১১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিতে সঞ্চালন ও সেবা ফি কমানোর দাবি

সরকার বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরাসরি বিক্রির পথ সুগম করতে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট’ নীতি চালু করেছে। নীতির মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আলাদা প্রতিষ্ঠান করে নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে সরাসরি শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। মূল লক্ষ্য হলো বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়িয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও প্রসার ত্বরান্বিত করা।

শীর্ষস্থানীয় শিল্পমালিকরা নতুন নীতির সুফল পেতে সঞ্চালন ও অন্যান্য সেবা ফি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের শর্ত পূরণ করতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কারখানাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। বিজিএমইএ সতর্ক করেছেন, যদি সেবার চার্জ অতিরিক্ত বাড়ে বা সরকারি ভর্তুকির বোঝা শিল্পমালিকদের ওপর চাপানো হয়, তবে কারখানা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নীতি ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ অর্জনে সহায়ক হতে পারে। তবে তাঁরা বলছেন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত রাখতে জাতীয় গ্রিড ব্যবহার ও অন্যান্য সেবার চার্জ অবশ্যই যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী রাখতে হবে। অতিরিক্ত খরচ থাকলে নতুন নীতির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সঞ্চালন ফি কম হলে শিল্পে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ দ্রুত বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।

পর্যবেক্ষকদের মতে, নীতি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ১ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যোগ করা সম্ভব হতে পারে। এর ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা আসে, বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর চাপ কমে এবং সরকারের ভর্তুকির বোঝাও হ্রাস পেতে পারে। পাশাপাশি সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ করা হলে বিদ্যুৎ খাতে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।

নতুন নীতির বাস্তব সফলতায় শিল্প ও নীতিনির্ধারকদের মিলিত কার্যক্রম, সাশ্রয়ী সেবা চার্জ নির্ধারণ तथा স্থিতিশীল নীতিগত সহায়তা জরুরি—এমনটাই অভিমত সংশ্লিষ্টদের। দ্রুত ও যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণই আগামী দিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার নিশ্চিত করবে বলে সবাই আশা করছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিতে সঞ্চালন ও সেবা ফি কমানোর দাবি

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সরকার বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরাসরি বিক্রির পথ সুগম করতে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট’ নীতি চালু করেছে। নীতির মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আলাদা প্রতিষ্ঠান করে নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে সরাসরি শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। মূল লক্ষ্য হলো বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়িয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও প্রসার ত্বরান্বিত করা।

শীর্ষস্থানীয় শিল্পমালিকরা নতুন নীতির সুফল পেতে সঞ্চালন ও অন্যান্য সেবা ফি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের শর্ত পূরণ করতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কারখানাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। বিজিএমইএ সতর্ক করেছেন, যদি সেবার চার্জ অতিরিক্ত বাড়ে বা সরকারি ভর্তুকির বোঝা শিল্পমালিকদের ওপর চাপানো হয়, তবে কারখানা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নীতি ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ অর্জনে সহায়ক হতে পারে। তবে তাঁরা বলছেন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত রাখতে জাতীয় গ্রিড ব্যবহার ও অন্যান্য সেবার চার্জ অবশ্যই যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী রাখতে হবে। অতিরিক্ত খরচ থাকলে নতুন নীতির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সঞ্চালন ফি কম হলে শিল্পে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ দ্রুত বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।

পর্যবেক্ষকদের মতে, নীতি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ১ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যোগ করা সম্ভব হতে পারে। এর ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা আসে, বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর চাপ কমে এবং সরকারের ভর্তুকির বোঝাও হ্রাস পেতে পারে। পাশাপাশি সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ করা হলে বিদ্যুৎ খাতে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।

নতুন নীতির বাস্তব সফলতায় শিল্প ও নীতিনির্ধারকদের মিলিত কার্যক্রম, সাশ্রয়ী সেবা চার্জ নির্ধারণ तथा স্থিতিশীল নীতিগত সহায়তা জরুরি—এমনটাই অভিমত সংশ্লিষ্টদের। দ্রুত ও যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণই আগামী দিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার নিশ্চিত করবে বলে সবাই আশা করছেন।