালে দল থেকে সরে এসে ২০১৫ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং তাঁর নেতৃত্বে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি আসামের শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছেন—এবং এবারের জয় নিশ্চিত হলে তাঁর ক্ষমতা ও প্রভাব উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে আরও মজবুত হবে।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন ও গণনা স্বচ্ছ রাখতে সারা রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। যদিও প্রাথমিক ফলাফল অসংগত থাকলে বদলও হতে পারে, তবে এই মুহূর্তের বিশাল ব্যবধান ইঙ্গিত দেয় যে আসামে ক্ষমতার পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ধ্যার মধ্যে প্রকাশ পেতে পারে; ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষার পালা।